রানের পাহাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ দিন লাঞ্চের সময় দক্ষিণ আফ্রিকা তুলে ফেলেছে ২২০/৪। গুয়াহাটি টেস্ট যে ভারতের জেতার আর সম্ভাবনা নেই তা একপ্রকার নিশ্চিত। ড্র হবে কিনা তা ভারতীয় ব্যাটারদের উপর নির্ভর করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে পাহাড়প্রমাণ রান তুলেছিল। ৪৮৯ রান তুলে ফেলেছিল প্রোটিয়ারা। শতরান করেছিলেন সেনুরান মুথুস্বামী। মার্কো জানসেন করেছিলেন ৯৩ রান। জবাবে ভারত গুটিয়ে যায় ২০১ রানে। ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন জানসেন। ভারতকে ফলো অন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়ারা তুলে ফেলল ২৬০/৫। এগিয়ে থাকা ৫৪৮ রানে। ভারতকে জিততে হলে করতে হবে ৫৪৯। এই রান তুলতে পারবে ভারত? দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত কী রণনীতি নেয় সেটাই দেখার। এখান থেকে ড্র হলেও সেটা সম্মানজনক হবে ভারতের জন্য। এই সিরিজ বোধহয় আর বাঁচানো গেল না। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়া ব্যাটার ট্রিস্টান স্টাবস করলেন ৯৪। চার উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। স্টাবসের শতরানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বাভুমা। কিন্তু তিনি ৯৪ রানে আউট হতেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
চতুর্থ দিনের শেষ দিকে দেখা গেল, সাজঘরে মাথায় হাত দিয়ে বসে গৌতম গম্ভীর। ভারতের প্রধান কোচের এই ছবিই টেস্টের হাল বুঝিয়ে দিল। মনে হল, মনে মনে হার স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। বাস্তবে তা হতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই পিচে ৪৫০ রানের লক্ষ্য দিলেও জেতা কঠিন ছিল ভারতের। সেখানে ৫৪৯ রানের লক্ষ্য দেওয়ার কি কোনও প্রয়োজন ছিল? তার জবাব ভারতের ইনিংসেই বোঝা গেল। এক ঘণ্টার একটু বেশি ব্যাট করল ভারত। তাতেই যে ভাবে ব্যাটারেরা কাঁপলেন, তাতে বোঝা গেল, বেশি ক্ষণ টিকে থাকা তাঁদের পক্ষে কঠিন। বোঝা গেল, বাভুমারা জানেন, ভারতের এই ব্যাটিংকে অল আউট করতে বেশি সময় লাগবে না তাঁদের।
চতুর্থ দিন প্রায় ৫ ঘণ্টা ব্যাট করল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭০ ওভারে এল ২২৬ রান। ওভার প্রতি তিন রানের একটু বেশি। তারা চাইলে দ্রুত গতিতে রান করতে পারত। সেটা করতে গিয়ে উইকেট পড়লেও কিছু হত না। কিন্তু তা না করে ট্রিস্টান স্টাবসের শতরানের অপেক্ষা করলেন বাভুমা। সেখানেই দেরি হল। শতরানও এল না। অবশেষে ২৬০ রানে ডিক্লেয়ার করল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৫৪৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে ভারতের রান ২ উইকেটে ২৭। পঞ্চম দিন জিততে আরও ৫২২ রান করতে হবে তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকার জিততে দরকার ৮ উইকেট। এখান থেকে ভারত জিতলে তা অসাধ্যসাধন হবে। ক্রিকেট যতই মহান অনিশ্চয়তার খেলা হোক না কেন, ভারতের এই ব্যাটিংয়ের উপর ভরসা কোচ গম্ভীরও করছেন না।




