রাজ্য বিজেপির পরবর্তী সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার শুরু হয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। ঐক্যমতের ভিত্তিতে একমাত্র মনোনয়নপত্রটি জমা দেবেন শমীকবাবু। বুধবার দুপুরে তাঁকে দিল্লি থেকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডা। তাঁর নাম নিয়ে যে চূড়ান্ত সহমতি স্বীকার করেননি শমীকবাবু। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সুকান্ত মজুমদারের পর পরবর্তী সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা চরমে পৌঁছয়। এরই মধ্যে দিল্লিতে ডাক পড়ে শমীকবাবুর। সেখানে জেপি নড্ডার বাসভবনে দেখা যায় তাঁকে। এর পরই তিনিই যে রাজ্য বিজেপির পরবর্তী সভাপতি হতে চলেছেন তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বেলা ২টো নাগাদ বিধাননগরে দলের সাংগঠনিক সদর দফতরে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেবেন শমীকবাবু। কোনও মনোনয়ন জমা পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানা গিয়েছে বিজেপি সূত্রে। ফলে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতি হিসাবে শমীকবাবুর নাম ঘোষণা সময়ের অপেক্ষা। সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি শমীক ভট্টাচার্য। পুরোটাই দলের আভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া বলে দাবি করেছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা আভাস দিয়েছিলেন সোমবার সন্ধ্যাতেই। বুধবার বেলা ১২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশও চলে এল কলকাতায়। রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যকেই রাজ্য সভাপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বললেন দিল্লির নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, সুকান্তের পরে শমীকই হতে চলেছেন বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতি। অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।
বুধবার দুপুরে বিজেপির সল্টলেক দফতরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শমীক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। শমীকই ঘোষিত হবেন সুকান্ত মজুমদারের উত্তরসূরি হিসাবে। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে যোগ দেন তিনি। ওই দিন সন্ধ্যাতেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নড্ডার বাড়িতেও তাঁর আমন্ত্রণ ছিল। সল্টলেকে বিজেপির দফতরে মনোনয়ন জমা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সঙ্গে রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীও। প্রতিনিধিদলগুলির বিজেপি নেতানেত্রীদের নিজেদের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নড্ডা। ঘটনাচক্রে, আমন্ত্রিতের তালিকায় যেমন শমীক ছিলেন, তেমনই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদও ছিলেন।বিজেপি সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধ্যায় নড্ডা নিজের বাসভবনের সেই কর্মসূচিতেই শমীককে আসন্ন দায়িত্বের আভাস দিয়ে দেন। এর পরে বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার কিছু পরে দিল্লি থেকে শমীকের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফোনও আসে। ওই ফোনেই তাঁকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে বলা হয় বলে সূত্রের খবর। একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়েই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শমীক। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল, আগামী ৪ জুলাই দিল্লি থেকে ফিরতে পারেন। দলীয় সূত্রে খবর, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বুধবার সকালেই তাঁকে কলকাতায় ফিরে আসতে বলা হয়। সেই মতো বুধবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের উড়ানে কলকাতায় পৌঁছোন তিনি। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলও কলকাতায় আসেন তাঁর সঙ্গে। এখনও পর্যন্ত যা খবর, নির্ধারিত সময়েই বিজেপির সল্টলেক দফতরে গিয়ে নিজের মনোনয়ন জমা দেবেন শমীক। বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বের সঙ্গে ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’ সংক্রান্ত একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। সেই বৈঠক চলাকালীনই বনসল বঙ্গ বিজেপির পরবর্তী মেয়াদের সভাপতি নির্বাচনের নির্ঘণ্ট রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বুধবার মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার পরে সে দিনই তা ‘স্ক্রুটিনি’ করা হবে। কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চাইলে তা-ও সেই দিনই করে নিতে হবে। বুধবারই চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করে দেবে বিজেপি। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বৃহস্পতিবার রাজ্য সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে দ্বিতীয় কোনও মনোনয়ন জমা না পড়লে আজই চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতির নাম।

নতুন পুরনো বিতর্ক থাকবে না। বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। দিল্লির নির্দেশে রাজ্য বিজেপির পরবর্তী সভাপতি হতে চলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। আর মনোনয়ন জমা দিতে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলে আদি – নব্যর দ্বন্দ মেটানোর বার্তা দিলেন তিনি। সঙ্গে তাঁর দাবি, মানুষ ঠিক করে নিয়েছে মানুষ পরিত্রাণ চায়। তৃণমূলের বিসর্জন চায়। শমীকবাবু বলেন, ‘সুনীল বনসলজি এসেছেন, সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা করে তাঁরা যাকে মনোনয়ন দিতে বলবেন তিনি মনোনয়ন জমা দেবেন। সভাপতি তো একটা বহমানতা। একটা টিম গেম। সঙ্ঘবদ্ধভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি লড়াই করবে। নতুন পুরনোর দ্বন্দ থাকবে না। জামানত বাজেয়াপ্ত হবে জেনেও যাঁরা ঘাম রক্ত ঝরিয়েছিলেন তারাও থাকবেন। তারা না থাকলে দল এই জায়গায় আসত না। যারা নতুন এসেছেন, অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে বিজেপি করছেন তারাও থাকবেন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। পুরনোদেরও বুঝতে হবে সংগঠনের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ নিতে হয়। কুমোরটুলি থেকে অর্ডার দিয়ে আনা যায় না। নতুন পুরনোর বিতর্ক কিছু থাকবে না। এই নির্বাচন আমাদের হাতে নেই। মানুষ ঠিক করে নিয়েছে মানুষ পরিত্রাণ চায়। মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ বাঁচতে চায়। মানুষ বাংলাকে বাঁচাতে চায়। আর তৃণমূলের বিসর্জন চায়।’
খড়গপুরে প্রবীণ সিপিএম নেতা অনিল দাসকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় এখনও অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলেকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। ওদিকে আক্রান্ত বাম নেতার সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন স্থানীয় বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। অনিলবাবুকে পাশে দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, এই ধরণের মহিলাদের আমরা সমাজ থেকে আলাদা করব। আর যে ছোটলোক নেতারা এই মহিলাদের পিছনে রয়েছে তাদের প্রকাশ্যে আনব। বুধবার খড়গপুরে অনিলবাবুর বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন দিলীপবাবু। প্রবীণ বাম নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। তিনি বলেন, ‘যে অপরাধ করেছে সে থানায় বসে চা খেয়ে এসেছে। এফআইআর করার আগেই তৃণমূল নেতা থানায় পৌঁছে যাচ্ছে। হবে সে লিখে দিচ্ছে। একজন সাধারণ মানুষ থানায় গেলে চার দিন ঘোরায় পুলিশ। একটা এফআইআর নেয় না। এই যদি পুলিশের ক্যারেক্টার হয় তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? তৃণমূল শুধু পুরসভা জিতেছে তার জন্য যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সাংসদ, বিধায়ক সাংসদ জিতলে কী করবে? এই মহিলারাই আমার সঙ্গে এই ধরণের অপকর্ম করতে চেয়েছিল। আমাকে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। আমার গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেছিল। এই ধরণের মহিলাদের আমরা সমাজ থেকে আলাদা করব। আর যে ছোটলোক নেতারা এই মহিলাদের পিছনে রয়েছে তাদের প্রকাশ্যে আনব।’
মোদী-দিদি ‘সেটিং’-এর অভিযোগ বঙ্গের রাজনৈতিক তর্কবিতর্ক। নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সত্যিই কোনও ‘সেটিং’ আছে কি না, ‘কেন্দ্রে মোদী-রাজ্যে দিদি’ ফর্মুলায় বঙ্গের রাজনীতিতে কোনও নেপথ্য সমীকরণ তৈরি করে রাখা চর্চা মাঝেমধ্যেই। সদ্যসমাপ্ত কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের প্রচারপর্বে বিজেপি নেতৃত্ব ‘সেটিং’ তত্ত্ব। দলের কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সেই তত্ত্বকে ভাষ্যে পরিণত করা যাবে। ১৯ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন। সেখানে প্রচার চলাকালীন সাংগঠনিক প্রস্তুতি সুনিশ্চিত করতে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সংগঠন অমিতাভ চক্রবর্তী কালীগঞ্জে গিয়ে ‘সেটিং’ তত্ত্ব নিয়ে তাঁকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিলেন বিজেপিরই এক কর্মী। ওই কর্মী তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘চায়ের দোকানে সকলে বলে, দিদি-মোদি সেটিং রয়েছে। এই প্রচারে আমাদের খুব অসুবিধা হয়। আমরা মানুষকে বোঝাতে পারি না।’’ অমিতাভ ওড়িশার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের আগে তিনি ওড়িশায় বিজেপির সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। সেখানকার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতেন এবং তাঁর জন্য প্রভু জগন্নাথের প্রসাদ নিয়ে যেতেন। সকলে বলতেন, নবীন-মোদী সেটিং। কেন্দ্রে মোদী, রাজ্যে নবীন। সেই সূত্রেই অমিতাভ বলেন, ‘‘ওড়িশায় তখন অনেকেই বলতেন, যত দিন নবীন জীবিত, তত দিন বিজেপি ওড়িশায় ক্ষমতায় আসবে না। কিন্তু বিজেপি তার বিজয় সংকল্পে অবিচল ছিল। ওড়িশায় নবীনকে সরিয়ে বিজেপি সরকার গড়ে প্রমাণ করেছে, সেটিংয়ের প্রচার অসত্য ছিল। পশ্চিমবঙ্গেও তা প্রমাণিত হবে।’’ ‘সেটিং’ তত্ত্ব নস্যাৎ করতে এমন উদাহরণ বিজেপির তরফে এর আগে শোনা যায়নি। এত দিন ওই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়লে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের নানা সংঘাতের ঘটনাকে ‘সেটিং’ না-থাকার প্রমাণ হিসেবে বিজেপি কর্মীরা তুলে ধরতেন। সিবিআই-ইডির অভিযানের কথা বলতেন। হিসাবের অভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে দেওয়ার কথাও মনে করাতেন। রাজ্য জুড়ে বিজেপি কর্মীদের উপরে তৃণমূলের ‘অত্যাচারের’ উদাহরণ দিতেন। কিন্তু কোনও নিশ্চিত প্রমাণ তাঁদের কাছে ছিল না। কালীগঞ্জে অমিতাভ সেই ‘প্রমাণ’ দিতে পেরেছেন বলে বিজেপির অনেকে মনে করছেন।
বঙ্গভোটের ফল নির্ধারণে ‘সেটিং’ তত্ত্বের বিন্দুমাত্র ভূমিকা থাকবে না বলে রাজ্য বিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ‘‘তৃণমূলকে সরাতে যদি কেউ পারে, সেটা বিজেপিই পারবে, এ কথা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষ জানেন। কে কী মনগড়া তত্ত্ব খাড়া করছেন, তার কোনও প্রভাব ২০২৬ সালের ভোটে পড়বে না।’’ প্রত্যাশিত ভাবেই এই প্রসঙ্গে তৃণমূলেরও একই সুর। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের কথায়, ‘‘এমন বিভিন্ন কাগুজে তত্ত্ব খাড়া করে কি ভোট হয়? কোনও দলের সঙ্গে কোনও দলের প্রকাশ্য সমঝোতা বা জোট থাকলে অন্য কথা। কিন্তু তা না থাকলে কার সঙ্গে কার অন্তর্নিহিত বোঝাপড়া রয়েছে, সে সব গল্প শুনিয়ে মানুষের ভোট নেওয়া যাবে? নিজেদের শক্তিতে জনগণের মন জয় করার ক্ষমতা যে সব দলের নেই, তারা অন্য দল সম্পর্কে কিছু কুৎসা করে নেতিবাচক ভোট জোগাড়ের চেষ্টা করে। সিপিএমের ‘সেটিং’ তত্ত্বকে তার চেয়ে বেশি কিছু বলে আমি মনে করি না। পশ্চিমবঙ্গে এমন তত্ত্বের উপরে কখনও ভোট হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না।’’
‘সেটিং’ তত্ত্বের ‘জনক’ সিপিএম দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য, ‘‘অমিতাভ চক্রবর্তী যে কথা বলেছেন, সেটা কোনও পাল্টা তত্ত্বই নয়! এটা আসলে আমাদের তত্ত্বকেই আরও প্রতিষ্ঠা দেওয়া। ওড়িশায় বিজেডি বা বিজেপি তো পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক লড়াই লড়েইনি। নবীনের সঙ্গে মোদী সুসম্পর্ক রেখে গিয়েছেন। আর সংসদে বিভিন্ন বিল পাশের ক্ষেত্রে সরকারকে বিজেডি সমর্থন করে গিয়েছে। বিজেপি এ ভাবে অনেক দলকে গিলে খেয়েছে। যত ক্ষণ বিজেপির মনে হয়েছে, এই ভাবে চালানো দরকার, তত ক্ষণ বিজেডি ক্ষমতায় থেকেছে। যখন বিজেপি বুঝেছে যে, এ বার একার ক্ষমতাতেই সব করতে পারবে, তখনই বিজেডিকে গিলে খেয়েছে। এ রাজ্যে তৃণমূলকে বিজেপিই ক্ষমতায় রেখে দিয়েছে। যাতে বামেরা সরকারে না আসতে পারে। এক দিকে তৃণমূলকে টিকিয়ে রাখছে, অন্য দিকে নিজেরা শক্তিবৃদ্ধি করছে। যখন বুঝবে, তৃণমূলকে টিকিয়ে রাখার আর প্রয়োজন নেই, তখন তাদের সরিয়ে দেবে। আর তৃণমূলেরই একটা অংশ তখন বিজেপিতে জুড়ে যাবে। দিল্লিতেও বিজেপি একই ছকে ক্ষমতা দখল করেছে। দিল্লির ক্ষেত্রে আপ তবু কোনও কোনও বিষয়ে বিজেপির নীতির বিরোধিতা করত। তাতেও টিকে থাকতে পারল না। আর পশ্চিমবঙ্গে তো তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির কোনও রাজনৈতিক বিরোধই নেই। বিজেপির লোকজনকে তৃণমূল ব্যক্তিগত আক্রমণ করে। কিন্তু নীতিগত কোনও বিষয়ে বিরোধিতা করে না।’’
রাজ্যে সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু। বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার উত্তরসূরির নামও চলতি মাসের শেষের দিকে ঘোষণা হয়ে যাবে বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর। ৩৭টি সাংগঠনিক রাজ্যের মধ্যে কমপক্ষে ১৮টি রাজ্যে সভাপতি নির্বাচন হয়ে গেলেই নাড্ডার উত্তরসূরির নাম ঘোষণা হবে। তারপরই দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আবার ৪ থেকে ৬ জুলাই দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রান্ত ও ক্ষেত্র প্রচারকদের অধিবেশন রয়েছে। সেখানে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান সংঘের এক মুখপাত্র। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে রাজ্যে চলছে বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ত্বরান্বিত হচ্ছে বিজেপির জাতীয় সভাপতির নাম ঘোষণার সম্ভাবনা। বিজেপির সংবিধান অনুসারে জাতীয় সভাপতি নির্বাচন করতে হলে গোটা দেশের যে ৩৭টি সাংগঠনিক রাজ্য রয়েছে, তার মধ্যে অন্ততপক্ষে ১৯টিতে সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতেই হবে। মঙ্গলবার ১৯টি রাজ্যে সভাপতি নির্বাচন সম্পূর্ণ হতে চলেছে। সোমবারই পুদুচেরি ও মিজোরামে বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। যে রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে অনেকেই পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কর্নাটক এবং মধ্যপ্রদেশে বিজেপির রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা হবে। মহারাষ্ট্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার বর্তমান কার্যকরী সভাপতি ও চারবারের বিধায়ক রবীন্দ্র চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে। উত্তরাখণ্ডে আবার সভাপতি হিসাবে পুনরায় দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ মহেন্দ্র সিং ঘাটি। একের পর এক রাজ্যে বিজেপির সভাপতি পদের নাম ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল মনে করছে, চলতি জুলাই মাসেই জে পি নাড্ডার উত্তরসূরির নাম ঘোষণাও শুধু সময়ের অপেক্ষা। নাড্ডার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। তবে সবটাই নির্ভর করছে সংঘের ওপর। সেই ইঙ্গিতও মিলেছে। চলতি সপ্তাহে সংঘের তিনদিনের অধিবেশনে হাজির থাকার কথা বিজেপি শীর্ষনেতৃত্বের। সেখানেই সর্বভারতীয় সভাপতির নাম চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য সভাপতি পদের দায়িত্বে শমীক ভট্টাচার্য। জল্পনা অবসানের পথে। দিল্লি থেকে ফিরেই বিজেপি নেতার মনোনয়ন পেশ করবেন। আর কোনও মনোনয়ন জমা পড়ে নি। শমীক ভট্টাচার্যই রাজ্য বিজেপির সভাপতি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচনে প্রক্রিয়া সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে একজনই সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেন। তিনি শমীক ভট্টাচার্য। সেক্ষেত্রে কোনও ভোটাভুটি হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের পরে ওইদিনই রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে কারা ভোট দেবেন, সেই তালিকাও ইতিমধ্যে প্রকাশ করে দিয়েছে বিজেপি। তালিকায় ২৯৪ জনের নাম রয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকা থেকে একজন করে প্রতিনিধি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নয়া রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা ও সভাপতি বরণ অনুষ্ঠান হবে সায়েন্স সিটি চত্বরে।




