Saturday, July 4, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ, আফ্রিকান রূপকথার গল্প!‌ ভোজিনহাদের ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই!‌ প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ৩ (মেসি, লিসান্দ্রো, বোর্জেস-আত্মঘাতী)
কেপ ভার্দে ২ (দুয়ার্তে, লোপেজ)

RK NEWZ বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। তবে যে ভাবে তাদের জয় অর্জন করে নিতে হল, তা কোনও ভাবেই খুশি করবে না। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে লড়াই করতে হল ১২০ মিনিট। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশ কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে লড়াই করতে হল ১২০ মিনিট পর্যন্ত! দু’বার এগিয়ে গিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোল জয় নিশ্চিত করে। ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই জয়ে মেসিদের খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রি-কোয়ার্টারে তারা খেলবে মিশরের বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপে উজ়বেকিস্তান, জর্ডনের মতো দেশের পাশাপাশি অভিষেক হয়েছিল বিশ্বকাপে উজ়বেকিস্তান, জর্ডনের মতো দেশের পাশাপাশি অভিষেক হয়েছিল কাবো ভার্দের। বাকি দলগুলি সে ভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি।

কিন্তু প্রথম বারেই কেপ ভার্দে যা খেলল তা অবাক করার মতোই। গত কয়েক বছরে ফুটবলে প্রভূত উন্নতি করেছে তারা। সে কারণেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে আর্জেন্টিনার মতো ধারে-ভারে অনেকটা এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে যে তারা এ ভাবে চোখে চোখ রেখে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। মায়ামি থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছে কাবো ভার্দে। আগামী দিনে অনেক লড়াইয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে গেল তারা। পাশাপাশি, যে সব ছোট দেশ এখনও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল কাবো ভার্দের লড়াই। বাকি দলগুলি সে ভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। কিন্তু প্রথম বারেই কেপ ভার্দে যা খেলল তা অবাক করার মতোই। গত কয়েক বছরে ফুটবলে প্রভূত উন্নতি করেছে তারা। সে কারণেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে আর্জেন্টিনার মতো ধারে-ভারে অনেকটা এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে যে তারা এ ভাবে চোখে চোখ রেখে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। মায়ামি থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছে কাবো ভার্দে।

আগামী দিনে অনেক লড়াইয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে গেল তারা। পাশাপাশি, যে সব ছোট দেশ এখনও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল বিশ্বকাপে উজ়বেকিস্তান, জর্ডনের মতো দেশের পাশাপাশি অভিষেক হয়েছিল কেপ ভার্দের। বাকি দলগুলি সে ভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। কিন্তু প্রথম বারেই কেপ ভার্দে যা খেলল তা অবাক করার মতোই। গত কয়েক বছরে ফুটবলে প্রভূত উন্নতি করেছে তারা। সে কারণেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে আর্জেন্টিনার মতো ধারে-ভারে অনেকটা এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে যে তারা এ ভাবে চোখে চোখ রেখে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। মায়ামি থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছে কেপ ভার্দে। আগামী দিনে অনেক লড়াইয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে গেল তারা। পাশাপাশি, যে সব ছোট দেশ এখনও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল কেপ ভার্দের লড়াই। বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী। কেপ ভার্দে পারেনি। ভোজিনহারা বিশ্বকাপের বাইরে। জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু সবসময় জয়টাই শেষ কথা নয়। হয়তো অনেক সময় বুঝিয়ে দিতে হয় আমরা আছি, লড়াইয়ের ময়দান ছাড়িনি। ছাড়ব না। গোটা দুনিয়া দেখো, আমাদের জেদ, আমাদের লড়াই। আমরা দু’বেলা মরার আগে মরব না ভাই মরব না। সামনে লিওনেল মেসি থাকুক, তিনি দাঁড়িয়ে দেখবেন। আতঙ্কিত হবেন, দুশ্চিন্তা করবেন। হয়তো জিতবেন। তবু শেষ পর্যন্ত মনে থাকবে আমরা তাঁকে কতটা বেগ দিয়েছিলাম। কেপ ভার্দের ফুটবল আজ সেই গল্পটা লিখে গেল। শেষ পর্যন্ত তারা মেসিদের কাছে ২-৩ গোলে হেরেছে। দু’বার পিছিয়ে পড়ে কামব্যাক করেছে সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশ। আর্জেন্টিনা জিতেছে, এটা বোধহয় আর কাহিনি নয়। হেরে বিদায় নিয়েও ভোজিনহারা বলে গেলেন, আমাদের লড়াইয়ের গল্পগুলোই ফুটবলের সৌন্দর্য। রক্ষণে বার বার আটকে গিয়ে কিছুটা অধৈর্য হয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলেন ফুটবলারেরাও।

তার মাঝেই ২৯ মিনিটের মাথায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ যে পাসটি দিলেন তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। মেসির গোলের ক্ষেত্রে যতটা মুনশিয়ানা রয়েছে, ততটাই বুদ্ধিমত্তা রয়েছে লিসান্দ্রোর পাসে। মাঝমাঠে বল পেয়েছিলেন তিনি। দূর থেকে দেখে নিয়েছিলেন মেসি কোথায়। লম্বা বল ভাসিয়েছিলেন। কেপ ভার্দের রক্ষণ সেই পাস আন্দাজই করতে পারেনি। মেসি বল অনুসরণ করে এক পায়ে তা রিসিভ করেন। এক সেকেন্ড সময় নিয়ে কাবো ভার্দের জালে জড়িয়ে দেন বল। প্রথম পোস্ট দিয়ে গোল হজম করেন ভোজ়িনহা। মেসির শটের গতি আটকাতে পারেননি। বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে ১০টি দেশ খেলেছে। তার মধ্যে ৯টি দেশ উঠেছিল নকআউটে। এখনও পর্যন্ত মরক্কো এবং মিশর বাদে ৬টি দেশ ছিটকে গিয়েছে। তার মধ্যে কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল গোল খেয়েছে একদম শেষের দিকে। কেপ ভার্দে সেখানে এক উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। শেষ দিকে যেখানে আফ্রিকার বেশির ভাগ দলের দম শেষ হয়ে আসছে, সেখানে কাবো ভার্দে আরও বেশি লড়াই করছে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে দু’বার সমতা ফেরানো সাম্প্রতিক কালে কেউ করতে পারেনি। শারীরিক হোক বা মানসিক, আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে ‘টাফ’ ফুটবল খেলেছে কেপ ভার্দেই। তাদের হাল না ছাড়া মনোভাব বাকিদের কাছে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হতে পারে। মায়ামিতে ‘ঘরের মাঠে’ প্রথমে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ৬০ মিনিটে সমতা ফেরান কেপ ভার্দের ডুয়ার্তে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে ফের এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ১০৩ মিনিটে ফের সমতা ফেরান কাব্রাল। অবশেষে ১১১ মিনিটে ডিনের আত্মঘাতী গোলে বিদায় নিল কেপ ভার্দে।

বিরতির পর আফ্রিকান রূপকথা ও টাইব্রেকারের আবহ

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও বিরতির পর খোলনলচে বদলে যায় ম্যাচ।

৫৯ মিনিট (১-১ সমতা): ডান দিক থেকে বাড়নো পাস ধরে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ডজ করে দেরয় দুয়ার্তে গোল করলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। পরাস্ত হন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এর পর মেসিদের দুটি নিশ্চিত গোল আটকে দেন কেপ ভার্দের কিপার ভোজিনিয়া।

৯৩ মিনিট (আর্জেন্টিনা ২-১): নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ জোরালো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। স্টেডিয়াম যখন উল্লাসে মাতোয়ারা, তখনই ঘটে আসল টুইস্ট।

১০৪ মিনিট (২-২ সমতা): অতিরিক্ত সময়ে অবিশ্বাস্য দৌড়ে এসে বক্সের কোণ থেকে এক বিশ্বমানের বাঁকানো শটে গোল করেন কেপ ভার্দের সিডনি কাবরাল। আবারও সমতায় ফেরে ম্যাচ!

শেষ নাটক

ম্যাচ যখন নিশ্চিতভাবেই টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছে, তখনই ১১১ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া একটি নিখুঁত কর্নার থেকে হেড করতে যান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বল কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে জালে ঢুকে যায়।

এই গোলের পর শেষ কয়েক মিনিট মরণপণ লড়াই চালায় কেপ ভার্দে। তবে এবার আর কোনও ভুল করেনি আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের মধ্যে আক্ষরিক অর্থেই স্বস্তির কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা।

গ্রুপ পর্বে একটা ম্যাচও না জিতে শেষ ১৬-তে ওঠা কেপ ভার্দে হেরেও কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জিতে বিদায় নিল। অন্য দিকে, ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি প্রমাণ করে দিলেন, বড় মঞ্চে তাঁর ম্যাজিক এখনও কতটা অমলিন। গোল করা এবং শেষ মুহূর্তের ম্যাচ উইনিং কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনাকে আরও একবার বিশ্বজয়ের সরণিতে টিকিয়ে রাখলেন ফুটবলের জাদুকর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles