RK NEWZ কালীপুজোর কমিটিগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশ লালবাজারের। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার নির্দেশ, মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কালীপুজোর কমিটিগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। মণ্ডপে মাইক নিয়ে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে কোনও ঘোষণা করতে হলে, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তা করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের উপস্থিতিতে মাইক নিয়ে ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। একই সঙ্গে কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে খুব তাড়াতাড়ি দর্শনার্থীদের নিরাপদ জায়গায় সরানো হবে, তার জন্য প্রত্যেক কালীপুজোর কমিটিকে আগাম ‘এমার্জেন্সি ইভাকুয়েশন প্ল্যান’ তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। কীভাবে দর্শনার্থীদের তাড়াতাড়ি মণ্ডপ থেকে বের করা হবে, সেই ব্যাপারে পরিকল্পনা করে রাখতে হবে পুজো উদ্যোক্তাদের। প্রয়োজনে সেই পরিকল্পনা পুলিশকেও জানাতে হবে। এই বছর কলকাতায় ৩৪৪২টি কালীপুজো হচ্ছে। ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে কালীপ্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে শহরের কালীপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করে কলকাতা পুলিশ। পুজোয় চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। কালীপুজোয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এদিন পুজো কমিটিগুলিকে বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। পুলিশের নির্দেশ, মণ্ডপে প্রবেশের রাস্তা যতটা চওড়া রাখা হবে, তার তুলনায় বেরনোর পথ দ্বিগুণ প্রশস্ত রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপদে বের হওয়ার জন্য যাতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। চোরবাগানে ভুল ঘোষণা করায় এত বড় বিপর্যয় হয়। তাই পুলিশের সামনেই ঘোষণা করতে হবে। চোরবাগানের বিপর্যয়ে বৃষ্টির কারণেই মণ্ডপে মাথা গুঁজতে চেয়েছিলেন প্রায় হাজার দর্শনার্থী। তাতেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। তাই কালীপুজোয় বৃষ্টি হলেও বিপদ এড়াতে কড়া পুলিশ। পুলিশের নির্দেশ, বৃষ্টি শুরু হলেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দিতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরই ফের অনুমতি দেওয়া হবে মণ্ডপে প্রবেশের। মণ্ডপ থেকে দর্শনার্থীদের তাড়াতাড়ি সরানোর জন্য করে রাখতে হবে আপদকালীন ‘ইভাকুয়েশন প্ল্যান।’ লালবাজারের নির্দেশ, রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি ফাটানো যাবে। লাউডস্পিকার ও সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুমতি থাকছে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় কোনওরকম শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। ডিজে বাজানোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কালীপুজোয় শহরে যাতে কোথাও ভিড় নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তায় কোনওরকম গাফিলতি না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখছে লালবাজার। কোনও বিপর্যয় ঠেকাতে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





