RK NEWZ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হবে এই বৈঠক। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রমাণিকের উপস্থিতিতে বৈঠকে প্রতিটি জেলার কাজের রিপোর্ট কাটাছেঁড়া করবেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে ঢিলেমি নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে ক্ষোভের পারদ চড়ছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। এ বার আর দূর থেকে নজরদারি নয়, ১২৫ দিনের কাজের হালহকিকত সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকালে সল্টলেকের পঞ্চায়েত দফতরের সদর কার্যালয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও)-দের নিয়ে এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রমাণিকের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে প্রতিটি জেলার কাজের রিপোর্ট কাটাছেঁড়া করবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাভিত্তিক প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা, কোন ব্লকে কাজের গতি মন্থর এবং কেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না— প্রতিটি খুঁটিনাটি প্রশ্নের জবাব সরাসরি বিডিওদের থেকেই তলব করা হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, গত সপ্তাহেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ সচিবদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রকাশ্যেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কাজের প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, সরকারি প্রকল্প রূপায়ণে কোনও রকম অনীহা বা ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করা হবে না। এমনকি, সংশ্লিষ্ট কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট বিডিওদের বদলির মতো কড়া পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। গত সপ্তাহের সেই কড়া বার্তার পর পরিস্থিতির কতটা বদল ঘটেছে, তা যাচাই করতে এ বার নিজেই রাশ টানছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পালাবদলের পর কেন্দ্রের ‘ভিবি-জি রাম জি’ আইনের আওতায় গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে দেশ জুড়ে এই নতুন বন্দোবস্ত কার্যকর হলেও, তার সঠিক বাস্তবায়নে গতি আসছে না বলেই নবান্নের অভিমত। প্রশাসনিক মহলের মতে, বুধবারের বৈঠক থেকে কাজের গতি বাড়ানোর কঠোর দাওয়াইয়ের পাশাপাশি গাফিলতিতে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের নির্দেশ আসতে পারে। স্পষ্টতই, গ্রামীণ রোজগারের প্রশ্নে মাঠপর্যায়ের নজরদারিতে আর এতটুকু ছাড় দিতে নারাজ রাজ্য সরকার।
পুজোর পর দীপাবলিতেও চা বাগান শ্রমিকদের জন্য উপহার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর! মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানালেন, ৩৫ কেজির বদলে ৫০ কেজি চাল পাবেন বাগানের শ্রমিকরা। সঙ্গে ৫০০০ টাকা। এবার থেকে যাতে ৫০ কেজি চাল দেওয়া যায় রেশনে, সে সম্পর্কে সরকার ভাবনাচিন্তা করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে রেশনের সুবিধাভোগীরা বাড়তি চাল পাবেন। এছাড়া এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানগুলি খোলা নিয়ে আরও একবার আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে থাকা শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে ডেকে বললেন, ‘‘আপনাকেই বন্ধ সমস্ত চা বাগান খুলতে হবে, সব মুখ্যমন্ত্রী করলে হবে না।” আর শ্রমিকদের উদ্দেশে বললেন, ‘‘জব কার্ড প্রস্তুত রাখুন, দ্রুত কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনায় আওতায় সবাই আনা হবে।” পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুরে শিলিগুড়ি পৌঁছে উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠকে সামগ্রিকভাবে সেখানকার উন্নয়নের কাজকর্মের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। শোনা যায়, এদিন নিজেদের দাবিপূরণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কামতাপুরী ভাষা সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা দীর্ঘদিনের দাবি তাঁদের। তবে এবিষয়ে সরকারি তরফে কোনও আশ্বাস মিলেছে কি না, জানা নেই। উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগান খোলা নিয়ে ফের একপ্রস্ত আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, ‘‘এখানে এখনও অনেক চা বাগান বন্ধ। সেসব দ্রুত খুলতে হবে। আপনারা জব কার্ড রেডি করুন, কাজ শুরু হবে।” এরপর শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘‘আপনাকেই চা বাগানগুলো খুলতে হবে, সব মুখ্যমন্ত্রী করলে হবে না। আমি জানি, সামসিং ও আরও কয়েক চা বাগান খুলে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনায় সব কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে।” উত্তরবঙ্গে বন্ধ চা বাগান একটা বিরাট সমস্যা। তৃণমূল আমলে ধীরে ধীরে রুগ্ন চা বাগান বন্ধ হয়ে যায়, কর্মহীন হন বহু শ্রমিক। তাঁদের জন্য বিনামূল্যে রেশন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, চা সুন্দরী-সহ একাধিক সরকারি সুবিধার ব্যবস্থা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বারবার তাঁর অভিযোগ শোনা গিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের ঠিকমতো দায়িত্ব সামলাতে না পারায় চা বাগানের এই দুর্দশা। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেই সমাধান হওয়ার কথা। সেদিকেই তাকিয়ে চা বাগানের সকলে।





