RK NEWZ রাজ্যের পুরসভা এলাকা এবং শিল্পাঞ্চলগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধি করছে সরকার। রাজ্যে সাতটি পুরনিগম, ১২১টি পুরসভা এবং তিন শিল্পাঞ্চলকে এ বার মুড়ে ফেলা হবে সিসি ক্যামেরায়। এই সিসি ক্যামেরাগুলিতে কেন্দ্রীয় ভাবে নজরদারি চলবে পুর দফতর থেকে। বুধবার বিধানসভায় এমনটাই জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানান অগ্নিমিত্রা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাজ্যে কোন পুরসভা এলাকায় কেমন কাজ চলছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। বস্তুত, রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হলেও পুরসভা এবং পুরনিগমগুলি এখনও রয়েছে তৃণমূলের হাতে। পুরসভাগুলি এখনও নিয়ন্ত্রণ করছে তৃণমূলই। অনেকে মনে করছেন, এ অবস্থায় তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলিতে কেমন কাজকর্ম চলছে, তার উপর নজরদারি চালাতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পুর এলাকার বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি পুরসভার দফতরগুলিতেও এই নজরদারি চলবে। সেখানেও বসবে সিসি ক্যামেরা এবং গোটা বিষয়টির উপর পুর দফতর কেন্দ্রীয় ভাবে নজরদারি চালাবে। কখন কে অফিসে ঢুকছেন, কখন কে বেরোচ্ছেন সেই সময়ানুবর্তিতার উপরে নজর রাখা হবে বলে জানা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে সব হলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তারও পরে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ বাকি পুরসভা এবং পুরনিগমগুলিতে নির্বাচন হতে পারে। ওই নির্বাচনে কী ফল হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পরে কতগুলি পুরসভা তৃণমূল ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে জনমানসেও। এ অবস্থায় রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় কাজকর্মের উপর এখন থেকেই নজরদারি বৃদ্ধি করতে তৎপর হল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়ী বিজেপি। তৃণমূল জয়ী ৮০টি আসনে। রাজ্যের বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২৯৪ হলেও ফলতায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। সে কারণে ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস দু’টি, সিপিএম একটি, আইএসএফ একটি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে।
বার্ধক্য ভাতা বাড়ছে! ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করে দিচ্ছে নতুন সরকার, একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ভাতাও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা আগে থেকেই চালু ছিল। আগের সরকারের আমলে ষাটোর্ধ্বরা ভাতা হিসাবে মাসে ১০০০ টাকা করে পেতেন। ক্ষমতায় এসে নতুন সরকার তা বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দফতর সূত্রে খবর, বার্ধক্য ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে রাজ্যে প্রতিবন্ধী ভাতাও বৃদ্ধি পাবে। তবে কবে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শীঘ্রই সরকারের তরফে তা ঘোষণা করা হতে পারে। রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা আগে থেকেই চালু ছিল। পূর্বতন সরকারের আমলে মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের অধীনে মাসে এক হাজার টাকা করে পেতেন। ভোটের আগে অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয় ১৫০০ টাকা। তফসিলি জাতি-জনজাতির মহিলাদের ক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭০০ টাকা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধা পাবেন। যাঁদের ৬০ বছর পেরিয়ে যাবে, তাঁরা বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে আসবেন। ওই একই পরিমাণ টাকা বার্ধক্য ভাতা হিসাবে পাবেন। ভোটের মুখে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর অর্থবৃদ্ধি করা হলেও বার্ধক্য ভাতার কথা উল্লেখ করা হয়নি আলাদা করে। ওই বর্ধিত অর্থ ষাটোর্ধ্ব মহিলারা পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এমনকি, বিজেপির তরফে রাজ্য সরকারের কাছে সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল। সদুত্তর মেলেনি। বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তারা ভোটের আগেই ঘোষণা করেছিল ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর কথা। ওই প্রকল্পের অধীনে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, চালু থাকা কোনও সরকারি প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে না। তবে মৃত বা অভারতীয়েরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তা যাচাই করে দেখা হবে। ১ জুন থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর টাকা রাজ্যবাসী পেয়ে যাবেন বলে জানায় বিজেপি সরকার। এ বার বার্ধক্য ভাতা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও দূর করা হচ্ছে। রাজ্যের নারী, শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দফতরই বার্ধক্য এবং প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দুই ক্ষেত্রেই আগে মাসে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হত। এ বার তা বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।




