Tuesday, July 21, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভারতীয় দলের দরজা বন্ধ সামির জন্য?‌ প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে দলে নেই বাংলার তারকা পেসার

ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট শুক্র থেকে। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে দলে নেই মহম্মদ সামি। ১৩ বছর পর ইডেনের কোনও টেস্ট ম্যাচে ভারতীয় দলে থাকবে না মহম্মদ শামির নাম। ২০১৩-য় টেস্টে অভিষেক হওয়ার পর থেকে ইডেনে হওয়া চারটি টেস্টেই খেলেছিলেন সামি। এই প্রথম ‘ঘরের’ মাঠে টেস্ট খেলা হবে না তাঁর। প্রথম টেস্টের আগের দিন ভারতীয় দলে শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অধিনায়ক শুভমন গিল। পাশাপাশি জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথম একাদশ এখনও ঠিক করতে পারেননি। কারণ ইডেনের পিচ এখনও পুরোপুরি চিনে উঠতে পারেননি। সিরিজ শুরুর আগে ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল বলেন, সামিকে দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন। কথায় বলে, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট বাট ফর্ম ইজ টেম্পোরারি। সামির ক্লাস নিয়ে কারও মনে কোনও সংশয় নেই। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্টের বল গড়ানোর আগে সাংবাদিক বৈঠকে সামি সম্পর্কে মন্তব্য করেন গিল। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে খেলছেন সামি। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য যে ভারতীয় দল ঘোষিত হয়েছে, সেই দলে জায়গা হয়নি বঙ্গপেসারের। নির্বাচকদের এহেন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল চর্চা হচ্ছে। লাল বলের ক্রিকেটে ভারতকে নেতৃত্ব দেন গিল। তিনি সামির দক্ষতা ও ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অবদানের প্রশংসা করেছেন। গিল বলেন, ”খুব কম বোলারই রয়েছে ওর কোয়ালিটির। কিন্তু যারা খেলছে তারা কিন্তু দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তুলে ধরেছে। কখনও কখনও সামি ভাইয়ের মতো বোলারকে বাইরে রেখে খেলাটা কঠিন হয়ে যায়। নির্বাচকরা এ ব্যাপারে ভাল উত্তর দিতে পারবেন।” টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তিনি। আবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শুভমান গিল সহ অধিনায়ক। তিনি বলছেন, ”কীভাবে আমি ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করবো, সেটাই বের করার চেষ্টা করছি। এশিয়া কাপের পর থেকে একের পর এক টুর্নামেন্ট খেলে চলেছি। বিভিন্ন দেশে যাচ্ছি সিরিজ খেলতে। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ফরম্যাটেও পরিবর্তন হচ্ছে। শারীরিক দিক থেকে নয়, মানসিক দিক থেকেই কঠিন চ্যালেঞ্জ।” বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই প্রোটিয়া ব্রিগেডের মোকাবিলা করা কঠিন বলেই মনে করেন গিল। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ হারাতে পারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ভারত। শুভমন বলেছেন, “এই দুটো ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে গেলে এখানে ভাল খেলতেই হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট বিশ্বকাপ জিতে খেলতে এসেছে। শক্তিশালী দল। তাই লড়াই সহজ হবে না। অনেক কঠিন সময় আসবে। তবে দল হিসাবে একসঙ্গে সেগুলো সামলে দিতে পারব। ডব্লিউটিসি ফাইনালের দৌড়ে এই দুটি টেস্টের গুরুত্ব রয়েছে।” ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল ভারতের। ইডেনে ঢুকেই পিচের দিকে চলে যান গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে, ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক ও বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। তাঁদের সঙ্গে ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন। কিছু ক্ষণ পর সেখানে যান ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দুই পিচ প্রস্তুতকারক আশিস ভৌমিক ও তাপস চট্টোপাধ্যায়। ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল ও সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থও যোগ দেন সেই আলোচনায়। সকলের মধ্যে প্রায় আধ ঘণ্টা আলোচনা চলে। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, পিচের একটি বিশেষ অংশ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে ভারতীয় দলের। সেই জায়গাটা বার বার হাতের ইশারায় দেখাচ্ছিলেন শুভমনেরা। শুভমন স্বীকার করে নিয়েছেন যে ইডেনের পিচ বুঝতে পারছেন না তিনি।

ভারতে এসে টেস্ট সিরিজ জেতা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। তেম্বা বাভুমা দক্ষিণ আফ্রিকাকে জেতাতেই পারেন। ভারতের মাটিতে এসে সিরিজ জিততেও পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ বাভুমার নেতৃত্বেই ‘চোকার্স’ ট্যাগ ঘুচিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ভারতের মাটিতে স্বপ্নপূরণ হবে না কেন? ভারতের মাটিতে এসে নিউ জিল্যান্ড ৩-০-এ হারিয়ে গিয়েছে গৌতম গম্ভীরের দলকে। তখন রোহিত শর্মার হাতে ছিল দলের রিমোট কন্ট্রোল। কিন্তু রোহিত ও বিরাট কোহলি যে টেস্ট ফরম্যাট থেকে সরে গিয়েছেন এখন। নতুন অধিনায়ক। অপেক্ষাকৃত তরুণ দল ভারতের। এই দল নিয়েই ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাটি ধরিয়েছে। এবার সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাভুমা সাহায্য চেয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসনের কাছ থেকে। সেকথা তিনি জানান সাংবাদিক বৈঠকে। হাসতে হাসতে বাভুমা বলেন, ”ও আমাদের তথ্য সাহায্য করত। ওই আমাদের অ্যানালিসিস গাই। কয়েক মাস আগে ভারতে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার। কয়েকটা বিষয় আমি জানতে চেয়েছিলাম। সব ব্যাপার খুল্লমখুল্লা জানায়নি আমাকে। কিন্তু আমাকে বলেছিল, দেখো যাতে টসটা জিততে পারো। ফলে আমি আমার টস করার দক্ষতায় শান দিচ্ছিলাম।” বাভুমার হাসি অবশ্য তাঁর বক্তব্যের তীব্রতাকে ঢাকা দিতে পারেনি। এই সিরিজ আর পাঁচটা সিরিজের মতো নয়। ভারতের মাটিতে এসে সিরিজ জিতলে একটা বার্তা পৌঁছনো যাবে।

বাভুমা জানেন এই সিরিজ কঠিন। ভারতের মাটিতে সিরিজ জেতা সহজ নয়। অতীত সফরের ব্যর্থতার দাগগুলো এখনও স্পষ্ট। তিনি অবশ্য জানেন পুরস্কারও। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বলছেন, ”ভারতকে ২-০ হারানো নাকি বিশ্বটেস্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়া? কোনটা লক্ষ্য হওয়া উচিত? অবশ্যই ডব্লিউটিসি জেতা। অন্য জয় এর ধারেপাশে আসে না। দ্বিতীয় ব্যাপার হল, ভারতের বিরুদ্ধে জয় অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় চলে গিয়েছে আমরা ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিততে পারিনি। দু’সপ্তাহে আমরা সেই চেষ্টা করব।” ভারতের মাটিতে এসে লড়াই করা কতটা কঠিন বাভুমা বলছেন, ”ভারতে এসে খেলাটা খুবই কঠিন ব্যাপার। যে চ্যালেঞ্জ আসবে সেটাও আমাদের জানা।” বাভুমার দলের অনেকেই ভারতে এসে খেলার যন্ত্রণা অনুভব করেছে। ফলে ভারত সফরের যন্ত্রণা তাঁদের জানা। তবে দু’দলেই রয়েছেন ভাল ক্রিকেটার, অনভিজ্ঞতা হয়তো রয়েছে, তবে সেরাটা তুলে ধরার জন্য দুই দলের ক্রিকেটারই নিজেদের নিংড়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানান বাভুমা। কেন উইলিয়ামসনের পরামর্শ নিয়ে বাভুমা কি টস জিততে পারবেন? টস জেতা মানেই যে টেস্ট জেতার কোড হাতে পেয়ে যাওয়া এই তথ্য বাভুমার মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিয়েছেন কেন উইলিয়ামসন।

ইডেন টেস্ট। দিল্লি বিস্ফোরণের পর ইডেনে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরেই দেশজুড়ে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হয়েছে কলকাতাকেও। এই পরিস্থিতিতে ইডেনে শুরু হচ্ছে টেস্ট ম্যাচ। নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কলকাতা পুলিশ। খেলা চলাকালীন দর্শকদের মধ্যে যেমন মিশে থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ তেমনই ইডেনের ফেন্সিং জুড়েও মোতায়েন হবে বিশাল পুলিশবাহিনী।‌ ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং দর্শকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গত মঙ্গলবার ইডেন পরিদর্শন করেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। গোটা মাঠের নিরাপত্তা দিকগুলি খতিয়ে দেখেন। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার কথা ভেবে ইডেনের বিভিন্ন অংশকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন পুলিশ কর্তারা। প্রত্যেকটি ভাগের দায়িত্বে থাকবেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, থাকবেন ৯ জন এসি। দর্শকরা যে জায়গায় বসবেন সেখানেও একজন করে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এবং অন্তত ৯ জন এসি দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি পুলিশের একটি দল সুরক্ষায় মোতায়েন থাকবেন।

এখানেই শেষ নয়, ক্লাব হাউস এবং ভিভিআইপি জোনের নিরাপত্তাতেও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। ইডেনের বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা যেমন থাকবেন, তেমনই থাকবে কিউআরটি অর্থাৎ কুইক রেসপন্স টিম। ইডেনের বাইরেও নিরাপত্তাতে জোর দেওয়া হয়েছে। ইডেনকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে বাঙ্কার। যেখানে কলকাতা পুলিশের কমব্যাট বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি ইডেন সংলগ্ন একাধিক রাস্তাতেও শুক্রবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি জোর দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাতেও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles