কলকাতা, ২০ অক্টোবর, ২০২৫: সল্টলেক অঞ্চলের অন্যতম বিশিষ্ট সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মাড়োয়ারি সংস্কৃতি মঞ্চ। সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণ অর্থাৎ সেন্ট্রাল পার্ক মেলা গ্রাউন্ডে আয়োজিত বর্ণাঢ্য দীপাবলি মহোৎসব ২০২৫। এই ভক্তিমূলক আনন্দ উদযাপন একত্রিত করেছিল হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীকে।

এক সন্ধ্যায় অনন্য মিশ্রণে ভক্তি, ঐতিহ্য ও উৎসবের উজ্জ্বল রূপ। সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ছিল দেবী মহালক্ষ্মীর ২৪ ফুট উচ্চমূর্তির মহাআরতি। মাড়োয়ারি সংস্কৃতি মঞ্চের মহিলা শাখার আয়োজনেই সাফল্য মণ্ডিত অনুষ্ঠান। ঐশ্বরিক অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত হয় এক মনোমুগ্ধকর আতশবাজি প্রদর্শণী ও সংগীতানুষ্ঠান।

সমন্বিত ডিজিটাল আলো ও শব্দের জাদু আকাশ বাতাস ভরিয়ে তোলে রঙ ও আনন্দে। সেন্ট্রাল পার্ক রূপান্তরিত হয়েছিল এক উজ্জ্বল ভক্তিময় প্রাঙ্গণে। প্রতীক হয়ে উঠেছিল আলোর উপস্থিতি ও অন্ধকারের উপর জয়ের।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বিধাননগর পৌর নিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত, বিধায়ক বিবেক গুপ্তা, ললিত কুমার প্রহ্লাদকা, ললিত বেরিওয়ালা, অশোক টোডি, বিকাশ পোদ্দারদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে মর্যাদা ও উষ্ণতা যোগ করেছিল। কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যরক্ষায় মাড়োয়ারি সংস্কৃতি মঞ্চের অবিচল ভূমিকা।

মাড়োয়ারি সংস্কৃতি মঞ্চের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ললিত বেরিওয়ালা বলেন, “দীপাবলি মহোৎসব সবসময়ই আমাদের সম্প্রদায়কে ভক্তি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে একত্রিত করার একটি মাধ্যম। প্রতি বছর মানুষের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ আমাদের মনে করিয় দেয় যে এই উৎসব শুধু আলোরনয়, এটি বিশ্বাস, ঐক্য ও কলকাতার চেতনার পুনরুজ্জীবন।”

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ললিত কুমার প্রহ্লাদকা বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাড়োয়ারি সংস্কৃতি মঞ্চ ভক্তি ও সমাজসেবার মাধ্যম সংস্কৃতি সংরক্ষণে অঙ্গীকারবদ্ধ। দীপাবলি মহোৎসব সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন—ঐতিহ্য উদ্যাপনের পাশাপাশি একতার অনুপ্রেরণা।”

অশোক টোডি যোগ করেন, “দীপাবলি মহোৎসব কেবল একটি উৎসব নয় এটি আমাদের যৌথ মূল্যবোধ, ঐক্যও সাংস্কৃতিক গৌরবের প্রতিফলন। এই উদ্যাপনের মাধ্যমে আমরা সামঞ্জস্য, ইতিবাচকতা ও সম্মিলিত অগ্রগতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে কলকাতার আসল চেতনা ঐতিহ্য, অন্তর্ভুক্তি ও আনন্দের সমন্বয়েনিহিত।”

এ বছরের অনুষ্ঠানে ছিল ভক্তিমূলক পরিবেশনা, ভজন, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং বিশেষ আকর্ষণ, যা মাড়োয়ারি সংস্কৃতি মঞ্চের দল বিশেষভাবে প্রস্তুত করেছিল। দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও আনন্দেভরা পরিবেশ, যা দীপাবলির ঐক্য, আশা ও সুখের মর্মার্থকে উজ্জ্বল ভাবে তুলে ধরে।





