RK NEWZ ৫ বছর আগে প্ল্যান অনুমোদন হয়েছে এরকম নির্মীয়মাণ বহুতলগুলিও অডিটের আওতায় আনা হোক। তারাতলা কাণ্ডের পর নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির অডিটের জন্য তৈরি কমিটির তরফে এই সুপারিশই করা হল। আপাতত এই কমিটি কলকাতা শহরের ১১টি বহুতলকে নির্মাণে ছাড়পত্র দিয়েছে। তারাতলা কাণ্ডের পর কলকাতা শহর, বিধাননগর, বরানগর, কামারহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলের স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য অডিট কমিটি তৈরি করা হয়। জি+৫ নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ১১ সদস্যের এই অডিট কমিটি তৈরি হয়েছিল। এই কমিটি খতিয়ে দেখছে, বহুতলগুলির প্ল্যানে কোনও অনিয়ম রয়েছে কি না। বেশি অনিয়ম থাকলে পুরো বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে অনুমোদন। স্বল্প ত্রুটির ক্ষেত্রে শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে নির্মাণ সংস্থাকে। কাজ শুরুর পর মোট ৩৪৪টি বহুতলের তালিকা প্রস্তুত করে অডিট কমিটি। এর মধ্যে ২০০টি বহুতলের নির্মাণ সংস্থা কমিটিতে আবেদন জানায়। এই ২০০টির মধ্যে ১৬০টি নির্মীয়মাণ বহুতল খতিয়ে দেখে কমিটি। ৪১টি বহুতলের রিপোর্ট টেকনিক্যাল কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এর মধ্যে আপাতত শহরের মাত্র ১১টি বহুতলকে নির্মাণে ছাড়পত্র দেওয়া হল। আজ, সোমবার কমিটির প্রথম পর্যায়ের রিপোর্ট জানালেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। স্মিতা পাণ্ডে জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে নির্মীয়মাণ বহুতলগুলিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। কোনও জায়গায় দেখা যাচ্ছে, শ্রমিকের রেজিস্ট্রেশন নেই, পিএফের কাগজ নেই। এসব ক্ষেত্রে শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে পুর প্রশাসন। কলকাতা শহর জুড়ে নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির নিরাপত্তা ও গুণমান খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে অডিট। তার প্রথম পর্যায়ের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা রীতিমতো কপালে ভাঁজ ফেলার মতো। শহরের ১৬০টি নির্মীয়মাণ বহুতল পরীক্ষা করে হাইপাওয়ার কমিটি মাত্র ১১টি বহুতলকে ছাড়পত্র বা ‘ক্লিনচিট’ দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ের অডিট রিপোর্ট পেশ করেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। তিনি স্পষ্ট জানান, তারাতলাকাণ্ডের পর তড়িঘড়ি যে হাইপাওয়ার কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত শহরের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলে নতুন করে কাজ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চলাকালীনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় এই স্ক্রুটিনি ও অডিটের কাজ। পুর কমিশনার স্মিতা পরিসংখ্যান তুলে ধরে আরও জানান, গত তিন বছরে শহরে বহুতল নির্মাণের জন্য মোট ৩৪৪টি আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে প্রথম দফায় ২০০টি নির্মাণাধীন প্রকল্পকে চিহ্নিত করা হয়। এই ২০০টির মধ্যে ১৬০টি স্পটে সশরীরে গিয়ে অডিট টিমের সদস্যেরা বহুতলগুলির পরিকাঠামো এবং কাজের গুণমান খতিয়ে দেখেন। মাঠপর্যায়ের সেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর সম্পূর্ণ রিপোর্টটি জমা দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের গঠিত হাইপাওয়ার কমিটির কাছে। স্ক্রুটিনি ও সমস্ত দিক বিচার-বিবেচনা করার পর, প্রাথমিক ভাবে মাত্র ১১টি বহুতলকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবুজ সঙ্কেত বা ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি ভবনগুলির ক্ষেত্রে একাধিক খামতি ও নিয়মভঙ্গের বিষয় সামনে এসেছে। কমিশনার বলেন, ‘‘অডিট করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই মোট ২৩টি নির্মীয়মাণ বহুতলে মারাত্মক ধরনের ত্রুটি ও গাফিলতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে নির্মাণ সামগ্রীর নিম্নমান, তেমনই রয়েছে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চরম উদাসীনতা। ইমারতি নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যে ভাবে কাজ চলছিল, তাতে যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’’ পুরসভার কড়া বার্তা, যে ২৩টি বহুতলে ত্রুটি মিলেছে, সেগুলির কাজ আপতত বন্ধ রাখতে হবে। ত্রুটিগুলি দ্রুত সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার এবং প্রোমোটারদের কাছে ফাইল ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ সংশোধন না করা পর্যন্ত সেখানে কোনও কাজ করা যাবে না। এ ছাড়াও, বাকি ৪১টি বহুতলের অডিট রিপোর্ট বর্তমানে টেকনিক্যাল সাব-কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে স্ক্রুটিনির জন্য। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত মিললে তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



