RK NEWZ মিছিলের সময়ও বেঁধে দিয়েছে হাই কোর্ট। দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। মিছিলে ১,০০০ জনের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কলকাতার রাস্তায় বুধবার মিছিল করতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মিছিলের অনুমতি দিলেও বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার হাই কোর্ট জানিয়েছে, বুধবার, ৮ জুলাই মিছিলটি বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ করতে হবে। যে রাস্তা দিয়ে মিছিল যাবে, তার একটি লেন খোলা রাখতে হবে। মিছিলের সময়ও বেঁধে দিয়েছে হাই কোর্ট। দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। মিছিলে ১,০০০ জনের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বুধবার তাদের যে মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। কী নিয়ে মিছিল, বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কি না, এ সব যদিও স্পষ্ট নয়। মিছিলে থাকার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। এর পরেই কালীঘাট তৃণমূল কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাই কোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলা দায়ের করার অনুমতি দেয় হাই কোর্ট। এ বার বিচারপতি শর্তসাপেক্ষে মিছিল করার অনুমতি দিলেন। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার রাস্তায় নেমেছিলেন মমতা। কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে মোমবাতি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ি থেকে বেরোতেই গলির মুখে তৃণমূলনেত্রীর মিছিল আটকে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও সেই বাধা টপকে, ব্যারিকেড টপকে মিছিল নিয়ে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মূল রাস্তায় পৌঁছে যান মমতা এবং তাঁর সঙ্গী-অনুগামীরা। সোমবার দুপুরে মমতার তরফে বারুইপুরে যান রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলে ভরাডুবির মাঝে হকার উচ্ছেদের বিরোধিতাতেও রাস্তায় নেমেছিলেন মমতা। সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন নেতা-কর্মী ছাড়া বিশেষ কাউকেই দেখা যায়নি। এ অবস্থায় বুধবার ফের পথে নামতে চাইছে কালীঘাট তৃণমূল।
‘আসল’ তৃণমূলের দাবি কীসের ভিত্তিতে? জবাব দিতে ঋতব্রতকে সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন। আসল তৃণমূল কারা? এ প্রশ্নের জবাবে সোমবারই নির্বাচন কমিশনে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে ঋতব্রত তৃণমূলের তরফে কমিশনের কাছে নথি জমা দেওয়ার জন্য আরও খানিকটা সময় চাওয়া হয়েছিল। তথাকথিত ‘আসল তৃণমূল’কে সেই সময় দিল কমিশন। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ঋতব্রতদের সময় দেওয়া হল, নিজেদের দাবির সমক্ষে নথি দেওয়ার জন্য। কমিশন সূত্রের খবর, সোমবার নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর ই-মেলের মাধ্যমে ঋতব্রত শিবিরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত তারা নিজেদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবে। গত সপ্তাহে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী-দু’পক্ষকেই চিঠি দিয়ে সংগঠনগত নির্বাচন, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং দলের উপর দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত কীসের ভিত্তিতে, অভিযোগের বিষয়ে লিখিত জবাব চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সেই জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের বিস্তারিত জবাব জমা দেয়। সেই জবাবে ঋতব্রত শিবিরের সমস্ত দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রের খবর। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের তরফে এক আইনজীবী কমিশনে গিয়ে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানান। তার পরেই কমিশনের পক্ষ থেকে ই-মেলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়, ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় বাড়ানো হচ্ছে। কমিশন সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পরই দুই পক্ষের দাবি, পাল্টা দাবি এবং জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। গত সপ্তাহেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সহ পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সামনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছিল। সেই বৈঠককে ঘিরে আপত্তি জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির অভিযোগ তোলে, স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের অনুমোদিত প্রতিনিধির বাইরে অন্য পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে কমিশন নিজেদের প্রচলিত প্রক্রিয়া থেকেই সরে এসেছে। তারপর দু’পক্ষের বক্তব্য জানতে চান।
পালা বদলের পর থেকে তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। কাউন্সিলর থেকে বিধায়ক সাংসদ-সকলেই বিক্ষুব্ধ। থেকে গিয়েছেন মোটে কয়েকজন। আপাতত সে ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে না। এবার এই নিয়েই মুখ খুললেন প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বাম আমলে বিরোধী নেত্রী হিসাবে মমতার আন্দোলনের কথা সকলের জানা। অনশন-আন্দোলন-বিক্ষোভ কী কী না করেননি। এমনকী ক্ষমতায় থাকাকালীন সেই কথা বারেবারে আওড়েছেন তিনি। বিভিন্ন সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল, “আমি আন্দোলন করে উঠেছি। সংগ্রামী লগ্নে আমার জন্ম। করব…লড়ব…জিতব।” প্রতিবার তিনি বলেছেন, কীভাবে আন্দোলনের সময় তাঁকে মারধর করা হত। কতবার তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। তবে সেই নেত্রী ক্ষমতা হারাতে এখন আর পথে নামতে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। যে মমতা এক সময় বলেছিলেন, আন্দোলন থেকে তাঁর জন্ম আজ সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায়? সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পালা বদলের পর প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মোটের উপর দুবার পথে নামতে দেখা গিয়েছে। হকার উচ্ছেদ সহ একাধিক ইস্যুর প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন তিনি। আর এবার বারুইপুরের ঘটনায় সবুজ মোমবাতি হাতে রাস্তায় নামেন নিজের ঘরের পাশেই। এখানে উল্লেখ্য, সম্প্রতি মমতার বাড়ির সামনে পুলিশ প্রহরা বাড়ানো হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তিনি বারুইপুরে যেতে চাওয়ায় তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে সেখানে যেতে পারেননি মমতা। এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয় হলে অনেকের রাতের ঘুম চলে যাবে।”




