পুরুষাঙ্গকে যোনির উপরে রাখা এবং পরবর্তীতে প্রবেশ না করে বীর্যপাত করাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৭৫ ধারার অধীনে ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না। ঘটনার সূত্রপাত ২০০৪ সালের ২১ মে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাড়িতে একা থাকার সময়, অভিযোগকারিনীকে বাড়িতে নিয়ে যান জোর করে এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন মিলনের চেষ্টা করেন। ওই ব্যক্তিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ধারা ৩৭৬(১) ধারায় ধর্ষণের জন্য এবং ৩৪২ ধারায় অন্যায়ভাবে আটকে রাখার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ব্যক্তিকে আদালত সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। ২০০৫ সালে আদালত এই রায় দিলেও, অভিযুক্তর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, নির্যাতিতার যোনীচ্ছদ অক্ষত রয়েছে। এই মামলাতেই ছত্তিশগড় আদালত এই মন্তব্য করেছে বলে তথ্য সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে। তথ্য, এর আগে অভিযুক্ত জানিয়েছিলএন, তিনি নির্যাতিতার গোপনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ ছোঁয়ালেও, তা প্রবেশ করাননি। অন্যদিকে নির্যাতিতা প্রথমে এবং পরে দু’রকমের বয়ান দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। সূত্রের খবর, হাইকোর্ট ৩৭৬(১) ধারার অধীনে দণ্ডাদেশ বাতিল করে এবং ওই ব্যক্তিকে ৩৭৬ ধারার সঙ্গে ৫১১ ধারার অধীনে ধর্ষণের চেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। সাজা পরিবর্তন করে তিন বছর ছ’মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাকি সাজার জন্য, অভিযুক্তকে দু’মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। য় দু’ দশকের পুরনো মামলা। সেই মামলায় ছত্তিশগড় হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি মন্তব্য করেছে, আর তা নিয়েই জোর চর্চা নানা মহলে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ২০০৪ সালের এক মামলার প্রেক্ষিতে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে, যোনির ওপর পুরুষাঙ্গ ছোঁয়ালে কিংবা সঙ্গম ছাড়াই বীর্যপাত হলে তা ধর্ষণ নয়। সূত্রের খবর, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ছত্তিশগড় হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে, পুরুষাঙ্গকে যোনির উপরে রাখা এবং পরবর্তীতে প্রবেশ না করে বীর্যপাত করাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৭৫ ধারার অধীনে ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না, যা বরং ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইপিসির ৩৭৬/৫১১ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য হবে।
পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কে ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী’র মতো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়েছেন। হোটেলে থেকেছেন। পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এর পাঁচ বছর পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করার অভিযোগে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায় না। পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পরবর্তীকালে ভেঙে গেলে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায় না। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ সংক্রান্ত এক মামলায় এমনই রায় কলকাতা হাই কোর্টের। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারপতির মত, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কে ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী’র মতো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়েছেন। হোটেলে থেকেছেন। পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এর পাঁচ বছর পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করার অভিযোগে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায় না। ফলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে ওই মহিলা আইপিসি-র একাধিক ধারায় যৌন হেনস্থা এবং জোর করে গর্ভপাত করানোর যে অভিযোগ এনেছেন, তা এদিন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। মামলায় মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্তের সঙ্গে ২০১৭ সালে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তিনি। এরপর ২০১৮ সালে তাঁকে জবর করে মদ্যপান করিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন অভিযুক্ত। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও বিবাহের প্রতিশ্রুতির কারণে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। জানা যায়, সম্পর্কে থাকাকালীন বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরতেও গিয়েছেন। এমনকী দিঘা, গোয়াতেও বেড়াতেও গিয়েছেন তাঁরা। এরপর ওই মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে জোর করেই গর্ভপাত করাতে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বিয়ে করতেও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে ব্যক্তিগত ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়াও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যা নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারিণী। এমনকী মামলা গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টেও। আবেদনকারীর তরফে বলা হয়, মহিলা একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিক্ষিত। তিনি পারস্পরিক সম্মতিতে কয়েক বছরের জন্য এই সম্পর্ক চালিয়ে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছেন। এবং পারস্পরিক সম্মতিতে গর্ভপাতও করিয়েছেন। এই সম্পর্ক দু’জনের সম্মতিতেই ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা হয়েছে, মহিলার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। গত কয়েকদিন আগে এমনই এক অভিযোগ এনেছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির এক তরুণী। এক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ড হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, দীর্ঘদিনের প্রেমে যদি কেউ শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে, তারপর সম্পর্ক ভেঙে গেলেও ধর্ষণের মামলা করা যায় না। আদালতের মতে, শুধু বিয়ে না হওয়া বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অভিযোগে ধর্ষণের মামলা দায়ের হলে, সেটাতে আইনের অপব্যবহার হতে পারে।





