RK NEWZ হাওড়া শহর দাগী সমাজবিরোধীদের আখড়া। একের পর এক সমাজবিরোধী উঠে আসে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনৈতিক রং পরিবর্তন করে দাগী ‘তোলাবাজ’ এর ভুমিকা গ্রহন করে বলে অভিযোগ। একইভাবে হাওড়ার দাসনগর বালিটিকুরী অঞ্চলের অধিবাসীদের অভিযোগ এলাকার সমাজবিরোধী বলে পরিচিত বিপ্লব দে। সম্প্রতি অভিযুক্ত বিপ্লব গ্রেফতার না হওয়ায় থানা ঘেরাও কর্মসূচি হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এতদিন তিতিবিরক্ত ছিল এই বিপ্লবের দলবলের উপর। এমনকি, সম্প্রতি রাজ্যের এক মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি সাঁটিয়ে মানুষকে ধমকানোর অভিযোগ রয়েছে একদা তৃণমূলি তোলাবাজ বিপ্লবের নামে। মাস কয়েক আগে বালিটিকুরী এলাকার আরও এক সমাজবিরোধী সাগর সিং এর সঙ্গেও জমি সংক্রাম্ত বিষয়ে ভয়ঙ্কর ঝামেলা হয়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে। এই সাগর সিং একসময়ে দাসনগর এলাকায় হনুমান মন্দিরের পিছনে বিপুল চোলাই মদের ব্যবসা করত বলে জানা যায়। বর্তমানে জমি মাফিয়া বলেও অভিযোগ রয়েছে সাগর সিংএর বিরুদ্ধে। সাধারন মানুষকে ধমকে ভয় দেখিয়ে জমি দখল করাই কাজ,দাগী সমাজবিরোধী বলে পরিচিত সাগর সিং এর নামে অভিযোগ। একজন চোলাই মদ বিক্রেতার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস পেতে চায় এলাকাবাসী বলেও শোনা যায়। এই সাগর সিং এর সম্পর্কে খোঁজ নিলে পারিবারিক সূত্রে আরও এক বড় অপরাধীর নাম উঠে আসবে বলেও অভিযোগ করেন ভয়ে তঠস্থ এলাকাবাসীর। এভাবেই দাসনগর বালিটিকুরী কোনা বিরাডিঙি চকপাড়া ইত্যাদি এলাকা জুড়ে ত্রাস এই সাগর বিপ্লব নামের তোলাবাজ জমিমাফিয়ারা বলে স্থানিয়দের অভিযোগ। অথচ পুলিশ নির্বিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশকে টাকা দিয়ে হাতে রেখেছে এই সমাজবিরোধীরা বলে শোনা যায়, খোদ সমাজবিরোধীদের মুখেই। পুলিশের বিরুদ্ধে যখন নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে?
বারুইপুরের ঘটনার পর কড়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ধর্ষক-খুনি, তাণ্ডবকারীদের কড়া শাস্তি, নজরে পুলিশের ভূমিকাও! গণপিটুনিতে হত ব্যক্তি নির্দোষ, বারুইপুরে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবার থেকে স্থানীয়দের একটা বড় অংশ— সকলেরই অভিযোগ, পুলিশ সঠিক সময়ে পদক্ষেপ করেনি। কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করার পরেও সক্রিয় হয়নি। এই অভিযোগেই রবিবার কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পরে উত্তপ্ত হয়েছিল বারুইপুর। এই আবহে মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনের যদি কোনও শিথিলতা থাকে, তা হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেই নিয়ে রাজ্যের ডিজির থেকেও রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, তাণ্ডবকারীদেরও রেয়াত করা হবে না। বারুইপুরে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হওয়ার পরে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন মনে করে পিটিয়ে খুন করা হয়। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন, ওই যুবক নির্দোষ। তাঁর হত্যায় যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদেরও রেয়াত করা হবে না। নির্যাতিতার পরিবারের পাশাপাশি নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছেন শুভেন্দু। শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের কিশোরী। রবিবার সকালে এক পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। প্রভাস মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে সেই দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিক্ষোভকারীদের একটা বড় অংশ পুলিশের দিকে আঙুল তোলে। সড়ক, রেল অবরোধ শুরু হয়। নির্যাতিতার দেহ সামনে রেখে চলে প্রতিবাদ। পুলিশকে মাইকিং করে থামাতে হয় বিক্ষোভ। তার পরে উদ্ধার করা হয় নির্যাতিতার দেহ। নিহত কিশোরীর পরিবারও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে। তাদের অভিযোগ, খবর পাওয়ার পরেও দেরিতে পৌঁছেছে পুলিশ। নিখোঁজ ডায়েরি হওয়ার পরেও কিশোরীকে খোঁজার বিষয়ে তেমন গা করেনি পুলিশ, এমন অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, বারুইপুর পূর্ব এবং বারুইপুর পশ্চিম, দুই বিধানসভার বিস্তৃত অংশ বারুইপুর থানার অধীনে। সে কারণে পুলিশের পদক্ষেপ করতে সময় লাগে। পুলিশের বিরুদ্ধে যখন নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে, সেই আবহে মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে পুলিশ সুপারের (এসপি) অফিসে আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন শুভেন্দু। তার পরেই বলেন, ‘‘আমাদের লোকের যদি ওই সময়ের মধ্যে এক শতাংশও শিথিলতা থাকে, তবে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’’ এসপি-র অফিসে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তও। কী কী ঘটেছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ডিজি সিদ্ধনাথকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেন সিদ্ধনাথও। তিনি জানান, এই ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুলিশের ভূমিকাও আতশকাচের নীচে রয়েছে, তা-ও জানান ডিজি।
বারুইপুরে এসপি-র দফতরেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু। শুধু তারা নয়, কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, ওই যুবক আসলে নির্দোষ। তাঁর হত্যায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের রেয়াত করা হবে না। গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করে কথা বলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই যুবক নির্দোষ ছিলেন। তাঁর কথায়, শুভেন্দু বলেন, ‘‘পুলিশের থেকে যা জেনেছি ওই যুবক নির্দোষ ছিলেন। নির্দোষকে যারা পিটিয়ে মেরেছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।’’ তিনি জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ পরে বারুইপুরে আবার যাবেন। গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের পাশাপাশি নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলবেন। তাঁর কথায়, ‘‘এক সপ্তাহ পর আমি আবার আসব। নির্যাতিতা এবং গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করব। এই ঘটনায় সরকারের থেকে কী সাহায্য আশা করছে বা ক্ষতিপূরণের বিষয় আমরা ওই দুই পরিবারের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারা আমাকে কিছু কিছু বিষয় জানিয়েছে।’’ রবিবার সকালে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পরে উত্তপ্ত হয় বারুইপুর। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভিডিয়ো দেখে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।’’ একই সঙ্গে এই ঘটনায় যাঁরা উস্কানি দিয়েছেন, তাঁদেরও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর মতে, ভাঙচুর চালিয়ে যে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। নাম না-করে তৃণমূল এবং সিপিএম-কে নিশানা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।’’ বারুইপুর থেকে তিনি হাসপাতালে আহত তিন পুলিশকর্মীকে দেখতে যান। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু জানান, বুধবার আহত এক পুলিশকর্মীর অস্ত্রোপচার হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমি বলে এসেছি, সরকার পাশে আছে। কোনও গুন্ডাকে ছাড়া হবে না।’’
মঙ্গলবার বারুইপুরে যান সিদ্ধনাথ। তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার পরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। বারুইপুরে রেললাইনের ধারে যে পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই জায়গা ঘুরে দেখেন। কী ঘটেছিল, কী ভাবে তদন্ত হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী কী তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখেন সিদ্ধনাথ। কথা বলেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। মঙ্গলবার আনন্দকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনই বিশদ কোনও মন্তব্য করতে চাননি সিদ্ধনাথ। তিনি বলেন, ‘‘তিন জন গ্রেফতার হয়েছে। তদন্ত যে ভাবে এগোবে আমরা সে ভাবে জানাব।’’ তদন্তের স্বার্থে এর থেকে বেশি কিছু বলতে চাননি ডিজি। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবার এবং স্থানীয়দের অসন্তোষের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। সেই প্রশ্নের উত্তরে সিদ্ধনাথ বলেন, ‘‘আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি। পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন আছে, দেরিতে রেসপন্স করেছে। পুরো বিষয়টা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
বারুইপুরের যে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে, তার অদূরেই রয়েছে একটি ঝুপড়ি। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই ঝুপড়িতেই। সেখানেই তার উপর শারীরিক নির্যাতন চলে বলে অভিযোগ। ওই ঝুপড়িতে নিয়মিত মদ-গাঁজার আসর বসত বলেও অভিযোগ উঠে আসছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যান মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস। অপর দুই অভিযুক্ত আনন্দ এবং দিবাকর আগে থেকেই সেখানে ছিলেন। অভিযোগ, তিন জনই সেখানে বসেই মাদক সেবন করেন। তার পরে নাবালিকার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। কিশোরীর দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সোমবারই হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাতে দেখা গিয়েছে, নাবালিকাকে যখন পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, তখনও সে বেঁচে ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতনের পর পা দিয়ে নাবালিকার গলায় চাপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিছু সময় ওই ঝুপড়িতেই ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ। তার পরে বেশি রাতের দিকে নির্যাতিতার দেহ ঝুপড়ি থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তেরা। সূত্রের খবর, প্রথমে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় দেহটি ভরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বস্তাটি ছিঁড়ে যায়। তাই অকুস্থলের কাছেই ওই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। অন্য দিকে, এই ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিট-এর সদস্যেরা।



