ইডেন গার্ডেন্সে একদিকে যখন শুভমন গিলের নেতৃত্বে ভারতের টেস্ট টিম খেলার সময় কল্যাণীর ২২ গজে মহম্মদ সামিও! ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট ম্যাচ। আর ১৬ নভেম্বর, রবিবার কল্যাণীতে রয়েছে বাংলার রঞ্জি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ অসম। এই ম্যাচে তারকা পেসার মহম্মদ সামির খেলার কথা। সামিকে দেখার জন্য কল্যাণীতে যেতে পারেন জাতীয় নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর। তা হলে সেখানেই কি হবে মোরাদাবাদ এক্সপ্রেসের অগ্নিপরীক্ষা? বাংলার হয়ে এই মরসুমে রঞ্জি ট্রফি খেলতে এসে সামি তোপের পর তোপ দাগেন জাতীয় নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছিলেন, ফিট থাকার সত্ত্বেও তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্য নির্বাচন করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্তা জানান, সামি এর আগে ভারতের ইংল্যান্ড সফরে যেতে চাননি, তাই বোর্ডের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এ বার কি সেই দূরত্বই ঘোচানোর চেষ্টা করছেন অজিত? অজিত এ বার বোর্ড বনাম সামি বিতর্ক মেটানোর ভাবনাচিন্তা করছেন। তাই হয়তো সব ঠিকঠাক থাকলে আসন্ন বাংলা বনাম অসম রঞ্জি ম্যাচে সামির পারফরম্যান্স দেখতে কল্যাণীতে যেতে পারেন অজিত। যদি সবদিকে উতরে যেতে পারেন সামি, তা হলে হয়তো এরপরের টেস্ট সিরিজ গুলোতে সামিকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে পারে বিসিসিআই। ওডিআইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া পেস বোলার সামি। ফলে তিনি যদি ভারতের ওডিআই স্কোয়াডে থাকেন, তা হলে এ কথা হলফ করে বলা যায় যে, ভারতের আর এক তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরার ওপর খানিক হলেও চাপ কমবে। এবং তিনি বিশ্রামও পাবেন। এ বার দেখার শেষ অবধি কোনদিকে জল গড়ায়। এ বারের রঞ্জি ট্রফিতে এখনও অবধি সামি মোট ৩টি ম্যাচে খেলেছেন। তার মধ্যে দুটি ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। প্রথমে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট, এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট। তারপর গুজরাটের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৪৪ রান খরচ করে ৩ উইকেট নেন সামি। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রান খরচ করার সুবাদে নেন ৫ উইকেট। এরপর ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ৭৬ রান খরচ করেছিলেন। কিন্তু কোনও উইকেট পাননি। বাংলা শেষ রেলের বিরুদ্ধে খেলেছে। সেই ম্যাচে রেলওয়েজের বিরুদ্ধে খেলেননি সামি। ওই ম্যাচ বাংলা এক ইনিংসে ও ১২০ রানে জিতেছিল।
রঞ্জি ট্রফিতে বিধ্বংসী বোলিংও করেন সামি। কিন্তু ফিটনেসের কারণে তিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। এনসিতে চোট সারিয়ে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরও ভারতীয় টিমে সামির জন্য আর দরজা খোলেনি। যে কারণে, ক্রিকেটের নন্দনকাননে বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলতে এসে নির্বাচন কমিটির প্রধান অজিত আগরকরের উদ্দেশ্যে বোমাও ফাটিয়েছিলেন সামি। তিনি থাকা মানে ভারতের বোলিং বিভাগ সত্যিই শক্তিশালী হওয়া। তাই তো মহম্মদ সামিকে মিস করছে ভারতীয় দল। ভারত অধিনায়ক সামি প্রসঙ্গে বললেন, “সামি ভাইকে মিস করছি। ও কতটা গুরুত্বপূর্ণ বোলার তা আমরা সবাই জানি। এই মুহূর্তে আকাশদীপ, সিরাজরা খুব ভাল পারফর্ম করছে। বুমরার মতো বোলার আছে দলে। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে খেলতে যেতে হবে আমাদের। পেস বোলাররা সেই সময় কাজে আসবে। সামি ভাইয়ের ব্যাপারে বাকি উত্তর নির্বাচকরা ভাল দিতে পারবে।”




