Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল টিএন রবি!‌

RK NEWZ ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ অর্থাৎ খামখেয়াল হিসাবে দেখা যেতে পারে মমতার আচরণ। ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারা (বি) উপধারা অনুসারে ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করল লোক ভবন। রাজ্যপাল টিএন রবির দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ হল সরকারও আর নেই। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন’। তবে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল। আবার তাঁকে নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেননি। ভোটের ফলঘোষণার পরের দিন, মঙ্গলবার মমতা বলেছিলেন, ‘‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?’’ তিনি লোকভবনে গিয়ে সরকারি ভাবে ইস্তফা দেননি। বরং বলেছিলেন, ‘‘ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক!’’ রাজ্যপাল অবশ্য ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতাকে বরখাস্ত করেননি। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তা হলে এখন রাজ্যের ভার কার হাতে? অর্থাৎ, শনিবার শপথের আগে বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার রাজ্যের শাসনভার কার হাতে থাকছে? কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েও যে রীতি এবং রেওয়াজ মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা না-দিতে পারেন, তেমন ‘অভিনব’ পরিস্থিতির কথা সংবিধান প্রণেতাদের মাথায় আসেনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিকে একটা ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ (খামখেয়াল) হিসাবে দেখা যেতে পারে। কারণ, প্রথমত, রাজ‍্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল মানে মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব রইল না। কিন্তু সেই মুহূর্তেই নতুন একটি মন্ত্রিসভাকে আত্মপ্রকাশ করতে হবে, এমন কোথাও লেখা নেই। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের শাসনকাজ চলে রাজ্যপালের নামে। মন্ত্রিপরিষদ একটি ‘ডেলিগেটেড পাওয়ার এনজয়’ (প্রদত্ত ক্ষমতা ভোগ) করে রাজ্যপালের হয়ে কাজ চালায়। নিয়মতান্ত্রিক ব‍্যবস্থা অন্তত এ রকমই। এই মুহূর্তে যে হেতু পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা বা মন্ত্রিসভা রইল না, তাই বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজ‍্যপালের ক্ষমতা ব‍্যবহার করার জন‍্য কোনও ‘ডেলিগেশন’ বা প্রতিনিধি রইল না। সে ক্ষেত্রে রাজ‍্যপাল আপাতত সরাসরিই নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। অর্থাৎ, রাজ্যের ভার থাকবে তাঁর হাতেই। অনেকের মতে, চাইলে রাজ্যপাল দেড়দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে পারতেন। কিন্তু রাজ্যপাল তেমন মনে না করলে তিনি তা না-ও করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রাজ্যপাল রবি তা করছেন না বলেই খবর। অন্তত সেই মর্মে লোকভবন থেকে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। লোক ভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারা (বি) উপধারা অনুসারে ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছেন। সংবিধানের ধারা মেনে সেই নির্দেশ বলবৎও করা হয়েছে। তার অর্থ, মমতার নেতৃত্বাধীন সপ্তদশ বিধানসভার আর অস্তিত্ব নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় বিদায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। কিন্তু তার পর সরকারের দায়িত্বে কে থাকবেন, তা লোকভবনের তরফে জানানো হয়নি। তবে শুক্রবার রাজ‍্যপাল বিজেপি-কে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারেন বলে লোকভবন সূত্রে খবর। বিজেপির তরফে বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল শনিবার বিজেপির নতুন সরকারকে শপথগ্রহণ করাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles