RK NEWZ উদয়নারায়ণপুরের ঘটনা নিয়ে কমিশন একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছে। অভিষেকের পোস্টের স্ক্রিনশট তুলে ধরে ‘মিসইনফরমেশন’ (ভুল তথ্য) বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে লেখা হয়েছে, ‘‘হাওড়ার ৮২ বছরের পূর্ণচন্দ্র দলুই ২৪৫ নম্বর বুথে পুত্রের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। বুথের ভিতর ওঁকে সাহায্য করার জন্য ওঁর পুত্রকে ইভিএম-এর সামনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ভোট দেওয়ার পর ইভিএম-এর সামনেই তিনি আচমকা পড়ে যান। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ছিল ওঁর। সঙ্গে সঙ্গে ওঁকে আমতা হাসপাতালে পাঠানো হয় কিন্তু চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।’’ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ পর্যবেক্ষকের বয়ান উদ্ধৃত করে কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেনি বা কাউকে ধাক্কা দেয়নি। পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ভোট নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। তাঁদের শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য। ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ নয়। ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর বৃদ্ধের মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের মানবিক হওয়া দরকার। মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে পরিবারের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে তোলা উচিত নয়। গণতন্ত্র সত্যের উপর ভিত্তি করে টিকে থাকে। ভয়ের উপর নয়।’’ ঘটনার দিন অভিষেক উদয়নারায়ণপুরের ঘটনা নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। বৃদ্ধের মৃতদেহের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘অমিত শাহের অধীনে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ব্যক্তিগত বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এক বৃদ্ধ তাঁর পুত্রের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। হাঁটতে পারছিলেন না, ওঁর ছেলে ওঁকে সাহায্য করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের দু’জনকেই ধাক্কা দেয়, খারাপ ব্যবহার করে। বৃদ্ধ পড়ে যান। তাঁকে আমতা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।’’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ধাক্কা দেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন বৃদ্ধের পুত্রও। অভিষেক কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই আচরণকে ২০২১ সালের শীতলকুচির ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। অভিষেক লেখেন, ‘‘২০২১ সালে এই রক্তের জন্য বিজেপিকে বড় মূল্য চোকাতে হয়েছিল। এ বার আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে।’’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ‘বাইরে থেকে আসা জল্লাদ’ বলে উল্লেখ করেন অভিষেক। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যে দলের হাতই তাঁদের পিছনে থাকুক, বর্বরতার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। এর পরেই শুক্রবার কমিশনের বিবৃতি এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এল। কমিশনের প্রকাশ করা ভিডিয়োটি বুথের ভিতর থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পুত্রের সঙ্গে ভোট দিতে ঢুকছেন বৃদ্ধ। হাতে কালি লাগানোর পর লাঠিতে ভর দিয়ে ইভিএম-এর দিকে একাই এগিয়ে যান তিনি। কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁর কোনও সমস্যা হচ্ছে আন্দাজ করে পুত্রও সেখানে যান। কী ভাবে বোতাম টিপে ভোট দিতে হবে, পুত্র তাঁকে দেখিয়ে দেন এবং ফের দূরে সরে আসেন। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ইভিএমের কাছে পড়ে যান বৃদ্ধ। তাঁর পুত্র এবং উপস্থিত ভোটকর্মীরা ধরাধরি করে তাঁকে বার করে নিয়ে যান। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে বুথের ভিতর বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চলছে। তার মধ্যেই ঘটনার মুহূর্তের ভিডিয়ো প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনার পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে যে পোস্ট করেছিলেন, তাকে ‘ভুল’ বলে পাল্টা দাবিও করেছে কমিশন। বলা হয়েছে, হাওড়ার ওই বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি। কাউকে ধাক্কাও দেওয়া হয়নি। বৃদ্ধ ভোটার শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মারা গিয়েছেন।




