Saturday, May 2, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সবার আগে মদ্যপান বন্ধ করতে হবে!‌ হার্টের শত্রু কোলেস্টেরল!‌ চিনেবাদাম, কাঠবাদাম, নারকেল তালিকায়

হার্টের শত্রু হল কোলেস্টেরল। তাই কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে এমন কোনও খাবারই হৃদ্‌রোগীদের ডায়েটে থাকা উচিত নয়। অনেকেই আছেন যাঁরা চিনেবাদাম, কাঠবাদাম, নারকেলকে হার্টের শত্রু ভেবে ডায়েটের তালিকা থেকে বাদ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার অভাবে হার্টের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল— এ সব যেন মানুষের নিত্যসঙ্গী। এর থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ তো আছেই। কিন্তু এক বার ওষুধ খাওয়া শুরু করলে, সেই অভ্যাস বন্ধ করা মুশকিল। শুধু ওষুধ নয়, হার্টের রোগীদের ডায়েটের দিকেও নজর রাখা ভীষণ জরুরি। হার্টের শত্রু হল কোলেস্টেরল। তাই কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে এমন কোনও খাবারই হৃদ্‌রোগীদের ডায়েটে থাকা উচিত নয়। কাজু-বাদাম, নারকেল মোটেও হার্টের শত্রু নয়! কাজুবাদাম, নারকেলে কোলেস্টেরল থাকে না। তাই এই খাবারগুলি নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়। এগুলি উদ্ভিজ্জ ফ্যাটের ভাল উৎস। ‌খিদে পেলে একমুঠো বাদাম, কাঠবাদাম খাওয়া যেতেই পারে। রান্নায় নারকেল ব্যবহারেও ভয়ের কিছু নেই। কাজুবাদাম, নারকেল আপনার ধমনী ও রক্তনালিকাগুলির ভিতরে রক্ত জমাট বাঁধায় না। রোজের জীবন থেকে কিছু বাদ দিতে হলে সবার আগে মদ্যপান বন্ধ করতে হবে। অনেকেই বলেন, তাঁরা রোজ নয়, মাঝেমধ্যে খান। তবে জেনে রাখুন যে কোনও প্রকার অ্যালকোহল, যে কোনও মাত্রায় শরীরে গেলেই তার ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দেবে শরীরে। অ্যালকোহল শিরা, ধমনী, হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক, সবার জন্যই খারাপ।

মদের গ্লাসে ঠোঁট না ছুঁয়েও লিভারে জমছে চর্বি! সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই এক উদ্বেগজনক ছবি। কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভুগছেন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে। অর্থাৎ অ্যালকোহল নয়, জীবনযাপনই হয়ে উঠছে লিভারের অসুখের বড় কারণ। ২৭টি শহরের ৭ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, মোট অংশগ্রহণকারীদের ৩৮.৯ শতাংশের লিভারে জমেছে ফ্যাট। পুরুষদের মধ্যে হার প্রায় ৪৬ শতাংশ, মহিলাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ। আরও চিন্তার বিষয়, যাঁদের ফ্যাটি লিভার আছে, তাঁদের ৬.৩ শতাংশের লিভারে ইতিমধ্যেই ফাইব্রোসিসের লক্ষণ মিলেছে। গোটা নমুনায় ফাইব্রোসিসের হার ১.৭ শতাংশ। অর্থাৎ ফ্যাটি লিভার থাকলে জটিলতার ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়ে। দীর্ঘদিন লিভারে প্রদাহ বা ক্ষতি চলতে থাকলে সেখানে টিস্যু শক্ত হয়ে যায়। এই অবস্থাই ফাইব্রোসিস। শুরুতে তেমন উপসর্গ থাকে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা সিরোসিস, লিভার ফেলিওর বা লিভার ক্য়ানসারের দিকে গড়াতে পারে। সমস্যা হল, অনেকেই বুঝতেই পারেন না ভেতরে ভেতরে ক্ষতি কতটা এগিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের ফ্যাটি লিভার আছে তাঁদের গড় HbA1c ৬.২, আর যাঁদের নেই তাঁদের ৫.৭। অর্থাৎ, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে ঝুঁকিও বেশি। অন্য়দিকে, প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ ফ্যাটি লিভার রোগী ওভারওয়েট বা স্থূলকায়। পেটের মেদ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্য মিলেই তৈরি করছে ঝুঁকি। ফাইব্রোসিসের ক্ষেত্রেও একই ছবি। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ফাইব্রোসিসের হার ৯.১ শতাংশ, আর স্থূলকায়দের মধ্যে ৮.১ শতাংশ। ফ্যাটি লিভারের হার সবচেয়ে বেশি ভোপাল ও রুরকিতে, প্রায় ৫০ শতাংশ। তিরুবনন্তপুরমে তুলনামূলক কম, ২৭ শতাংশ। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ, চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে হার ৩৭ থেকে ৪২ শতাংশের মধ্যে। ফাইব্রোসিসের হার সবচেয়ে বেশি জোরহাটে, ৮.৩ শতাংশ। দিল্লি ও জম্মুতেও তুলনামূলক বেশি। খাদ্যাভ্যাস, জিনগত প্রবণতা এবং পরিবেশগত কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। এই সমীক্ষায় যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁরা কেউই মদ্য়পান করেন না। ফলে স্পষ্ট, অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, কম নড়াচড়া, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস এবং বাড়তি ওজনই ফ্য়াটি লিভারের প্রধান চালিকা শক্তি। শহুরে জীবনযাপন যত অনিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, লিভারের অসুখের ঝুঁকিও তত বাড়ছে। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বেশিরভাগ সময়ই নীরবে বাড়তে থাকে। পেটে কোনও অস্বস্তি বা ব্যথা নেই মানেই আপনি নিরাপদ, তা নয়। সময়মতো সচেতন হলে এবং জীবনযাত্রা বদলালে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এখনই নজর দিন লিভারের স্বাস্থ্যের দিকে। শরীরের ওজন কমাতে হবে ৭ থেকে ১০ শতাংশ
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট হাঁটা ও শরীরচর্চা
চিনি, সফট ড্রিঙ্কস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা
ডায়েটে রাখতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারদাবার
জরুরি নিয়মিত সুগার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles