Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দুর্নীতির ক্ষেত্রেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি!‌ নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

RK NEWZ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি বাঁচানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে স্বাগত।’ ধানমন্ত্রীর দেখানো পথে এ বার নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জ্বালানির সাশ্রয়ে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে ফেলেছেন। বুধবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁর কনভয়ও ছোট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি বাঁচানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে স্বাগত। তিনি স্বচ্ছ ভারত থেকে সবকা সাথ সবকা বিকাশ অবধি ভেবেছেন। তিনি যা পদক্ষেপ করেছেন, তা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। তাই আমিও ডিজিপিকে জানিয়েছি আমার কনভয়ের বিষয়ে। সেই মতো আপনারা দেখতেও পাচ্ছেন। ন্যূনতম যা দরকার, তা রেখে বাকি গাড়ি কনভয় থেকে তুলে নিতে বলেছি।’ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নিজের কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দেখানো পথেই হেঁটেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এ বার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই সিদ্ধান্তই নিলেন।

নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুর্নীতিতে তাঁর সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারপর্বেও বিজেপি সেই আশ্বাসই দিয়ে এসেছিল। ক্ষমতায় আসার পর তা কার্যক্ষেত্রে করে দেখানোর পালা। রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে চার্জশিট দিতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। অভিযোগ, পূর্বতন সরকার সেই অনুমোদন দীর্ঘ দিন আটকে রেখেছিল। বুধবার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সেই ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সিবিআই-এর চারটি মামলা গত চার বছর ধরে রাজ্য সরকার আটকে রেখেছিল। যে সমস্ত আধিকারিকেরা দুর্নীতিগ্রস্ত, সিবিআই বা আদালত নিযুক্ত যে কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বা তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার জন্য আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও আধিকারিকদের বাঁচানোর জন্য পূর্বতন সরকার এই অনুমতি আটকে রেখেছিল। তিনটি দফতরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন আমরা সিবিআই-কে দিয়ে দিলাম। ছাড়়পত্রের কপি সিবিআই পেয়ে গিয়েছে।’’ কোন কোন দুর্নীতির ক্ষেত্রে সিবিআই-কে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে? শুভেন্দু জানান, শিক্ষা দফতরের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় দফতরের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে যে সমস্ত তদন্ত হচ্ছে, তাতে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আমাদের এই সরকার অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে এসেছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমরা ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছি। প্রচারের সময়ও বার বার তা বলেছিলাম। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা আমাদের দলের ইস্তাহারেও ছিল। আগামী দিনে সে বিষয়ে আরও পদক্ষেপ দেখতে পাবেন রাজ্যের মানুষ। কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি।’’

রাজ্যে বিনা অনুমোদনে চলা সমস্ত টোল গেট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অনুমোদনহীন ওই টোল গেটগুলিতে আর টাকা তোলা যাবে না। এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। প্রত্যেক জেলাশাসককে সেই মতো পদক্ষেপ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবালের দফতর মঙ্গলবার একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যের সর্বত্র যে টোল গেট, ড্রপ গেট, ব্যারিকেড এবং টাকা তোলার পয়েন্টগুলি বিনা অনুমোদনে চলে আসছে, সেগুলিকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেক জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন নিজ নিজ জেলায় এই ধরনের অনুমোদনহীন টোল গেট চিহ্নিত করে তা দ্রুত বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেন। একই সঙ্গে এগুলি যাতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া নতুন করে চালু না-হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়ে যাচ্ছে বলে জানান মুখ্যসচিব। মনোজকুমার ওই নির্দেশিকায় আরও লিখেছেন, এই ধরনের অনুমোদনহীন টোল গেট থেকে আর কোনও টাকা তোলা যাবে না। কোথায় কোথায় অনুমোদিত টোল গেট রয়েছে, তার একটি তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই টোল গেটগুলি থেকে টাকা কোন কর্তৃপক্ষের কাছে যায়, তা-ও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে তালিকায়। আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে অনুমোদিত টোল গেটগুলির তালিকাও জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার রাজ্যে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। তার পরে গত সোমবার নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। নবান্নে ওই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন এবং সুরক্ষার পথে। একই সঙ্গে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলাতেও সেই পথেই এগোবে বলে জানান তিনি। এর পরে মঙ্গলবারই মুখ্যসচিবের দফতর থেকে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, অনুমোদনহীন সকল টোল গেট অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে। অন্নপূর্ণা ভান্ডারের পর বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্যে যে সকল বাকি ভাতা চালু ছিল সেই ভাতার কয়েকটিকে দ্বিগুণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোন-কোন ভাতা বাড়ানো হল? জানা যাচ্ছে, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়াল বিজেপি সরকার। আগে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হত। এবার থেকে দু’হাজার টাকা হতে চলেছে এই ভাতাগুলি। জুনের প্রথম থেকেই মিলবে ভাতাগুলি এখনও পর্যন্ত তেমনটাই জানা যাচ্ছে। প্রচারের সময় কিংবা নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহারে আগেই ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকী, নির্বাচনী প্রচারে গিয়েও এই নিয়ে বক্তৃতা করেছিলেন। সেই সময়ই বিজেপির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছিলেন, যে ভাতা পূর্বতন সরকার দেয় সেই টাকা সংসার চালানোর জন্য উপযুক্ত নয়। সেই কারণে, বিজেপি সরকার এলে এই ভাতা বাড়ানো হবে। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার রাখতে চলেছে বিজেপি সরকার। আজ ঘোষণা করা হয়েছে, বিধবা-বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতা দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। আগে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন দু’হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হবে। মহিলা ভোট ছিল তৃণমূলের অন্যতম ভোটের ব্যাঙ্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বিষয়টি বুঝে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চালু করেছিলেন। ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই ভাতা ১৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছয়। এরপর বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা ক্ষমতায় এলে ৩০০০ করে ভাতা দেওয়া হবে মহিলাদের। সেই মতো ক্ষমতায় এসেই জানানো হয় যে জুন থেকে এই প্রকল্প চালু হচ্ছে। তবে, বাকি যে ভাতা পূর্বতন সরকার (তৃণমূল) দিত, সেই সকল ভাতার কি বাড়ানো হবে না? এই সকল প্রশ্নের মধ্যেই বড় ঘোষণা করল বাংলার বিজেপি সরকার। শারীরিক ভাবে যাঁরা অক্ষম, প্রবীণ নাগরিক এবং স্বামী হারা মহিলারা যাঁদের সত্যিই এই ভাতা প্রয়োজন এবার তাঁদের জন্যও কল্পতরু বাংলার গেরুয়া সরকার। দ্বিগুণ করে দেওয়া হল সেই ভাতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles