‘‘মেসিকে তো দেখতে পেলামই না, বদলে কয়েক জন ক্রিমিনালকে দেখতে হল!’’যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের লজ্জার মুহূর্তগুলো! ’গ্রেটেস্ট অফ অলটাইম’-কে (বহুবিজ্ঞাপিত G.O.A.T‘ ) এনেগ্রেটেস্ট ইভেন্ট অফ অলটাইম‘ করা দূরের থাক , ন্যূনতম পেশাদারিত্ব ও হ্যাংলামি-রোহিত একটা অনুষ্ঠান করারও যোগ্যতা যে প্রশাসকদের নেই, তা আজ আবার স্পষ্ট হয়ে গেল। হুবহু ঋত্বিক রোশনের মত দেখতে মেসির মূর্তি(!), নেতা-মন্ত্রীদের মেসির পাশে ছবি তোলার নির্লজ্জ হ্যাংলামি, পরিকল্পনাহীন ব্যবসায়িক স্বার্থ–এ সমস্ত কিছুর সামনে আজকে সাধারণ মানুষের আবেগ বড় ধাক্কা খেল! দর্শকরা চূড়ান্ত বঞ্চিত হলেন। সবচেয়ে বড় কথা কলকাতার নাম ডুবল। হাজার-হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটে সাত-সকালে নীল-সাদা জার্সি পরে যারা ময়দানে গেছেন, তাদের ফুটবলের ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গা নেই। যাদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে হবে, প্রাক্তন এক বিচারপতিকে মাথায় রেখে সরকারের তৈরি করা তদন্ত-কমিটি কি তাদের বিরুদ্ধে একটাও প্রশ্ন তুলতে পারবে ? সংশয় আছে, তবে যদি পারে সাধুবাদ জানাব। স্টেডিয়ামে ভাঙচুর-আগুন ধরানো অন্যায়। খেলার মাঠে বিশেষ পতাকা হাতে প্রবেশ করা বড় অন্যায়। পুলিশকে মারধর করা আরও বড় অন্যায়। কিন্তু ফুটবলপ্রেমী বাঙালির আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করা যে সব থেকে বড় অন্যায় !
লিয়োনেল মেসির সফর বিশ্ব দরবারে মাথা হেঁট করে দিল কলকাতার। লন্ডভন্ড হল শহরের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। হাজার হাজার দর্শকের ক্ষোভ আছড়ে পড়ল সল্টলেক স্টেডিয়াম এবং লাগোয়া এলাকায়। তুমুল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে মাঝপথ থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যেতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে। এ ঘটনা নজিরবিহীন। প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনাও করতে হল তাঁকে। এমন ঘটনাও সাম্প্রতিক কালে ঘটেছে কি না, কেউ মনে করতে পারছেন না। মেসির সঙ্গে যাঁর মাঠে আসার কথা ছিল, সেই শাহরুখ খান হোটেল থেকেই ফিরে গেলেন। যুবভারতীতে অবশ্য পরিস্থিতি তত খারাপ হয়নি। কিন্তু ঘটনার পর লুটপাট হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর যেমন তাঁর বাসস্থান ‘গণভবন’ থেকে জিনিসপত্র লুট হয়েছিল, সে ভাবেই বিধ্বস্ত যুবভারতী থেকে কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছেন ফুলের টব। কেউ ছিঁড়ে নিয়ে গিয়েছেন মাঠের ঘাস।এমন কলঙ্কিত দিন সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতার ইতিহাসে আসেনি। হাজার হাজার টাকা দিয়ে মেসিকে দেখার জন্য টিকিট কেটেছিলেন দর্শকেরা। কেউ দিয়েছিলেন ১২ হাজার টাকা। কেউ ১৬ হাজার। কিন্তু তাঁরা এক ঝলকেও দেখতে পাননি বিশ্বজয়ী ফুটবলারকে। ক্ষুব্ধ, ক্রুদ্ধ জনতার কারও কথায়, ‘‘আমাদের সঙ্গে একটা বড় দুর্নীতি হল। টাকা ফেরত চাই।’’ পরিস্থিতি এমনই অগ্নিগর্ভ ছিল যে, অনেক দর্শক সারদা কেলেঙ্কারির কথা টেনে এনে মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের তুলনা করতে শুরু করেন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে। কেউ বলেন, ‘‘মেসিকে তো দেখতে পেলামই না, বদলে কয়েক জন ক্রিমিনালকে দেখতে হল!’’




