সিএবি কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ! সিএবিতে আর্থিক কেলেঙ্কারি, তোলপাড় বাংলার ক্রিকেট। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী। সিএবিতে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিদ্ধ খোদ সিএবির কোষাধ্যক্ষ! যা নিয়ে তোলপাড় বাংলার ক্রিকেট। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিএবির কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে লেক থানায় অভিযোগ করেছে তাঁরই ক্লাব উয়ারী। অভিযোগ দুটো। এক, লোধা কমিটির নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট দেখিয়ে এক ব্যক্তি এক পদ আইন লঙ্ঘন করে তিনি একই সঙ্গে ক্লাবের সচিব এবং সিএবির কোষাধ্যক্ষ দুই পদ সামলেছেন। দুই, ক্লাবের ৭০ লক্ষ টাকা তিনি তার ব্যক্তিগত একাউন্টে এবং নিজের কোম্পানিতে চালান করেছেন। অভিযোগ সিএবি ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য পেয়েছেন। ক্লাবের তরফে প্রবীরবাবুর বিরুদ্ধে লেক থানায় অভিযোগ ও দায়ের করা হয়েছে। শনি বেলা বারোটার সময় সিএবির এথিক্স কমিটি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। যে খানে দু পক্ষের শুনানি হয়েছে। ৫ জুলাই দু পক্ষকে ডেকেছেন সিএবির এথিক্স অফিসার। ১৯ জুলাই ইডেন গার্ডেন্সে শুনানি ডেকেছেন সিএবির ওম্বুডসম্যান। বেনজির সেই ঘটনা ঘিরেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছে সিএবি-র অন্দরে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পেয়ে তৎপর হয়েছেন সিএবি-র ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য। ঘটনার সূত্রপাত ময়দানের শতাব্দীপ্রাচীন উয়াড়ি ক্লাবের ছয় সদস্যের অভিযোগ ঘিরে। উয়াড়ি ক্লাবের সচিব, যিনি আবার সিএবি-র কোষাধ্যক্ষও, সেই প্রবীর চক্রবর্তী আর্থিক বেনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ তুলে গত ৩০ মে লেক থানা ও আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ছয় সদস্য। আলিপুর আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মৌমিতা রায় ১৮ জুন রায় দেন যে, এই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে তদন্ত করতে হবে লেক থানার অফিসার ইন চার্জকে। ২ জুলাই লেক থানার ওসি-র প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টেও তলব করেছেন। সেপ্টেম্বরে মেয়াদ শেষ হচ্ছে সিএবির বর্তমান পরিচালন কমিটির। নির্বাচনের আগে সিএবির কোষাধ্যক্ষের এই আর্থিক দুর্নীতির আঁচ সেই নির্বাচনে কতটা পড়ে, সেটা দেখতেই মুখিয়ে বাংলার ক্রিকেট মহল।

আইনি যুদ্ধ। যে ম্যাচের একদিকে সিএবির কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী। অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতে জড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগের পাহাড় সাজিয়ে রাখা আইনজীবীর দল। আম্পায়ারের মতো যে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সিএবি-র এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএবি-র সচিবের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে থানা, আদালত ও সিএবি-র দ্বারস্থ হয়েছিলেন উয়াড়ি ক্লাবের একদল সদস্য। অভিযোগ এক, লোঢা কমিটির সুপারিশ মেনে গঠিত সিএবি-র সংশোধিত গঠনতন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একসঙ্গে দুই পদে বিরাজমান প্রবীর চক্রবর্তী। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি তিনি উয়াড়ি ক্লাবের সচিবও। অভিযোগ দুই, ধারে ও ভারে যা আরও মারাত্মক, প্রবীর চক্রবর্তী সিএবি-র উয়াড়ি ক্লাবের জন্য বরাদ্দ অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই আর্থিক বেনিয়মের এত বিস্ফোরক অভিযোগ উঠছে, বঙ্গ ক্রিকেটের ইতিহাসে এ ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, মনে করতে পারছেন না ময়দানের কেউই। সিএবি-র এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮ জুন গোটা ঘটনার শুনানি করেন। সেদিন অভিযুক্তের তরফে আরও সময় চাওয়া হয়েছিল বলেই খবর। প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় ২৮ জুন, শনিবার ফের একটা শুনানি ডেকেছিলেন। যে শুনানিতে প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে দাবি করা হল যে, তিনি উয়াড়ি ক্লাবের সচিব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আর খাটে না। শুনানিতে ছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব নরেশ ওঝা। সিএবি-র আইনজীবী সম্রাট সেন এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহায়তা করার (অ্যাসিস্ট) জন্য ছিলেন। প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে ছিলেন আইনজীবী দীপকরঞ্জন মুখোপাধ্যায়। উয়াড়ি ক্লাবের অভিযোগকারীদের তরফেও ছিলেন এক ঝাঁক আইনজীবী। প্রবীর চক্রবর্তীর আইনজীবী এথিক্স অফিসারের হাতে উয়াড়ি ক্লাবের সচিব পদ থেকে অভিযুক্তের ইস্তফাপত্রের কপি দেন। শোনা গেল, এথিক্স অফিসার জানান, ইস্তফা দিয়ে দিলে তো স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নের অবসান। যদিও উয়াড়ি ক্লাবের অভিযোগকারীদের আইনজীবীরা জানান, একসঙ্গে দুই পদে থাকাটাই যেখানে অবৈধ, সেখানে টাকা নয়ছয় করা হয়েছে স্বার্থের সংঘাত থাকাকালীন। সওয়াল করা হয়, কী করে কেউ অন্যায় করার পরে পদ ছেড়ে দাবি করতে পারেন যে, তিনি ইস্তফা দিয়েছেন এবং আর কোনও দায় তাঁর নেই! প্রবীর চক্রবর্তী ইস্তফাপত্রের যে কপি এথিক্স অফিসারকে দিয়েছেন, সেটি ১৬ জুনের। ঘটনা হচ্ছে, ৩০ মে প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। পরে ১৬ জুন আরও কিছু অভিযোগ যুক্ত হয়। প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে বলা হচ্ছে, অভিযোগ উঠতেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি ক্লাবকে পদের ফায়দা নিয়ে কোনও সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেননি বলেও জানান। কেন লোঢা কমিটির সুপারিশ জানার পরেও স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়েছিলেন প্রবীর চক্রবর্তী? কেন তিনি অভিযোগ ওঠার পর ইস্তফা দিলেন? তিনি কী করে ক্লাবের জন্য বরাদ্দ টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারেন? কেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষের পদে থেকে এতবড় আর্থিক বেনিয়ম করলেন? কেন প্রায় ১০ বছর উয়াড়ি ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা হয়নি? সিএবি-ও নিষ্কণ্টক হতে পারছে না। প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং একাধিক তদন্ত ও মামলা চলছে জেনেও কেন তাঁকে সাময়িকভাবে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না, জোরাল প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে, অতীতে যখন সহকারী সচিব থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোশেন্ট পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে তৎক্ষণাৎ সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫ জুলাই পরবর্তী শুনানি ডেকেছেন এথিক্স অফিসার। ১৯ জুলাই রয়েছে ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের শুনানি। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সিএবির ওম্বাডসম্যান পর্যন্ত গড়িয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই বিষয়টির শুনানি করতে চলেছেন তিনি। যেখানে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। তার আগে আগামী শনিবার দুপুরে সিএবিতে এথিক্স অফিসারের কাছে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিএবির কোষাধ্যক্ষকে। সিএবি কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পদে থাকার অভিযোগ। বাংলা ক্রিকেটে নজিরবিহীন ঘটনা। বাংলা ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা সিএবির কোষাধক্ষ্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠল। আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি আইন বহির্ভূতভাবে ক্লাব এবং সিএবির পদে একসঙ্গে থাকার অভিযোগ জমা পড়ল কোষাধক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনার সূত্রপাত মাসখানেক আগে। সিএবি কোষাধ্যক্ষের ক্লাব শতাব্দী প্রাচীন উয়াড়ির তরফে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ তুলে দক্ষিণ কলকাতার লেক থানা ও আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন ক্লাবের ছয় প্রতিনিধি। পরবর্তী সময়ে তাঁরাই ঘটনার কথা জানান সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে। তাদের তরফে কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ পাতার অভিযোগ জমা পড়ে সিএবিতে। যেখানে আর্থিক বিনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দুই জায়গায় পদে বসে থাকার অভিযোগ তোলা হয়।

সিএবি জয়েন্ট সেক্রেটারি অর্থাৎ যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাসও বারবার জড়িয়ে পড়েছেন নানান কেলেঙ্কারীতে। বাংলার ক্রিকেটে বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে বিদ্ধ দেবব্রত দাস। এছাড়াও বাংলা তথা দেশের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার বাংলা ছেড়ে যাওয়ার পিছনে অন্যতম অভিযুক্ত এই দেবব্রত দাস। পরে প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসেডেন্টের সুহস্তক্ষেপে ফিরে আসেন ঋদ্ধিমান। যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাসদের মতো কিছু কর্তাদের জন্য বারবার বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় বাংলা ক্রিকেটকে। অভিযোগ সিএবি ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য পেয়েছেন। চিঠিতে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়, সিএবি থেকে উয়াড়ি ক্লাব প্রতিবছর যে অনুদান পায়, সেই অর্থ কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ ক্লাবের ক্রিকেটের অনুদানের জন্য যে টাকা দেওয়া হয় সেই টাকা প্রবীর চক্রবর্তী নিজেই সই করে সিএবি থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন, কিন্তু তা ক্লাব অ্যাকাউন্টে জমা করেননি। যদিও পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। সিএবি কোষাধ্যক্ষ তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন, অতীতে উয়াড়ি ক্লাব পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু অর্থ খরচ করেছিলেন তিনি। সেই টাকাই সিএবি থেকে ক্লাবের নামে তুলেছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে কি এমনটা করা যায়? তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আর্থিক বিনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি সিএবি কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি, একাধিক পদে বসে থাকার অভিযোগও করা হয় সেই চিঠিতে। সিএবি কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে প্রবীরবাবু কীভাবে উয়াড়ির সচিব পদেও কী করে থাকেন, তা নিয়েও অভিযোগ করা হয়। এক ব্যক্তি একাধিক পদে একসঙ্গে থাকার ঘটনাটি লোঢা কমিটির সুপারিশ মেনে তৈরি হওয়া সংশোধিত সিএবি-র গঠনতন্ত্রের ৬৭ (৪) ধারার বিরোধী। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সিএবির ওম্বাডসম্যান পর্যন্ত গড়িয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই বিষয়টির শুনানি করতে চলেছেন তিনি। যেখানে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। তার আগে আগামী শনিবার দুপুরে সিএবিতে এথিক্স অফিসারের কাছে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিএবির কোষাধ্যক্ষকে। অতীতে বাংলা ক্রিকেটে একাধিক বিতর্কে ময়দান উত্তাল হয়েছে। অতিরিক্ত গাড়ির বিল, খাবারের অতিরিক্ত খরচ থেকে সিএবির চেয়ারকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ, এমনকী ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কে জড়িয়েছেন সিএবির কর্তা। তবে খোদ কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ অতীতে কখনও এসেছে কিনা, তা কারোর জানা নেই। এমন ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে বাংলা ক্রিকেটের অন্দরমহলে। যদিও এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সবাই। বিষয়টি আইনে বিচারাধীন বলে কোনও মন্তব্যে নারাজ কর্তারা। সিএবি কোষাধ্যক্ষের ক্লাব শতাব্দী প্রাচীন উয়াড়ির তরফে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ তুলে দক্ষিণ কলকাতার লেক থানা ও আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন ক্লাবের ছয় প্রতিনিধি। পরবর্তী সময়ে তাঁরাই ঘটনার কথা জানান সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে। তাদের তরফে কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ পাতার অভিযোগ জমা পড়ে সিএবিতে। যেখানে আর্থিক বিনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দুই জায়গায় পদে বসে থাকার অভিযোগ তোলা হয়। ময়দানের শতাব্দীপ্রাচীন উয়াড়ি ক্লাবের ছয় সদস্যের অভিযোগ, উয়াড়ি ক্লাবের সচিব, যিনি আবার সিএবি-র কোষাধ্যক্ষও সেই প্রবীর চক্রবর্তী আর্থিক বেনিয়মের সঙ্গে জড়িত। লেক থানা ও আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ছয় সদস্য। আলিপুর আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মৌমিতা রায় ১৮ জুন রায় দেন, এই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে তদন্ত করতে হবে লেক থানার অফিসার ইন চার্জকে। ৬ সদস্যের অভিযোগ, সিএবিকে কালিমালিপ্ত করছেন প্রবীর চক্রবর্তী। যা নিয়ে ৩০ মে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলিকে ৫ পাতার চিঠিও লেখেন তাঁরা। চিঠিতে লেখা হয়, সিএবি-র সংবিধান উপেক্ষা করে একইসঙ্গে দুই পদে রয়েছেন প্রবীর চক্রবর্তী উয়াড়ি ক্লাবের সচিব ও সিএবি-র কোষাধ্যক্ষের পদাধিকারী। প্রবীর চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ওদের ক্লাব কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। আমি ৩ বছর আগে সিএবিতে কোষাধ্যক্ষ হওয়ার সময় ক্লাবের সচিব পদ ছেড়ে দিই। আর ক্লাব আমাদের পুড়ে গেছিল। লকডাউনে কোনও খেলা হয়নি। সেই সব ইস্যু এনে মন গড়া কথা বলা হচ্ছে। আমাকে ডাকলে প্রমাণ সহ কথা বলব।’

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে কি জশপ্রীত বুমরাহ খেলবেন? ম্যাচের একদিন আগেও ঝেড়ে কাশলেন না অধিনায়ক শুভমান গিল। সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতের মতোই গিল বলে গেলেন, বুমরাহর খেলা না খেলাটা ঠিক করা হবে একেবারে শেষ মুহূর্তে। প্রয়োজনে ভারতের বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি বলে দাবি করেছেন অধিনায়ক। লাল বলের ক্রিকেটে এজবাস্টন টেস্টে কোনও সুখস্মৃতি সরবরাহ করেনি ভারতীয় টিমকে। কারণ, এ মাঠে কখনও টেস্ট জেতেনি ভারত। ভারত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজে ০-১ পিছিয়ে। এই অবস্থায় বুমরাহ এজবাস্টনে না খেলা মানে, ভারতের উপর চাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া। সমর্থক থেকে প্রাক্তনী, সকলেই প্রবলভাবে চাইছেন বুধবার বুমরাহকে নামিয়ে দেওয়া হোক। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ম্যাচের একদিন আগেও দলের সেরা পেসারকে নিয়ে রহস্য জিইয়ে রাখতে চাইছেন। বুমরাহ প্রসঙ্গে অধিনায়ক গিল বলেন, “জশপ্রীত বুমরাহকে পাওয়া যাবে। ও ফিট। তবে ওঁর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের দিকে নজর দিতে হবে। আমরা পরে চূড়ান্ত দল ঠিক করব।” ভারত অধিনায়ক বলছেন, “আমরা সঠিক বোলিং আক্রমণ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে বিপক্ষের ২০টি উইকেট নেওয়া যায় এবং লোয়ার অর্ডার কিছু রানও করতে পারে।” গিল জানিয়েছেন, এই সিরিজের আগেই তাঁদের জানা ছিল বুমরাহকে মাত্র ৩ ম্যাচের জন্য পাওয়া যাবে। বিষয়টা কঠিন। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট সেই মতো বিকল্প পরিকল্পনা সেরে রেখেছে বলেও দাবি ভারত অধিনায়কের। ইংল্যান্ড সফরের শুরুটা ভালো হয়নি ভারতীয় দলের। লিডস টেস্টে হার মানতে হয়েছে। এই ম্যাচে বুমরাহকে না পাওয়া গেলে তাঁর জায়গায় খেলার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা বাংলার পেসার আকাশ দীপের। চোটের সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগেছেন। অজি সফরের পর চোটের জন্য বাইরে চলে যেতে হয়েছিল। আকাশদীপ পুরোপুরি ফিট।

ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে জানিয়ে দিয়েছেন, এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টে পাওয়া যাবে জসপ্রীত বুমরাহকে। অর্থাৎ, দ্বিতীয় টেস্টে হয়তো তিনি বিশ্রাম নেবেন না। তবে ইংল্যান্ড সফরের আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিয়েছিল যে বুমরাহকে তিনটের বেশি টেস্ট খেলানো যাবে না। কোন কোন টেস্টে তিনি খেলবেন তা এখনও জানা যায়নি। তার মধ্যেই খবর, চাইলে তিনটের বেশি টেস্টেও খেলতে পারেন বুমরাহ। তবে তার জন্য একটা শর্ত মানতে হবে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ সোহম দেসাই জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়েই বুমরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বোর্ড। ২০১৪ সালে প্রথম পিঠের চোট ভুগিয়েছিল বুমরাহকে। সেই সময় থেকে তাঁকে চেনেন সোহম। কেন গত বছর অস্ট্রেলিয়ার গিয়ে বুমরাহ আবার চোট পেয়েছিলেন তার কারণ তিনি জানেন। সোহম বলেন, “বুমরাহ চোটের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ পড়ার পরেই ওকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বোর্ড। ঠিক করা হয়েছিল যে ইংল্যান্ডে ও তিনটে টেস্ট খেলবে। তিনটের বেশি টেস্ট বুমরাহ খেলবে কি না সেটা সম্পূর্ণ বুমরাহ ও ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। যদি সিরিজ় এমন জায়গায় যায় যে ভারতকে জিততেই হবে, সে ক্ষেত্রে বুমরাহ তিনটের বেশি টেস্টও খেলতে পারে। তবে একটা শর্ত মানতেই হবে। ওর শারীরিক ও মানসিক শক্তি খতিয়ে দেখে তবেই তিনটের বেশি টেস্ট খেলার অনুমতি দেবে মেডিক্যাল দল। নইলে ও খেলতে পারবে না। ২০১৪ সালের পর থেকে টেস্টে বুমরাহকে প্রতি দিন একটা নির্দিষ্ট ওভারের বেশি বল করতে নিষেধ করেছিলেন চিকিৎসকেরা। দরকারে দিনে ৫-৭ ওভার বেশি করা যেতে পারে। তবে প্রতিটা স্পেলের মধ্যে বিশ্রাম দিতে হবে। মেলবোর্নে সেই বিশ্রাম বুমরাহ পায়নি। তাই সিডনিতে ও সামলাতে পারেনি। আবার পিঠে চোট পেয়েছিল।” হেডিংলেতে প্রথম টেস্টে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বুমরাহ। দ্বিতীয় টেস্টে তিনি উইকেট না পেলেও তাঁকে সাবধানে খেলেছেন ইংরেজ ব্যাটারেরা। বুমরাহ থাকলে প্রতিপক্ষ চাপে থাকে। হেডিংলেতে হারের পর এজবাস্টনে জয়ে ফিরতে মরিয়া ভারতীয় দল। এই পরিস্থিতিতে বুমরাহ থাকলে শক্তি বাড়বে শুভমন গিলদের। যা খবর, বুমরাহকে হয়তো দেখা যাবে দ্বিতীয় টেস্টে।

বাংলার রিচার বিশ্বরেকর্ড। জেমাইমা-আমনজ্যোতদের দাপটে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল ভারতের মেয়েরা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও সহজ জয় ভারতের মেয়েদের। ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ভারতের মেয়েরা। জেমাইমা রদ্রিগেজ, আমনজ্যোতদের দাপটে ২৪ রানে জিতল হরমনপ্রীত কৌরের দল। বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বাংলার রিচা ঘোষ। ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ভারতের মেয়েরা। ব্রিস্টলে টসে জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ড। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেও নিজের কেরিয়ারের ১৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান পেলেন না স্মৃতি মন্ধানা। তিনি আউট হন ১৩ রানে। আরেক ওপেনার শেফালি বর্মাও মাত্র ৩ রান করেন। দুজনের জুটিতে ১৪ রান উঠলেও নয়া রেকর্ড গড়ল। টি-টোয়েন্টিতে দুজনের জুটি করেছে ২৭২৭ রান ৭৯ ইনিংসে। মহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে এত রানের জুটি আর কোনও ক্রিকেটারদের নেই। তাঁরা ছাপিয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিসা হিলি ও বেথ মুনির ২৭২০ রানের জুটি ৮৪ ইনিংসে। স্মৃতি ও শেফালির উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারতের মেয়েরা। দ্রুত আউট হন হরমনপ্রীতও। সেখান থেকে পালটা লড়াই শুরু করেন জেমাইমা ও আমনজ্যোত। দুজনেই ঝড়ের গতিতে রান তোলেন। আর দুজনেই ৬৩ রান করেন। জেমাইমা আউট হয়ে গেলেও শেষবেলায় বিধ্বংসী ইনিংস খেলে যান বাংলার রিচা ঘোষ। তিনি ২০ বলে ৩২ রান করেন। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রান হয়ে গেল ভারতের উইকেটকিপারের। আর সেটাও করেছেন ১৪০ রানের বেশি স্ট্রাইক রেট রেখে। এত স্ট্রাইক রেট রেখে আর কোনও ব্যাটার মহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেননি। তার জন্য রিচা নিয়েছেন ৭০২ বল। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে এটাও সবচেয়ে কম বলে ১০০০ রানের রেকর্ড। ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত করে ১৮১ রান। জবাবে ইংল্যান্ডের ইনিংস ৭ উইকেট হারিয়ে থেমে যায় ১৫৭ রানে। তিন ইংরেজ ব্যাটার রান আউট হন। দুটি উইকেট নাল্লাপুরেড্ডি চারানির। ভারত ম্যাচ জেতে ২৪ রানে।




