RK NEWZ চলতি পুরুষদের বিশ্বকাপে ভারত সুযোগ পায়নি। ৩২টির বদলে দল বেড়ে ৪৮টি দল হলেও কপালে শিকে ছেঁড়েনি ভারতের। শোনা যাচ্ছে, আগামী বিশ্বকাপে ৪৮টির বদলে ৬৪টি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিতে পারে ফিফা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে ভারত? সালটা ১৯৫০, প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। কিন্তু খেলতে পারেননি ভারতীয় ফুটবলাররা। কেন? অনেকেই বলেন, খালি পায়ে ফুটবল খেলার অনুমতি ফিফা না দেওয়ার ফলে বিশ্বকাপে খেলেনি ভারত। তবে, শুধু এটাই আসল কারণ ছিল না, এর পিছনে ছিল গুরুত্বরও বিষয় কারণ ভারত খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি বিশ্বকাপকে। ফলে, তারা এই বিষয়ে উদাসীন ছিল এবং দল পাঠায়নি বিশ্বকাপে। তারপর অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২০১৭ সাল অবধি, যখন ভারত খেলেছিল অনুর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপে ভারতের দলে ছিলেন কোমল থাটাল, ধীরাজ সিং, আনোয়ার আলি, প্রভসুখন গিলরা। সেই বিশ্বকাপে খেলতে এসেই কলকাতার মাঠে পা পড়েছিল কিশোর ফিল ফডেন, ফেরান তোরেসদের। আজ দেখুন, তাঁরা বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চ মাতাচ্ছেন। আর আমরা? তবে সেই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ হয়ত এল এবার। আজারবাইজানে আগামী ২২ অক্টোবর শুরু হতে চলেছে অনুর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ। সেখানেই খেলার সুযোগ পেয়েছে ভারত। ফিফার কাউন্সিলর ব্যুরো জানিয়েছে, ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হবে এই বিশ্বকাপ। এই প্রথমবার অনুর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ফিফা। তাই উদ্বোধনী বছরে ফিফা সবকটি দেশ অর্থাৎ ২১০টি ফিফা সদস্য দেশকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সুবাদেই সুযোগ পেয়েছে ভারতও। তবে এখানেই গলদ। ভারতের এই বিভাগের কোনও দল তৈরীই নেই। ফলে, আদৌ ভারত বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছেই নেই। এগিয়ে এসেছেন মিনার্ভা অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, কোচ ও যুব ফুটবল নিয়ে অন্যতম উৎসাহী ব্যক্তিত্ব রঞ্জিত বাজাজ। দিন কয়েক আগে তাঁর তত্ত্বাবধানেই মিনার্ভা অ্যাকাডেমি হেলসিঙ্কি কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে অনুরোধ করেন, যদি তাঁকে বিশ্বকাপের অনুর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ করা হয়, তাহলে তিনি একমাসের মধ্যে দলের জন্য উপযুক্ত খেলোয়াড় খুঁজে বার করবেন । ভিডিওতে বাজাজ বলেন,“মিস্টার কল্যাণ চৌবে, আমাকে শুধু একটা সুযোগ দিন। আমার সঙ্গে আপনাদের যা মতপার্থক্য রয়েছে, সব দূরে সরিয়ে রেখে আমাকে একটা সুযোগ দিন। আমি আপনাদের জোর গলায় বলছি, আমি দেশকে ট্রফি জেতাব। যদি না পারি, তাহলে আমাকে কোনওদিন আর কোনও সুযোগ দিতে হবে না। বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও আড়াই মাস বাকি। আমি একমাসের মধ্যে সেরা দল বানাব ও তাদের এই বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার জন্য প্রস্তুত করব।” চলতি পুরুষদের বিশ্বকাপে ভারত সুযোগ পায়নি। ৩২টির বদলে দল বেড়ে ৪৮টি দল হলেও কপালে শিকে ছেঁড়েনি ভারতের। শোনা যাচ্ছে, আগামী বিশ্বকাপে ৪৮টির বদলে ৬৪টি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিতে পারে ফিফা। কিন্তু, তবুও কি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে ভারত? যদিও, ২০১৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে খেলেছিল ভারত। তাও, আয়োজক দেশ হিসেবে সুযোগ পেলেও তারপর অপেক্ষা করতে হল আরও ৯ বছর। তবে, যেভাবে রঞ্জিত বাজাজ বারবার সাফল্যের একটা স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তাতে যদি তাঁর কথা শোনে এআইএফএফ, তাহলে রঞ্জিতের পাশাপাশি কোনও একদিন বিশ্বকাপের মূল স্রোতের জল গায়ে লাগানোর সুযোগ তো ভারতীয়রাও পাবে। হোক না বয়সভিত্তিক, বিশ্বকাপ তো!
৪৮ দলের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে সফল। সেই সাফল্যে ভর করেই এবার আরও বড় চমক দিতে প্রস্তুত ফিফা। ২০২৬ সালের পর টুর্নামেন্টের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিল বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। দল সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার ভাবনা শুরু হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো স্বয়ং এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, ফুটবলবিশ্বের সব দেশেরই এই মেগা মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। সুইস সম্প্রচারকারী সংস্থা ব্লু স্পোর্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্বকাপ আয়োজন করলে তা গোটা দুনিয়ার জন্যই হওয়া উচিত। শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকা নয়!’। ইনফান্তিনোর সাফ কথা, ছোট দেশগুলো সুযোগ না পেলে তাদের উন্নতির তাগিদ কমে যাবে। ৬৪ দলের টুর্নামেন্টের এই ভাবনা প্রথম শোনা যায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন বা কনমেবল ২০৩০ সালের আসরে দল বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। উল্লেখ্য, ২০৩০ সালেই প্রতিযোগিতার শতবর্ষ পূর্ণ হবে। ১৯৯৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৩২ দলের ফরম্যাটে টুর্নামেন্টে মোট ৬৪টি ম্যাচ খেলা হত। চলতি বছরের ৪৮ দলের আসরে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টি। ৬৪ টিমের প্রস্তাব ছাড়পত্র পেলে, খেলার সংখ্যা একলাফে দ্বিগুণ হবে। অর্থাৎ, মোট ১২৮টি ম্যাচ। এই প্রস্তাবের বিরোধিতাও রয়েছে। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মনটাগলিয়ানি গত এপ্রিলে ইএসপিএন-কে বলেন, ‘আমি মনে করি না ৬৪ দলের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য বা বৃহত্তর ফুটবল ইকোসিস্টেমের জন্য সঠিক পদক্ষেপ!’ টুর্নামেন্টের আকার বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তা ভারতের মতো দেশগুলোর সামনে একটা বড় সুযোগ। ৪৮ দলের ফরম্যাটে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন AFC থেকে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের কোটা ৪.৫ থেকে বেড়ে ৮.৫ হয়েছে। ফিফা যদি ২০৩০ সালে সত্যিই আরও ১৬টি স্লট বাড়ায়, তবে সেই কোটা বিশ্বজুড়েই ভাগ হবে।
আনুপাতিক হারে হিসেব করলে, সেক্ষেত্রে এশিয়ার ভাগে আরও ৩-৪টি স্লট জুটতে পারে। অর্থাৎ, এএফসি থেকে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১১ বা ১২-তে। ভারত বর্তমানে এশিয়ার সেরা দলগুলোর তালিকায় ১৫ নম্বরের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে স্লট বাড়লেও সরাসরি যোগ্যতা অর্জন সহজ না হলেও একটা ক্ষীণ আশার আলো অন্তত তৈরি হবে। এশিয়ার প্রথম সারিতে থাকা দলগুলির জায়গা কার্যত পাকা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, অস্ট্রেলিয়া এবং সৌদি আরবের মতো হেভিওয়েটরা প্রথম পাঁচটি স্লট নিজেদের দখলে রাখবে। এরপরের ধাপেই রয়েছে কাতার, ইরাক, উজবেকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং জর্ডন। তারাও নিজেদের প্রমাণ করেছে। ভারতের সামনে লক্ষ্য ১১ বা ১২ নম্বর স্থানটি দখল করা। কিন্তু তার জন্য ওমান, বাহরিন, সিরিয়া, চিন, ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো দলগুলোকে ধারাবাহিক ভাবে টেক্কা দিতে হবে ব্লু-টাইগার্সদের। বর্তমানে যা বেশ কঠিন। তাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলেও, যোগ্যতা অর্জনের পথ নেহাত মসৃণ নয়। এই মঞ্চে পৌঁছতে গেলে ভারতীয় ফুটবলকে নিজেদের খেলার মান আরও কয়েক গুণ বাড়াতেই হবে।



