Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিধানসভায় বাঙালিয়ানা!‌ মাছ-ভাতের আয়োজন!‌ সিঁড়িতে মাথা ছুঁইয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, পুজো দিলেন নিজের ঘরে!‌

RK NEWZ সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে বিধানসভায় ঢুকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তাঁকে স্বাগত জানান প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। প্রথামাফিক মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভা চত্বরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু। তার পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ঘরে যান তিনি। সেখানে পুজো দেন। সমাজমাধ্যমে এই পুজোর ভিডিয়ো পোস্ট করেন শুভেন্দু। ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে ঘণ্টা বাজিয়ে পুজো করছেন শুভেন্দু। পাশে পুরোহিতও রয়েছেন। শঙ্খ বাজছে। মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষ থেকে অধিবেশন কক্ষে চলে যান শুভেন্দু। প্রথম বিধায়ক হিসাবে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। অর্থাৎ, নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি ছেড়ে দিতে চলেছেন। শপথগ্রহণের একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর পর শপথ নেন রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরা। একে একে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকেরা। তার পর অন্য বিধায়কদের শপথগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন বিধায়ক শপথ নেবেন। এই পর্বে মূলত উত্তরবঙ্গ এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বিধায়কদের শপথগ্রহণ চলছে। শপথ নিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি মুর্শিদাবাদ নওদা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসাবে শপথ নিয়েছেন। অর্থাৎ, রেজিনগর কেন্দ্রটি ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি।

দ্বিতীয় পর্বে শপথগ্রহণ শুরু হবে দুপুর ২টোয়। চলবে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। এই পর্বে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়কেরা শপথ নেবেন। পর বৃহস্পতিবারও জয়ী বিধায়কদের শপথগ্রহণ চলবে বিধানসভায়। প্রত্যেককেই শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রোটেম স্পিকার। সাধারণত রাজ্য বিধানসভার প্রবীণ সদস্যকে প্রোটেম স্পিকার হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। স্থায়ী স্পিকার নির্বাচিত না-হওয়া পর্যন্ত তিনিই দায়িত্বভার সামলান। মঙ্গলবার প্রোটেম স্পিকার হিসাবে বিজেপি বিধায়ক তাপসকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরএন রবি। ১৫ মে (শুক্রবার) বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, তাপসকেই বিধানসভার অধ্যক্ষ পদের জন্য মনোনীত করা হতে পারে। প্রোটেম স্পিকারের শপথগ্রহণে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণে হাজির ছিলেন। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে যান লোক ভবনে। ছিলেন রাজ্যের কয়েক জন মন্ত্রী এবং হবু বিধায়কও। শপথ নেওয়ার পর বেরিয়ে তাপস জানিয়েছিলেন, বুধ এবং বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণ হবে।

বিধানসভার আগেও মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছিল সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে। ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হতেই সেখানে মাছ-ভাত খাওয়ানো হয়। বিধানসভাতেও বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। শপথ নিতে যাওয়া বিজেপি বিধায়কদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে রাখা হয়েছে মাছ-ভাত। আর এই ভরপুর বাঙালিয়ানা উদ্‌যাপনের উদ্যোক্তা প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। বিধায়কদের মধ্যাহ্নভোজে মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছে, এ কথা বলার সময় মুচকি হাসেন তাপস। বিধানসভার আগেও মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছিল সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে। ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হতেই সেখানে মাছ-ভাত খাওয়ানো হয়। বার বার মেনুতে মাছ রেখে বিজেপি এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, তারা মাছ, মাংসের বিরোধী নয়। যে অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল বার বার সরব হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ভোটের প্রচারেও বার বার এই কথাই বলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তা হলে বাঙালির অস্মিতা ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজ্যে মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তৃণমূলের সেই দাবি যে একেবারেই মিথ্যা, তা প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিজেপিও। ভোটের সময় তাই বিজেপি প্রার্থীদের অনেককেই মাছ নিয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। আর তার মাধ্যমেই বার্তা দেওয়া হয় যে, বিজেপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা মোটেই ঠিক নয়। বিজেপি বাঙালিবিরোধী নয়। বাংলার সংস্কৃতিবিরোধী নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ভোটের প্রচারে এসে মাছের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে পূর্বতন শাসকদল যে মাছবিরোধী তকমা জুড়ে দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পরে সেই মাছ-ভাতের আয়োজন করেই বিজেপি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে, তারা কখনওই মাছ-ভাতের বিরোধী নয়। তাই ভোটে জেতার পরে দেখা গিয়েছে সল্টলেকে দলের রাজ্য দফতরে মাছ-ভাতের আয়োজন হয়েছে। এ বার সেই মাছ-ভাত এবং বাঙালিয়ানা পৌঁছে গেল বিধানসভাতেও। তাঁদের শাসনকালেও বাঙালি যে মাছে-ভাতেই থাকবে, মুচকি হেসে কি তেমনই ইঙ্গিত দিতে চাইলেন প্রোটেম স্পিকার তাপস!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles