মোহনবাগান: ৩ (মনবীর, তন্ময়, দীপেন্দু) কালীঘাট: ০
RK NEWZ মোহনবাগান মাঠে কলকাতা লিগের ম্যাচ দেখতে হাজির ছিলেন নতুন কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস। কলকাতা লিগে এখন আর কোনও বড় দলই পূর্ণশক্তি নিয়ে নামে না। মূলত রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিপরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কালীঘাট মিলন সংঘের বিরুদ্ধে মোহনবাগান যে দলটা নামাল, তা চমকে দেওয়ার মতো। গোলপোস্টের তলায় বিশাল কেইথ, ডিফেন্সে রাহুল ভেকে, দীপেন্দু বিশ্বাস। মাঝমাঠ ও আক্রমণে অনিরুদ্ধ থাপা, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, কিয়ান নাসিরি, সাহাল আবদুল সামাদ। যেন কলকাতা লিগ নয়, আইএসএলের কোনও ম্যাচ। তবে এত শক্তিশালী দল নিয়েও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হল ৭৪ মিনিট পর্যন্ত। শেষমেশ ৩-০ গোলে জিতে কলকাতা লিগে জয়ের সরণিতে ফিরল মোহনবাগান। সামনে ডুরান্ড কাপ। ডার্বি দিয়ে অভিযান শুরু হবে। তারও প্রস্তুতি দরকার। এদিনই কলকাতায় পা রেখেছেন সবুজ-মেরুনের নতুন কোচ প্যানাজিওটিস দিলেম্পেরিস। মোহনবাগান মাঠেও ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কলকাতা লিগে আগের ম্যাচে খিদিরপুরের কাছে আটকে গিয়েছিল মোহনবাগান। সব মিলিয়ে এদিন তারকাখচিত দল নামান সবুজ-মেরুনের কোচ বাস্তব রায়। এই দল নিয়ে যে দাপট দেখাবে সেটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু গোটা দলটার ফিটনেস নিয়ে অনেক পরিশ্রম প্রয়োজন রয়েছে। অফসাইডে একটি গোল বাতিল হয়। তাছাড়া চিন্তায় রাখবে গোল মিসের প্রবণতা। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছতে পারছিলেন না সামাদরা। অন্যদিকে দুর্দান্ত সব সেভ করেন কালীঘাটের গোলকিপার রঞ্জন সরেন। দ্বিতীয়ার্ধে মনবীর সিংদেরও নামিয়ে দেয় মোহনবাগান। ধারাবাহিক চাপ সামলাতে পারেনি কালীঘাটও। অবশেষে ‘ডেডলক’ খুলল ৭৪ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন মনবীর। ৮২ মিনিটে জোরাল শটে ব্যবধান বাড়ান তন্ময় ঘোষ। আর দু’মিনিট পরই ৩-০ করেন ‘ঘরের ছেলে’ দীপেন্দু বিশ্বাস। ৩ ম্যাচে মোহনবাগানের পয়েন্ট ৭।
নতুন মরশুমের মোহনবাগানে একই দিনে জোড়া সই। সবুজ-মেরুন বাহিনীর সামনে ডুরান্ড কাপ। ডার্বি দিয়ে শুরু হবে মরশুম। তার আগে দেজান দ্রাজিচকে সই করাল মোহনবাগান। জল্পনা ছিল, অবশেষে তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হল। অন্যদিকে রক্ষণকে শক্তিশালী করতে অ্যালেক্স সাজিও এলেন মোহনবাগান। আর এইদিনই কলকাতায় পা রাখলেন সবুজ-মেরুনের নতুন কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস। গত দুই মরশুম গোয়ায় খেলেছেন সার্বিয়ার ফুটবলার দ্রাজিচ। মূলত লেফট উইঙ্গার হলেও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডেও খেলতে পারেন তিনি। স্পেনের ক্লাব সেল্টা ভিগো, রিয়াল ভালাদোলিদে খেলেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। ৩০ বছর বয়সি মিডফিল্ডারের আগমনে রবসন রবিনহোর বিদায়ের ঘোষণা কার্যত সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। এবার দেখার মিগুয়েল ফিগুয়েরার সঙ্গে দ্রাজিচের জুটি কেমন হয়? দু’বছরের চুক্তিতে সবুজ-মেরুনে যোগ দিয়ে দ্রাজিচ বলছেন, “মোহনবাগান এশিয়ার অন্যতম বড় ক্লাব। এই ক্লাবের ঐতিহ্য ও ইতিহাস স্মরণীয়। প্রচুর সমর্থক আছে। তাই যখন প্রস্তাব এল, আমি আর দ্বিতীয়বার ভাবিনি। নিজেকে প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছি। এবার দলটা শক্তিশালী। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই আমরা প্রতিযোগিতায় নামব। আমি ভারতে আসার আগেই ডার্বির কথা শুনেছি। এই ম্যাচে খেলা যে কোনও ফুটবলারের স্বপ্ন। সেই উত্তেজনা পেতে চাই। গোল ও অ্যাসিস্ট পেতে নিজের সবটা দেব। সাধারণত বাঁদিকের উইংয়ে খেলতেই পছন্দ করি। সেখান থেকে ভিতরে ঢুকে আসি। তবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, পালন করব।”




