Saturday, July 4, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সির গুণধর স্বামী!‌ জগন্নাথ মন্দিরের ২৬ লাখ টাকার দানপাত্রও লুট করেন

RK NEWZ কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী নাকি জগন্নাথ মন্দিরের ২৬ লাখ টাকার দানপাত্রও লুট করেছিলেন। বাগুইআটির বাসিন্দা দেবকুমার দাশগুপ্তের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। খুন, তোলাবাজির পর এবার দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। বছর ছিয়াশির দেবকুমার দাশগুপ্ত বহু পরিচিতের সাহায্য় নিয়ে একটি জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ, গত ২০২২ সাল থেকে মন্দিরের প্রতি নাকি নজর পড়ে দেবরাজ ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের। তারপর থেকে কখনও ৫ লক্ষ, কখনও ৮ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করতেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, জগন্নাথ মন্দিরের দানপাত্রও লুট করেছিলেন। এভাবে নাকি মোট ২৬ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করেছিলেন দেবরাজ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে গত ২০২৩ সালে সাধের জগন্নাথ মন্দিরটি ৭ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে বাধ্য হন অশীতিপর বৃদ্ধ। তারপর থেকে শয্যাশায়ী দেবকুমারবাবু। দেবরাজের যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা বেআইনি অর্থের উৎস সন্ধানে তৎপর তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দেবরাজের অ্যাকাউন্টে বিশেষ টাকা নেই। তবে ভোটের আগে গত মে মাসে ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। কোথা থেকে ওই টাকা আসে, কোথায় বা খরচ হয় তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে দেবরাজ চক্রবর্তী। তদন্তকারী সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত থেকে টানা প্রায় ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। বিপুল পরিমাণ ‘কালো’ টাকার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যের খোঁজে তাঁকে জেরা করা হয় বলেই খবর। তদন্তকারীদের দাবি, একা দেবরাজ নন। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যোগ রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক প্রভাবশালীর। আগামিদিনে তদন্তে আরও নানা তথ্য সামনে আসবে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

১৩০০ কোটির সম্পত্তি, পূর্ণেন্দুর আপ্তসহায়ক থেকে অভিষেক ঘনিষ্ঠ! কীভাবে উত্থান ‘যুবরাজ’ দেবরাজের? ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই তোলাবাজি থেকে খুনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। তাঁর একটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই মোবাইলের চ্যাট লিস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। কী এমন কথোপকথন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখলে অপরাধের শিকড়ে পৌঁছনো সম্ভব বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সে কারণে বিধাননগর পুলিশ একটি সিট গঠন করেছে। সাদামাঠা, মিষ্টভাষী দেবরাজের ‘কীর্তি’ শুনে চমকে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। গত এগারো বছরে রকেট গতিতে উত্থান ধৃত দেবরাজের। দোলা সেনের পরিচিত ছিলেন দেবরাজ। ‘পিসি’ বলে ডাকতেন তাঁকে। ২০১১ সালে রাজারহাট গোপালপুর আসনে জেতেন পূর্ণেন্দু বসু। দোলার মধ্যস্থতায় পূর্ণেন্দুর সঙ্গে আলাপ। তাঁকে ‘জেঠু’ বলে ডাকতেন। মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হওয়া দিয়ে রাজনীতির মাটিতে পা দেবরাজের। এরপর পুরভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। দোলা এবং পূর্ণেন্দুর কাছে টিকিটের ‘আবদার’ করেন দেবরাজ। যদিও সেবার টিকিট পাননি। আর তারপরই জেঠু-পিসির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। কংগ্রেসে যোগ দেন দেবরাজ। অধীররঞ্জন চৌধুর হাত থেকে পতাকা নেন। রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হন দেবরাজ। সেবার ওই এলাকায় বেনজির হিংসা হয়। ভোটের আগের রাতে গ্রেপ্তার হন দেবরাজ। তবে সেবার ভোটের ফল হয় চমকপ্রদ। জিতে জেলবন্দি দেবরাজ হন কাউন্সিলর। জামিনে ছাড়া পাওয়ার মাস ছয়েক পরই ভোলবদল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যোগ দেন তৃণমূলে। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি দেবরাজকে। ক্রমশ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। ইতিমধ্যে ২০১৮ সালে অদিতি মুন্সির সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। স্বামী দেবরাজের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রাখেন কীর্তনশিল্পী অদিতি। শোনা যায়, দেবরাজের অনুরোধেই নাকি একুশের নির্বাচনে টিকিট পান। রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক হন। রাজনৈতিক কেরিয়ারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাকি বিদ্যুতের গতিতে প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে দেবরাজের। হয়ে ওঠেন ক্যামাক স্ট্রিটের ক্ষমতার বৃত্তে থাকা অভিষেকের ‘ডানহাত’। আর সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক অসামাজিক কার্যকলাপেও নাম জড়াতে থাকে তাঁর। তৃণমূল ‘ঘনিষ্ঠ’ সমাজবিরোধী স্বপন থেকে বুড়ো এবং বাবাই বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়ে যায় দেবরাজের। এছাড়াও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সম্পত্তি নাকি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, সেই সম্পত্তিই বেড়ে বর্তমানে ১৩০০ কোটি ছুঁয়েছে। সূত্রের খবর, ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে সরানো হয়েছে দেবরাজের। একাধিক গাড়ি, বাড়ির মালিক তিনি। অথচ নির্বাচনী হলফনামায় সে তথ্য নাকি গোপন করেছিলেন অদিতি। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকাও নাকি ঢুকেছে দেবরাজের অ্যাকাউন্টে। বারাসত আদালতে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের দাবি, গত ৫ বছরে অদিতি-দেবরাজ নাকি ১ কোটি টাকা আয় করেছেন। অথচ গাড়ি কিনেছেন ৬০-৭০ লক্ষ টাকার। এই হিসাব গরমিলে ভরা বলেই দাবি তাঁর। তদন্তকারীদের দাবি, ‘ডিসি গ্লোবাল’ নামে একটি সংস্থার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ওই সংস্থার নামে বেনামি সম্পত্তি কেনা এবং হস্তান্তর হয়েছে বলেই খবর। সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখছে ইডি।

ছাব্বিশের ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি থেকে খুনে প্ররোচনা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। শিয়রে বিপদ জেনে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদনও জানিয়েছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সাতদিন ধরে কালিম্পং থেকে অযোধ্যা, একাধিক ডেরাবদল করার পর শেষমেশ গত বুধসন্ধ্যায় পুরুলিয়া থেকে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এমন আবহে ‘ব়্যাডারে’ দেবরাজের স্ত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সিও। দিনকয়েক আগেই রিয়ালিটি শোয়ের প্যানেলিস্টদের সঙ্গে অদিতির গোপন কথোপকথন ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। এবার গায়িকার বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন রিয়ালিটি শোয়ের সহ-প্রতিযোগী সৌম্য চক্রবর্তী। ২০১৫ সালে জনপ্রিয় গানের রিয়ালিটি শোয়ে বিজয়ী হন সৌম্য। সেই মরশুমের অন্যতম প্রতিযোগী হিসেবে নজর কেড়েছিলেন কীর্তন গায়িকা অদিতি মুন্সিও। পরবর্তীতে একুশের বিধানসভা ভোটের আবহে তৃণমূলের টিকিটে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন। এবার রিয়ালিটি শোয়ের সেই সহ-প্রতিযোগী কীর্তন গায়িকা অদিতিকে নিয়ে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন সৌম্য চক্রবর্তী। গায়কের মন্তব্য, “গোড়া থেকেই অদিতি ভীষণ দাম্ভিক প্রকৃতির। কীর্তনটাও ঠিকঠাক গাইতে পারে না। গানে ভুল উচ্চারণ করে। যাকে ধরে রিয়ালিটি শোয়ে অডিশন দিল বা সবরকম সাহায্য পেল, তাকে ছেড়ে শোয়ের চিত্রনাট্যকারকে ধরল। আমার কোনওদিনই মনে হয়নি, ও সমাজের ভালো করতে পারে। কারণ যে নিজেরই ভালো করতে জানে না, সে সমাজের কি ভালো করবে?” এখানেই অবশ্য থামেননি সৌম্য। গায়কের সংযোজন, “ও যখন রিয়ালিটি শোয়ে এল, ওদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তার বাড়িতে একশো কোটি টাকা এল কীভাবে! বকলমে রাজনীতিটা ওর স্বামী দেবরাজের থেকে শিখতে হয়। সুস্থ উপায়ে উপার্জন করলে আলাদা কথা ছিল। অদিতির উচিত নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমা চাওয়া। ভুল জায়গায় পা দিয়ে ফেলেছিল। একটা সময়ে যাঁরা নিষ্ঠা নিয়ে অদিতির গান শুনতেন, এখন তাঁরাই ওঁকে গালিগালাজ করছেন। আমার মনে হয়, ওর আবার গানে ফেরা উচিত।” শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট শোয়ের গ্র্যান্ড ফিনালেতে প্রভাব খাটিয়ে বাকি প্রতিযোগীদের থেকে বেশি পাস জোগাড়়ের অভিযোগও তুলেছেন সৌম্য চক্রবর্তী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে। সৌম্যর অভিযোগ, “আমার পরিবার মাত্র তিনটি পাস পেলেও প্রভাব খাটিয়ে অদিতি ২২টি পাস জোগাড় করেছিল।” দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। এমন আবহে একাধিক সাক্ষাৎকারে অদিতিকে নিয়ে বিস্ফোরক সৌম্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles