সূর্যকুমারের মাঠে নামার আগেই সুপার এইটের আট দল চূড়ান্ত হয়ে যায়। নিয়মরক্ষার ম্যাচেও ব্যর্থ হলেন অভিষেক শর্মা। শুধু তাই নয়, এ দিনও আউট হলেন শূন্য রানে। মাত্র ৩ বল ছিলেন ২২ গজে। এই নিয়ে শেষ সাতটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির পাঁচটিতেই শূন্য রানে আউট হলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার! ভারতীয় শিবির প্রকাশ্যে মানতে না চাইলেও নিশ্চিত ভাবেই তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে সুপার এইটের আগে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পুরোদস্তুর নিয়মরক্ষার ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা যুদ্ধের প্রস্তুতি সারল ভারতীয় ব্যাটিং। পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার। ‘অনামী’ ডাচ বোলারদের বিরুদ্ধে প্রথম দিকে রীতিমতো পরীক্ষা দিতে হল সূর্যকুমার যাদবদের। শিবম দুবের অনবদ্য ইনিংস আর শেষ বেলায় হার্দিক পাণ্ডিয়ার ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে স্কোর বোর্ডে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৯৩ রান তুলল ভারত। টসভাগ্য সহায় হয় ভারত অধিনায়কের। ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও ‘সার্চলাইটে’ ছিলেন অভিষেক শর্মা। বাঁহাতি ওপেনার এদিনও হতাশ করলেন। বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেললেও একটা রানও করা সম্ভব হল না তাঁর পক্ষে। শূন্যের গেরো কাটাতে তো পারলেনই না, বরং শূন্যের হ্যাটট্রিক করলেন। তাঁর উইকেট ভেঙে দিলেন আর্যন দত্ত। রানের গতি কমতে দেননি ঈশান কিষান এবং তিলক বর্মা। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে আউট হতে হয় তাঁকে। থাই প্যাড এবং কনুইয়ে লেগে বল উইকেট ভেঙে দেয়। ৭ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরতে হল ঈশানকে। এরপরেই রানের গতি অনেকটা কমে যায়। সূর্য এবং তিলক সিঙ্গেল রানে জোর দিয়ে স্কোর বোর্ড সচল রাখেন। ৩১-এর বেশি এগোল না তিলকের ইনিংস। সূর্যের ইনিংস থামল ৩৪-এ। ১১০ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে তখন কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ভারতকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন শিবম দুবে এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া। ৩১ বলে ৬৬ করলেন শিবম। মারলেন চারটে ৪ এবং ছ’টা ছক্কা। হার্দিক করলেন ২১ বলে ৩০। তাঁর হয়ে আহমেদাবাদের গ্যালারিতে গলা ফাটালেন ভারতীয় অলরাউন্ডারের ‘হৃদয়হরণী’ মাহিকা শর্মা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও লড়াই করে নেদারল্যান্ডস। ষষ্ঠ ওভারে এসে ধাক্কা ভারতের। বরুণের বলে লেগ স্টাম্প ছিটকে গেল ম্যাক্স ও ডাউডের। জয়ের জন্য ১৯৪ রান তাড়া করতে নেমে ধরে খেলার চেষ্টা করলেন নেদারল্যান্ডসের ব্যাটারেরা। তাঁদের মধ্যে জেতার তেমন ইচ্ছাই দেখা যায়নি। ঝুঁকি নিয়ে রান তাড়া করার বদলে বেশ সাবধানে খেলার চেষ্টা করলেন তাঁরা। ওপেনার ম্যাক্স ও ডাউড করলেন ১৮ বলে ২০। নেদারল্যান্ডসের প্রথম উইকেট পড়ে ষষ্ঠ ওভারে। তার আগে ২ ওভার করে বল করলেও উইকেট নিতে পারেননি জসপ্রীত বুমরাহ এবং অর্শদীপ সিংহ। অন্য ওপেনার মাইকেল লেভিট করলেন ২৩ বলে ২৪। ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ধারাবাহিক ভাবে উইকেট হারাতে শুরু করে নেদারল্যান্ডস। তার মধ্যে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন বাস ডি লিড (২৩ বলে ৩৩)। কলিন অ্যাকরম্যান করেন ১৫ বলে ২৩। ব্যর্থ আরিয়ান (০)। জ়্যাক লায়ন ক্যাসে (১৬ বলে ২৬) এবং নোয়া ক্রোয়েস (১২ বলে অপরাজিত ২৫) কিছুটা চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস করেন ১০ বলে ১৫। সূর্য এ দিন সাত জনকে দিয়ে বল করান। তাঁদের মধ্যে সফলতম বরুণ চক্রবর্তী ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৩৫ রানে ২ উইকেট শিবমের। ১৭ রানে ১ উইকেট বুমরাহের। ৪০ রানে ১ উইকেট হার্দিকের। রিঙ্কু এবং সূর্যের ভুল বোঝাবুঝিতে একটি ক্যাচ পড়ল। পরের বলেই ক্যাচ ফস্কালেন তিলক। শেষ ওভারে ফিল্ডিংয়ে খারাপ প্রদর্শন ভারতের। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ভারতের জয় নিয়ে সংশয় ছিল না। অঘটন কিছু ঘটলও না। বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২টি ম্যাচে জয় পেল ভারতীয় দল। গত বারের চ্যাম্পিয়নেরা গ্রুপের সব ম্যাচ জিতে সুপার এইট পর্ব খেলতে নামবে। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে সূর্যকুমার যাদবের দল করে ৬ উইকেটে ১৯৩। জবাবে নেদারল্যান্ডসের ইনিংস শেষ হল ৭ উইকেটে ১৭৬ রানে। ১৭ রানে জিতল ভারত।নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ২২ গজ প্রথম দিকে যেভাবে আচরণ করল, তাতে একটা প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, পিচ পড়তে কি ভুল করেছিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা? আহমেদাবাদে শোনা গেল বন্দেমাতরম ধ্বনি।
সুপার এইটে চলে গেল পাকিস্তান। নামিবিয়াকে হারাল ১০২ রানে। সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে গেল সুপার এইটে কারা কারা খেলবে। সাত দল আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল একটি দল। বুধবার নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটের টিকিট জোগাড় করে নিলেন সলমন আলি আঘারা। সুপার এইটে একদিকে থাকছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্য গ্রুপে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান তুলেছিল ১৯৯/৩। শতরান করেন ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। তিনি ৫৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেন। ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও চারটি ছয়। অধিনায়ক সলমন আঘা করেন ৩৮। শাদাব খান অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। বাবর দলে থাকলেও তাঁকে ব্যাট করতে নামানো হয়নি। জবাবে নামিবিয়ার ইনিংস শেষ হয়ে গেল ৯৭ রানে। ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতেও সফল শাদাব খান। নিয়েছেন তিন উইকেট। আর উসমান তারিকের দখলে চার উইকেট। শ্রীলঙ্কার পর এই গ্রুপ থেকে সুপার এইটে গেল পাকিস্তান।





