RK NEWZ ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ বুধবার। সকাল থেকে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও একাধিক এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝামেলার খবর মিলেছে। নদিয়ার চাপড়া, শান্তিপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কলকাতার এন্টালির একটি বুথে বিজেপি এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রিয়াঙ্কা তিবরেওয়াল প্রতিবাদ জানান। বচসায় জড়ান নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে। বালিতে বুথের সামনে ঝামেলার জন্য চ্যাংদোলা করে একজনকে সরিয়ে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। নদিয়ার চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৩ নম্বর বুথে এক বিজেপি এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মোশারফ মীর নামে ওই এজেন্টকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিজেপির দাবি, হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কলকাতার এন্টালিতে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা তিবরেওয়াল বুথে তাঁর এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দেওয়া নিয়ে নির্বাচনী আধিকারিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ঘর ছোট হওয়ার অজুহাতে তাঁর এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে তৃণমূল প্রার্থীর প্রতিনিধিও সেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে দু’জনকেই বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভাঙড়ে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, শান্তিপুরে একটি বিজেপি শিবিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। হাওড়া-সহ বেশ কিছু জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) বিকল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইভিএম ত্রুটির জেরে অনেক বুথেই দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাদের সাধারণ ভোটারদের টার্গেট করছে। বাইরে থেকে অনেক পর্যবেক্ষক নিয়ে আসা হয়েছে যারা বিজেপির কথায় চলছে।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভবানীপুরে ভোট দিয়ে বেরোনোর সময় পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে তাঁদের এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করার অভিযোগ তোলেন। এই দফার সবচেয়ে নজরকাড়া লড়াই হচ্ছে ভবানীপুর কেন্দ্রে। ২০১১ সাল থেকে এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের লড়াই অত্যন্ত প্রেস্টিজ ফাইট। নিজের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। প্রথম দফায় রেকর্ড ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদানের পর এই দফাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষ বুথমুখী হয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে ভোটের সকালেই উত্তেজনার আবহ। পানপুরের ৩৪ নম্বর বুথের কাছ থেকে হঠাৎ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় তৈরি হয় চাঞ্চল্য। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় তৎপরতা। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য অশান্তি এড়ানো গিয়েছে বলে জানা গেছে। শিবদাসপুর থানার পুলিশ জানায়, জগদ্দল বিধানসভার পানপুর কেউটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলে বুথের একদম পাশ থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা অস্ত্রটি সেখানে রেখে গিয়েছিল এবং উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বুথের আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে, টহলও বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের সকালে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোই এ ধরনের কাজের উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই ভোটে প্রভাব ফেলতে অস্ত্র মজুত করে রেখেছিল। তিনি আরও জানান, সকাল থেকেই বুথগুলোতে লম্বা লাইন- ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় বাহিনীও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও এই একই জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার কড়া হয়েছিল। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের আতঙ্কিত করতে অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। তিনি দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারির দাবি জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক পরীক্ষায়। পাশাপাশি স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুথে যেন কোনওভাবেই বিশৃঙ্খলা না ছড়ায়, সেজন্য বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী। এদিকে, সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হতেই জগদ্দল বিধানসভায় ভোটারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও কোনও গোলমাল হয়নি বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। তবে বুথের পাশ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগের পরিবেশ। সব মিলিয়ে, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভোটের দিনে অস্বস্তি তৈরি হলেও প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দ্রুত উদ্যোগে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। তদন্তে কারা এই ঘটনায় যুক্ত, তা শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে আশা পুলিশের।





