শূন্য রানে আউট হয়ে লজ্জার রেকর্ডের তালিকায় আরও উঠলেন বিরাট কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আট বলে শূন্য রানে আউট হয়ে যান। আর তার ফলে ‘ডাক’-র তালিকায় আরও উঠলেন। আপাতত সেই তালিকায় তিন নম্বরে আছেন বিরাট। সামনে আছেন স্রেফ দুই পেসার। বিরাট কোহলির নামের সঙ্গে জুড়ে গেল লজ্জাজনক রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে খাতা না খুলেই আউট হয়ে যান বিরাট। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ৩৯ তম ‘ডাক;। সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়া ভারতীয়দের তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তবে এক নম্বরে থাকা খেলোয়াড়ের সঙ্গে এখন আর বেশি পার্থক্য নেই। বিরাট কোহলির নামের সঙ্গে জুড়ে গেল লজ্জাজনক রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে খাতা না খুলেই আউট হয়ে যান বিরাট। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ৩৯ তম ‘ডাক;। সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়া ভারতীয়দের তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তবে এক নম্বরে থাকা খেলোয়াড়ের সঙ্গে এখন আর বেশি পার্থক্য নেই। ভারতের প্রাক্তন তারকা পেসার জহির খানের নামেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তিনি কেরিয়ারে মোট ৪৩ বার শূন্য রানে (ডাক) আউট হয়েছেন। বিরাট এবং জাহির খানের মধ্যে এখন মাত্র চারটি ডাকের পার্থক্য রয়েছে। ইশান্ত শর্মা সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন। ইশান্ত শর্মা ভারতের হয়ে ১০৫টি টেস্ট, ৮০টি একদিনের ম্যাচ এবং ১৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলেছেন। নিজের কেরিয়ারে তিনি মোট ৪০ বার খাতা না খুলেই আউট হয়েছেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ডাকের সংখ্যা হল ৪০। এই তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিংয়ের ডাকের সংখ্যা হল ৩৭। এই তালিকায় বিরাটের পরে চতুর্থ নম্বরে রয়েছেন। ভাজ্জি ভারতের হয়ে ১০৩টি টেস্ট, ২৩৬টি একদিনের ম্যাচ এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। তালিকার প্রথম পাঁচে আছেন জসপ্রীত বুমরাহও। টিম ইন্ডিয়ার ফাস্ট বোলার বুমরাহও এই তালিকায় রয়েছেন পাঁচ নম্বরে। বুমরাহ এখনও পর্যন্ত তাঁর কেরিয়ারে ৩৫ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। ভারতের তারকা পেসার ৫০টি টেস্ট (৭৪টি ইনিংস), ৮৯টি একদিনের ম্যাচ (২৬টি ইনিংস) এবং ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে (আটটি ইনিংস)।
পার্থে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করেছে ভারত। অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য হওয়ার কথা ছিল ১৩৭ রান। কিন্তু ভারতের ইনিংসের পর দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ১৩৭ রান থেকে কমে ১৩১ রান হয়েছে। প্রথম ইনিংসে চার বার বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকে। ফলে ওভার ৫০ থেকে কমে হয় ২৬। ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে বদলে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য। বৃষ্টির কারণে কোনও ম্যাচে ব্যাঘাত ঘটলে, অর্থাৎ, ওভার কমে গেলে ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়ম কাজে লাগানো হয়। সেই নিয়মে ঠিক হয় লক্ষ্য কী হবে। এই নিয়মে দু’টি ফল হতে পারে। কোনও দল শুরুতে যা রান করেছে, প্রতিপক্ষের সামনে লক্ষ্য তার থেকে বেশি হতে পারে। আবার প্রতিপক্ষের লক্ষ্য কমেও যেতে পারে। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে দ্বিতীয় ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি শুরু হতেই পপকর্ন নিয়ে রোহিতের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডা শুভমনের! ‘গম্ভীর’ সাজঘর মাতিয়ে দিলেন শর্মাজি। পার্থে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত উইকেট হারায় ভারত। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শুভমন গিল তাড়াতাড়ি আউট হন। প্রথম বার খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ভারত ২ উইকেট হারিয়েছিল। দ্বিতীয় বার খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল শুভমনদের। যেহেতু ভারতের উইকেট পড়ে গিয়েছিল, তাই ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য কমে গিয়েছে। যদি ভারতের একই রানে উইকেট না পড়ত তা হলে লক্ষ্য বাড়ত। অর্থাৎ, উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হল শুভমনদের।
আরও এক বার টস হারলেন শুভমন। ফলে কঠিন পরিস্থিতিতে শুরুতে ব্যাট করতে হল ভারতকে। রোহিতকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, টাইমিংয়ে সমস্যা আত্মবিশ্বাসের অভাব। ৮ রানের মাথায় জশ হেজ়লউডের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রোহিত। কোহলি খাতাও খুলতে পারেননি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়েই খেসারত দিতে হল। মিচেল স্টার্কের বলে একটি শট মারতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেন না। হাওয়ায় খেললেন। পয়েন্টে ক্যাচ ধরলেন কুপার কোনোলি। শূন্য রানে ফিরলেন কোহলি। দুই উইকেট পড়ার পর এক বার খেলা বন্ধ হয়। খেলা শুরু হওয়ার পর আউট হন শুভমন। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দেন তিনি। একই অবস্থা শ্রেয়স আয়ারের। তিনিও লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ফেরেন। শুভমন ১০ ও শ্রেয়স ১১ রান করেন। চার উইকেট পড়ার পর আবার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়। এ বার অনেকটা সময় নষ্ট হয়। ফলে খেলা কমে দাঁড়ায় ৩২ ওভার। শেষ পর্যন্ত তা আরও কমে হয় ২৬ ওভার। হঠাৎ করে ওভার কমে যাওয়ায় চাপে পড়ে যান ভারতীয় ব্যাটারেরা। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন অক্ষর পটেল ও লোকেশ রাহুল। তাঁদের ব্যাটে ১০০ পার হয় ভারতের। অক্ষর ৩১ ও রাহুল ৩৮ রান করেন। শেষ দিকে নীতীশ রেড্ডি ১৯ রান করে ভারতকে ১৩৬ রানে নিয়ে যান। কিন্তু ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ভারতের রান হয় ১৩০। অস্ট্রেলিয়ার হেজ়লউড, মিচেল ওয়েন ও ম্যাথু কুহনেমান ২ করে উইকেট নেন। স্টার্ক ও নেথান এলিস নেন ১ করে উইকেট। বৃষ্টি শুরু হতেই পপকর্ন নিয়ে রোহিতের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডা শুভমনের! ১৩১ রানের লক্ষ্যে দুই ওপেনার ট্রেভিস হেড ও অধিনায়ক মার্শের উপর দায়িত্ব। হেড শুরুটা ভাল করেন। প্রথম ওভারেই দু’টি চার মারেন। কিন্তু পরের ওভারের অর্শদীপ সিংহের বলে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। তিন নম্বরে নেমে ম্যাথু শর্টও বেশি রান পাননি। তাঁকে আউট করেন অক্ষর। হেড আউট হওয়ায় মার্শের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অধিনায়কের ইনিংস খেললেন তিনি। পার্থ তাঁর ঘরের মাঠ। এই মাঠের বাউন্স তিনি ভাল ভাবে জানেন। তাই প্রতি ওভারে একটি করে বড় শট মারতে সমস্যা হচ্ছিল না মার্শের। জশ ফিলিপ তাঁকে সঙ্গ দেন। তিনিও মাঝে মাঝে বড় শট মারছিলেন। ৩৭ রান করে আউট হন ফিলিপ। ভারতীয় বোলারেরাও হতাশ করলেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দেখে শিখতে হবে তাদের। পরিবেশ খুব একটা বদলায়নি। কিন্তু অর্শদীপ, সিরাজ, হর্ষিতদের বিরুদ্ধে বড় শট খেলতে সমস্যা হল না অসি ব্যাটারদের। ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়া যত লক্ষ্যের কাছে পৌঁছোচ্ছিল, চাপ বাড়ছিল ভারতের। শুভমন তাঁর হাতের সব তাস খেলে ফেলেন। প্রত্যেক বোলারের হাতে বল তুলে দেন। তার পরেও ম্যাচ জিততে পারেননি তিনি। মার্শ ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন





