আমার বয়স এখন ৩৭….। বিরাট জয়ের পরে বড় মন্তব্য কোহলির। বিরাট কোহলি রেকর্ডের পিছনে ছুটছেন নাকি রেকর্ড এখন ছুটছে বিরাট কোহলির পিছনে? রাঁচিতে বিরাট কোহলি আরও একটি রেকর্ড গড়লেন। ছাপিয়ে গেলেন শচীন তেণ্ডুলকরকেও। একটা ফরম্যাটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন কোহলিই। একশো সেঞ্চুরির মালিক শচীনের ওয়ানডেতে শতরানের সংখ্যা ৪৯। টেস্টে ৫১টি। কোহলির শতরানের সংখ্যা ৮৩টি। টেস্টে ৩০টির পাশাপাশি ওয়ানডে-তে ৫২টি সেঞ্চুরি তাঁর। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে করেন একটি সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে কোহলি সেঞ্চুরি করায় ওয়ানডে ফরম্যাটে তাঁর শতরানের সংখ্যা হল ৫২। যে কোনও ফরম্যাটে এটিই সর্বোচ্চ। কেরিয়ারের এই পড়ন্ত বেলাতেও কোহলি দেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার এই বোলারদের সামলাতেই ইডেন-গুয়াহাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার জোগাড়। আর ভারতীয় ক্রিকেটের দুই ‘বুড়ো ঘোড়া’ দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিলেন প্রোটিয়া ব্রিগেডের কাছে। রোহিত শর্মা ৫৭ রান করে থেমে গেলেন। বিরাট কোহলি থামলেন না। তিনি সেঞ্চুরি করলেন, দেশের শ্বাসপ্রশাস জুড়ে আজ কেবলই বিরাট কোহলি। ৮৩ নম্বর সেঞ্চুরি হয়ে গেল তাঁর। এরপরও কি গম্ভীর ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভাববেন না কোহলির নাম? কোহলির গাণ্ডীব এখনও ত্রাস সৃষ্টিকারী বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। স্টেপ আউট করে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। পরপর উইকেট পরার সময়ে তিনি একদিক ধরে রেখেছিলেন। অনুজ ক্রিকেটারকে পরামর্শ দিয়েছেন। আবার তাঁর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট দেখে কে বলবে তিনি এখন ৩৭। বিরাট কোহলি এক লড়াইয়েরও নাম। হাল ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দুটো ওয়ানডেতে খাতা খোলেননি তিনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। তার একমাস বাদে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করে গেলেন। রাঁচিতে তৃতীয় শতরান। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ। শেষ পর্যন্ত কোহলি থামলেন ১৩৫ রানে। ১১টি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। একসময়ে মনে হয়েছিল ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন তেণ্ডুলকরের অবিশ্বাস্য রেকর্ড কেবল ভাঙতে পারবেন তিনিই। তবে সেই কক্ষপথ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছেন কোহলি। তবুও তো তিনি পিছনে ফেলে দিলেন মাস্টার ব্লাস্টারকে। এক ফরম্যাটে কোহলি এখন সর্বোচ্চ শতরানের মালিক।
সঞ্চালক হর্ষ ভোগলে প্রশ্ন করেন, “এখন তো তুমি একটাই ফরম্যাটে খেলছে। এ ভাবেই কি তোমায় দেখা যাবে?” কোহলি বলেন, “আগামী দিনে এ ভাবেই আমাকে দেখা যাবে। আমি ক্রিকেটের একটা ফরম্যাটেই খেলছি।” আমার বয়স এখন ৩৭। রিকভারির জন্য সময় দরকার। ম্যাচ জিতে উঠে বলে দিলেন বিরাট কোহলি। তাঁকে এবং রোহিত শর্মাকে নিয়ে চলছে জল্পনা। শোনা যাচ্ছিল, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড নাকি টেস্টে তাঁদের ফেরানোর জন্য চিন্তাভাবনা করছে। বিরাট জানিয়ে দিলেন, তিনি এখন একটা ফরম্যাটেই খেলছেন। তাঁর পুরো প্রস্তুতিটাই মানসিক। শারীরিক দিক থেকে তিনি যতক্ষণ তৈরি এবং মানসিক তীক্ষ্ণতা রয়েছে, ততক্ষণ সব ঠিক আছে। কোহলি বলেন, “আমি কখনও মাঠের প্রস্তুতিতে বিশ্বাস করি না। আমার কাছে মানসিক প্রস্তুতিটাই আসল। আমি কঠোর পরিশ্রম করি। যত ক্ষণ আমার শরীর ঠিকঠাক আছে এবং মানসিক তীক্ষ্ণতা রয়েছে, তত ক্ষণ জানি আমি ঠিক আছি। ম্যাচের আগে এক দিনের বিশ্রামও নিয়েছি। এখন আমার ৩৭ বছর বয়স। রিকভারির জন্যও সময় দরকার। এ ভাবেই এত দিন খেলে এসেছি। এখন তো শুধু একটা ফরম্যাটেই খেলি। আমি যে কোনও ম্যাচকেই মনে মনে কল্পনা করে নিই। সেখানে নিজেকে প্রচণ্ড পরিশ্রম করাই। তীক্ষ্ণ রাখার চেষ্টা করি। আমি জানি বিশ্রাম নেওয়ার সময় আমার রয়েছে। আমি ৩০০টা এক দিনের ম্যাচ খেলেছি। যদি আপনি খেলাটার সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত থাকেন, অনুশীলনে ভাল শট মারতে পারেন এবং এক ঘণ্টা বা দু’ঘণ্টা ব্যাট করতে পারেন, তা হলে জানবেন আপনি ঠিক জায়গাতেই আছেন। খারাপ ফর্মে থাকলে আপনি আরও সময় নেটে কাটানোর চেষ্টা করবেন। এ ছাড়া মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকা এবং খেলাটাকে উপভোগ করাই আমার কাছে আসল। এ ধরনের ম্যাচ খেলতে সব সময়েই ভাল লাগে। আজ প্রথম ২০-২৫ ওভারে ভাল শট খেলতে পেরেছি। তার পর পিচ ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে গিয়েছিল। সব সময়েই নিজের খেলাটা উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। শুরুটা ভাল হলে এবং পরিস্থিতি বুঝে নিতে পারলে বাকি কাজটা সহজ হয়ে যায়। তখনই অভিজ্ঞতা কাজে লাগে।” বিরাট কোহলিকে দেখলে কে বলবে, অস্ট্রেলিয়ায় খেলার এক মাস বাদে তিনি আবার খেলতে নেমেছেন। টুথ পিকের মতো ব্যাট নড়াচড়া করছিলেন। দেহের ভারসাম্য দুর্দান্ত। ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি করলেন। যশস্বী জয়সওয়াল শুরুতেই ফিরে যাওয়ার পরে রোহিত শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৬ রান জুড়লেন। আপার কাটে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিয়নের শচীন তেণ্ডুলকরকে ফেরালেন। রোহিত শর্মার সঙ্গে সেই পুরো জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংকে অত্যন্ত সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন। কেরিয়ারের এই পড়ন্ত বেলাতেও তিনি দেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার এই বোলারদের সামলাতেই ইডেন-গুয়াহাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার জোগাড়। আর ভারতীয় ক্রিকেটের দুই ‘বুড়ো ঘোড়া’ দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিলেন প্রোটিয়া ব্রিগেডের কাছে। রোহিত শর্মা ৫৭ রান করে থেমে গেলেন। বিরাট কোহলি থামলেন না। তিনি সেঞ্চুরি করলেন, দেশের শ্বাসপ্রশাস জুড়ে আজ কেবলই বিরাট কোহলি। ৮৩ নম্বর সেঞ্চুরি হয়ে গেল তাঁর। এরপরও কি গম্ভীর ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভাববেন না কোহলির নাম? কোহলির গাণ্ডীব এখনও ত্রাস সৃষ্টিকারী বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। স্টেপ আউট করে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। পরপর উইকেট পরার সময়ে তিনি একদিক ধরে রেখেছিলেন। অনুজ ক্রিকেটারকে পরামর্শ দিয়েছেন। আবার তাঁর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট দেখে কে বলবে তিনি এখন ৩৭। বিরাট কোহলি এক লড়াইয়েরও নাম। হাল ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দুটো ওয়ানডেতে খাতা খোলেননি তিনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। তার একমাস বাদে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করে গেলেন। রাঁচিতে তৃতীয় শতরান। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ। শেষ পর্যন্ত কোহলি থামলেন ১৩৫ রানে। ১১টি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। বিরাট সেঞ্চুরি করায় এবং রোহিত শর্মা অর্ধশতরান করায় এবং শেষের দিকে লোকেশ রাহুল গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দেওয়ার ফলে ভারত রানের পাহাড় গড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকাও মরণ কামড় দিয়েছিল। শেষ হাসি তোলা ছিল ভারতের জন্য।




