Monday, July 20, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বচ্যাম্পিয়ান স্পেন!‌ জুলাইয়ের অভিশাপে বিদ্ধ মেসিরা! জোড়া লাল কার্ড!‌ চতুর্থবার ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ আর্জেন্টিনার!‌

RK NEWZ ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় স্পেনের। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ হাতে তোলার স্বপ্নভঙ্গ মেসির। চোখের জলে বিদায় আর্জেন্টিনার। কার্যত একপেশে ভাবেই ফাইনাল জিতল স্প্যানিশ আর্মাডা। তোরেসের একমাত্র গোলেই ১-০ জয়ী ফুয়েন্তের ছেলেরা। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পাশাপাশি লাল কার্ডের কালিও লাগল আর্জেন্টিনার গায়ে। ম্যাচের মাঝে লাল কার্ড দেখেছিলেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ়। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর জোড়া লাল কার্ডের কালি লাগল আর্জেন্টিনার গায়ে। খেলা শেষে লাল কার্ড দেখলেন মেসিদের দলের আরও এক ফুটবলার। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই ঝামেলা শুরু হয়। স্পেনের কয়েক জন ফুটবলার আনন্দে উৎসব করতে শুরু করেন। আর্জেন্টিনার কয়েক জন হতাশ হয়ে শুয়ে পড়েন। মাঠের মাঝখানে দু’দলের ফুটবলারদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। প্রথমে একে অপরের প্রতি গালিগালাজ ছিল। এর পর ফুটবলারেরা হাতাহাতি এবং ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনা দেখে দু’দলের একাধিক সাপোর্ট স্টাফ দৌড়ে আসেন। তাঁরা ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করতে থাকেন। আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিও এগিয়ে এসে নিজের দলের ফুটবলারদের সরিয়ে নিয়ে যান। তার আগে গার্সিয়ার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় তাঁর। মেজাজও হারাতে দেখা যায়। ঠান্ডা মাথার মানুষ হিসাবে পরিচিত স্কালোনিকে অতীতে এমন রূপে দেখা যায়নি। ঝামেলা করেছেন আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওটামেন্ডিও। তাঁর সঙ্গে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির তর্কাতর্কি হয়। তবে মৌখিক ঝামেলাতেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। হাতাহাতিতে গড়ায়নি।ঝামেলায় মুখ্য চরিত্র ছিলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মাঠে নামার পর থেকেই তিনি শারীরিক ফুটবল খেলছিলেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন। ম্যাচের পর সকলের আগে তিনি স্পেনের এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে ঝামেলা করেন। গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন। এর পর ঝামেলা করেন গাভির সঙ্গে। গাভিকে ঠেলে ফেলে দেন মাঠে। তার পরেই পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় সে দিকে লক্ষ্য ছিল না সকলের। লাল কার্ড দেখার অর্থ, এঞ্জোর মতো পারেদেসও আর্জেন্টিনার হয়ে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে পারবেন না। ১২টির বেশী সেভ করেছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি কোনও গোলরক্ষকের করা সবচেয়ে বেশি সেভ। এক্সট্রা টাইমের প্রথমার্ধে উইলিয়ামসের শট জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে গোল বাতিল করে দিলেন রেফারি। খানিক চোট পেয়ে মাঠেই শুয়ে পড়লেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার এমি।

২০১৪ সালের ১৩ জুলাই। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও জার্মানি। লিওনেল মেসির সামনে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। কিন্তু নির্ধারিত ৯০ মিনিটে হিগুয়েন, মেসি ও পালাসিও কয়েকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। এর মূল্য দিতে হয় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ১১৩তম মিনিটে মারিও গোটশে একমাত্র গোল করে জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন। সেই হারে ভেঙে যায় কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদয়। ঘুরে ফিরে সেই জুলাইয়েই আবারও ফাইনাল। অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, ২০২৬-এ জুলাইয়ের শাপমুক্তি কি ঘটাতে পারবে ‘লা আলবিসেলেস্তে’? উত্তরটা আশা করি এতক্ষণে সকলেই জেনে গিয়েছেন। জুলাইয়ের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ‘দুশমনি’ সেই ৯৬ বছর আগে থেকে। ১৯৩০ সালের ৩০ জুলাই। প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে আয়োজক উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। মন্টভিডিওর এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ শেষে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল আকাশি-সাদা ব্রিগেড। তখন মনে হচ্ছিল, শিরোপা বুঝি তাদের হাতে ওঠা সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় উরুগুয়ে। টানা তিন গোল করে ৪-২ ব্যবধানে জিতে নেয় উরুগুয়ে। স্বপ্নভঙ্গের সেই শুরু। ঠিক ৬০ বছর পর, ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে হারতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ৮ জুলাই ইটালির অলিম্পিক স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ছিল পশ্চিম জার্মানি। দিয়েগো মারাদোনার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। গোটা ম্যাচে টানটান লড়াই চলছিল। ৮৫ মিনিটে একটি পেনাল্টি পায় পশ্চিম জার্মানি। যদিও সেই পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক এখনও তাজা। শেষ পর্যন্ত আন্দ্রেয়াস ব্রেহমের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। এই বিতর্কিত হার আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে আরেক জুলাইয়ের ক্ষত। মারাদোনার চোখের জল আজও অনেককে স্মৃতিমেদুর করে। ১৯ জুলাই, ২০২৬। ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় স্পেনের। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ হাতে তোলার স্বপ্নভঙ্গ হল মেসির। চোখের জলে সেই জুলাইয়েই আরও একবার হতাশ হতে হল আর্জেন্টিনাকে। কার্যত একপেশে ভাবেই ফাইনাল জিতল স্প্যানিশ আর্মাডা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও শুরু থেকে স্পেনই বেশি আক্রমণ চালায়। শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয়ের হাসি হাসে ‘লা রোহা’। শেষ বাঁশি বাজতেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয় স্প্যানিশ সেলিব্রেশন। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে নিল ইউরোপের দেশ।

১৯৩০ সালে উরুগুয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই স্প্যানিশভাষী দেশ – উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৯৬ বছর। পেরিয়েছে ২২টি বিশ্বকাপ। অবশেষে ২০২৬-এর ২৩তম আসরে ইতিহাস যেন আবার ফিরে এল। এবার ফাইনালের মঞ্চে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। দুই দেশ, দুই ভিন্ন সংস্কৃতি, আলাদা ফুটবল দর্শন। তবু তাদের মিলিয়ে রেখেছে একটি ভাষা, স্প্যানিশ। তাই এটি শুধু বিশ্বসেরার লড়াই নয়, একই ভাষার দুই ফুটবল শক্তিধর দেশের মর্যাদার দ্বৈরথ। সেই দ্বৈরথ যে এমন একপেশে হবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি।দাপুটে স্পেনের সামনে দিশেহারা দেখিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ফলে টানা দু’বার ট্রফি জেতা হল না লিওনেল মেসির। ১৬ বছর পর বিশ্বজয়ী স্পেন। প্রশ্ন হল, কেন এভাবে হারের মুখ দেখতে হল আর্জেন্টিনাকে? ফাইনালের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন। বলের দখল থেকে পাসিং, সবেতেই আধিপত্য দেখিয়ে তারা আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্পেনের ফুটবলাররা প্রতিপক্ষকে ঘিরে ধরে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই হাই প্রেসিংয়ের কারণে আর্জেন্টিনা নিজেদের অর্ধ থেকেই স্বাভাবিকভাবে আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফাইনালের আগে কোনও এক ম্যাচে চারটের বেশি সেভ করতে হয়নি। তবে ফাইনালে ৭৫ মিনিটেই সাতবার সেভ করেন। স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে একাই লড়াই করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। গোটা ম্যাচে ১৫টা সেভ করে নজির গড়লেন। তবে অবশেষে তিনি পরাস্ত হলেন। খুলল গোলমুখ। উইলিয়ামের বাড়ানো বল থেকে এবার আর গোল করতে কোনও ভুল করেননি তোরেস। এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে ১-০ এগিয়ে যায় স্পেন। স্পেনের রদ্রি ও লাপোর্তে মেসিকে ঘিরে রাখেন। ফলে এলএম১০ নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। মেসি আটকে যাওয়ায় যে কী পরিণতি হতে আর্জেন্টিনার, তা দেখল ফুটবলবিশ্ব। আর্জেন্তিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মাঝমাঠের দখল রেখে দ্রুত আক্রমণে ওঠা। কিন্তু ফাইনালে তারা একেবারে অন্যভাবে খেলেছে। শুরু থেকেই কোচ দলকে রক্ষণাত্মকভাবে খেলান। উদ্দেশ্য ছিল স্পেনকে জায়গা না দিয়ে সুযোগ পেলেই পালটা আক্রমণ করা। কিন্তু স্পেন বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই চাপ তৈরি করছিল। তাই আর্জেন্টিনা বল পেলেও দ্রুত আক্রমণে ওঠার মতো সময় বা জায়গা পাচ্ছিল না। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং মিডফিল্ডের চাপে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত একটাও গোলমুখী শট নিতে পারেনি ‘লা আলবিসেলেস্তে’। স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে কার্যত দিশেহারা দেখিয়েছে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগকে। একের পর এক আক্রমণ সামলে কোনও রকমে এখনও ম্যাচে টিকে ছিলেন ওটামেন্ডিরা। দ্বিতীয়ার্ধে নিকো গঞ্জালেসকে তুলে লিয়োনার্দো পারেদেসকে নামালেন স্কালোনি। এরপর রোমেরো ও ডি পলকে তুলে মেদিনা ও সিমিয়োনেকে নামান আর্জেন্টিনা কোচ। এতে অবশ্য কাজের কাজ হয়নি। এভাবে রক্ষণ সামলে টিকে থাকা কঠিন। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরো সময়ই বলের দখল ছিল স্পেনের পায়ে। শুধু গোলের শেষ ছোঁয়াটাই দিতে পারছিলেন না ইয়ামাল, কুকুরেয়া, ওয়ারজাবালরা। তবে কুবার্সিকে ট্যাকেল করতে গিয়ে ফাউল করে এঞ্জো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন ইনজুরি টাইমে। ১০ জনে খেলা সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারল না আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্তে ইয়ামাল তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও স্কিল দিয়ে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে সমস্যায় ফেলেন। তাঁর তৈরি করা আক্রমণ থেকেই স্পেন একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে। তাঁর সঙ্গে কুকুরেয়া গতি, স্কিল এবং ওভারল্যাপিং দৌড়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের বারবার চাপে ফেলেন। এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে খারাপ ম্যাচটা খেলল আর্জেন্টিনা। পারফরম্যান্স এতটাই নিষ্প্রভ ছিল যে, এই দল কীভাবে ফাইনালে পৌঁছেছিল, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় স্পেনের। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ হাতে তোলার স্বপ্নভঙ্গ মেসির। চোখের জলে বিদায় আর্জেন্টিনার। কার্যত একপেশে ভাবেই ফাইনাল জিতল স্প্যানিশ আর্মাডা। তোরেসের একমাত্র গোলেই ১-০ জয়ী ফুয়েন্তের ছেলেরা।

বিশ্বকাপের যবনিকা পতন। ফাইনালের (FIFA World Cup 2026 Final) হাফটাইমে জমকালো সমাপ্তি অনুষ্ঠানের সাক্ষী গোটা বিশ্ব। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পরই একঝাঁক তারকার উপস্থিতিতে জমে ওঠে মেটলাইফের পরিবেশ। তবে শাকিরা, জাস্টিন বিবারদের মাঝে নজর কাড়লেন ব্রাজিলীয় কিংবদন্তিরা। কথা ছিল, ফাইনালে দুই দফায় হবে সমাপ্তি অনুষ্ঠান। ম্যাচ শুরুর আগে এবং প্রথমার্ধের শেষে। কিন্তু দেখা যায়, শুরুতে অনুষ্ঠানে খানিক কাটছাঁট করা হয়। আবার ঠিক ছিল, হাফটাইমে ৩০ মিনিট ধরে চলবে সমাপ্তি অনুষ্ঠান। যা নিয়ে তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক। শেষমেশ সেই সময়ও কমিয়ে মিনিট সতেরোর অনুষ্ঠান দেখলেন দর্শকরা। কানাডিয়ান পপতারকা জাস্টিন বিবার, জনপ্রিয় কোরিয়ান ব্য়ান্ড বিটিএসের পারফরম্যান্স তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দর্শকাসনে তাঁর পাশেই দেখা গেল ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফানতিনোকে। এরপর শাকিরা এসে বিশ্বকাপের থিম সং ‘ডাই ডাই’ গান গাইতেই শব্দব্রহ্মে কেঁপে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। চিরাচরিত স্টাইলে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নেন কলম্বিয়ান পপতারকা। খুদেদের সঙ্গে সেলফির আবদারও মেটান। তবে এসবের মাঝেই তাক লাগালেন ব্রাজিলীয় তারকারা। মার্কিন গায়িকা মাডোনার সঙ্গে মাঠে নামেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডিনহো এবং রোনাল্ডো। চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে সেই দেশের মহাতারকাদের দেখে আবেগে ভাসলেন ফুটবলপ্রেমীরা। স্টেডিয়াম থেকে তখন সপরিবারে গলা ফাটাচ্ছেন ডেভিড বেকহ্যাম। সব মিলিয়ে বিতর্ককে পিছনে ফেলে নিউ জার্সির বুকে স্মরণীয় হয়ে রইল এক অনবদ্য সমাপ্তি অনুষ্ঠান। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও সোনার বল জিতেছিলেন লিয়োনেল মেসি। প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। কিন্তু এ বার আমেরিকা থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে। একটিও পুরস্কার পেলেন না মেসি। কারা হলেন এ বারের সেরা? তিনটি পুরস্কার গেল স্পেনের ঝুলিতে। একটি ফ্রান্সের।

কিলিয়ান এমবাপে (সোনার বুট)
চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই সোনার বুট প্রায় পাকা করে নিয়েছিলেন এমবাপে। এ বার ১০টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি করেছেন চারটি অ্যাসিস্ট। তাঁর সবচেয়ে কাছে থাকা মেসি আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ফলে এই ট্রফি যে এমবাপে জিতবেন তা প্রায় নিশ্চিত ছিল।

রদ্রি (সোনার বল)
এ বার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হয়েছেন রদ্রি। ফাইনালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে সেই পুরস্কার নিয়েছেন স্পেনের অধিনায়ক। মিডফিল্ডারেরা সাধারণত এই পুরস্কার খুব বেশি পান না। কিন্তু এ বার রদ্রি গোটা প্রতিযোগিতায় স্পেনকে খেলিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সফল পাস দিয়েছেন। রদ্রি ছিলেন বলেই এক সুন্দর ফুটবল খেলেছে স্পেন। তাই রদ্রি যোগ্য হিসাবেই এই পুরস্কার জিতেছেন।

উনাই সিমন (সোনার গ্লাভস)
এই পুরস্কারও আগে থেকেই প্রায় পাকা ছিল। গোটা বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল খেয়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক সিমন। তা ছাড়া তাঁকে এক বারও পরাস্ত করতে পারেননি কোনও ফুটবলার। গোটা প্রতিযোগিতায় একটি গোল খাওয়া গোলরক্ষকের হাতেই যে সোনার গ্লাভস উঠবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

পাউ কুবারসি (সেরা উদীয়মান তারকা)
মাত্র ১৯ বছরের এই ফুটবলার স্পেনের রক্ষণ সামলেছেন। তিনি ছিলেন বলে সিমনকেও কম কষ্ট করতে হয়েছে। পাশাপাশি আক্রমণেও বল বাড়িয়েছে কুবারসি। এত অল্প বয়সে যে পরিণত মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তার জন্য বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা হয়েছেন তিনি। ‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles