বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। দিলীপ ঘোষ ও রিঙ্কু ঘোষের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা মে মাসেই শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে। রিসেপশন পার্টিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী এবং হেভিওয়েট নেতা নেত্রীকে। আমন্ত্রণ করলেন দিলীপ। বিজেপি নেতা সদ্য বিয়ে করেছেন। রিসেপশন বলতে বিয়ের দিন একটা খাওয়াদাওয়া হয়েছিল। একেবারে ঘরোয়া বিয়ের খাওয়া। রিসেপশন বিষয়টি বাকি ছিল। রিসেপশন পর্বটিকে দিলীপ ঘোষ নাম দিয়েছেন,‘বিবাহোত্তর সংবর্ধনা’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানান দিলীপ ঘোষ। খবর প্রকাশ্যে। রাজ্য রাজনীতিতে আবার একটি বোমা বিস্ফোরণ।

রিসেপশন অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন কিনা নিশ্চিত নয়। উপস্থিত থাকলেই রাজ্য রাজনীতিতে সাইক্লোন। দিলীপ ঘোষ সৌজন্য রেখেছেন। পাল্টা সৌজন্য রাখা উচিত মনে করে উপস্থিত থাকতেই পারেন মমতা ও অভিষেক। দিলীপ ঘোষ ও রিঙ্কু ঘোষের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে রিসেপশন পার্টিতে আমন্ত্রিত অনেকেই। অনুষ্ঠানে মুখ্য আকর্ষণ মমতা–অভিষেকই। বিজেপির অন্দরে জোর চর্চা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘দিলীপবাবু আলাদা করে রিসেপশন করছেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সাংসদ ভাইপোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ঘটনার পর আবার ঝড় উঠবে।’ দিলীপ ঘোষকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক। দিলীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখছেন বিজেপির বেশ কয়েকজন এখনকার ও প্রাক্তন সাংসদ, বিধায়ক।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে হাজির হয়েছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সস্ত্রীক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে নানা আলোচনার ছবি সম্প্রচার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড়। বিজেপির রাজ্য নেতাদের দিলীপ ঘোষের মুণ্ডপাত। পাল্টা চোখা চোখা বিশেষণ ব্যবহার বর্ষীয়ান নেতা দিলীপের। ‘মমতার আঁচলের ছায়ায়’ বড় হয়ে বিজেপিতে করে খেতে এসেছে, তাঁদের থেকে তিনি বিজেপি করা শিখবেন না। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করা শুভেন্দু অধিকারীকে একপ্রকার তীব্র রোষানলের কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের। ‘‘বড় বড় কথা কারা বলছেন, যাঁরা মমতার আঁচলের তলায় থেকে নেতা হয়েছেন। চরিত্রের কথা বলছেন কারা, যাঁরা কালীঘাটের উচ্ছিষ্ট খেয়েছেন, আজ বিজেপির উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে আছেন, তাঁরা দিলীপকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছেন।’’ নাম না করেই আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। রাজনীতি ছাড়তে পারেন, তবে বিজেপি ছাড়ছেন না। দিঘায় বৃহস্পতি সকালে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে বললেন দিলীপ ঘোষ। বুধে রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে শামিল হয়ে দলের অন্দরে আক্রমণের মুখে দিলীপ। তোলপাড় বিজেপির অন্দর। দিলীপের বিরুদ্ধে বিজেপির নেতারা। দিলীপের বিরুদ্ধে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ দলের একাধিক রাজ্য নেতার। সবাইকে বাকসংযম রক্ষা করার নির্দেশ দিল্লির নেতাদের তরফে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ। দলবিরোধী বলে দাবি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ। রাজ্য বিজেপির কয়েকজন নেতার। দিল্লি থেকে দিলীপ ঘোষের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে দল। রাজ্যের কোনও নেতার মুখ না খোলার নির্দেশ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা মেনে দিলীপকে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ খোলেননি সুকান্ত মজুমদারও। বাক্যবান জারি সৌমিত্র খাঁ, অর্জুন সিংয়ের মতো নেতাদের। বিব্রত দল। দিলীপের বিরুদ্ধে এখনই কোনও পদক্ষেপ করতে চায় না কেন্দ্রীয় বিজেপি। সংযত হওয়ার বার্তা। সংঘের পুরনো সদস্যকে বহিষ্কার করলে বিজেপিরই অস্বস্তি বাড়বে।

বিজেপি দলের নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’-এর কথা স্মরণ করতে ভোলেননি। বুধে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারকে নিয়ে উপস্থিত দিলীপ। রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু একই দিনে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের দিনে কাঁথিতে ‘সনাতনী সমাবেশ’ করেন। সেখানে না গিয়েই দিঘায় যান দিলীপ। দিলীপের নাম না করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কারও ব্যক্তিগত বিষয়, তাঁর মন্তব্য, তাঁর চলার ধরন, তাঁর কাজের ধরন, প্রেম-প্রীতি-ভালবাসা, রাগ-বিরহ-দহন, এ সবের উত্তর আমি দিই না। ভবিষ্যতেও দেব না।’’ দিলীপ নাম না করেই পাল্টা খোঁচা শুভেন্দুকে, ‘‘বড় বড় কথা কারা বলছেন, যাঁরা মমতার আঁচলের তলায় থেকে নেতা হয়েছেন। চরিত্রের কথা বলছেন কারা, যাঁরা কালীঘাটের উচ্ছিষ্ট খেয়েছেন, আজ বিজেপির উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে আছেন, তাঁরা দিলীপকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছেন।’’

এর পরেই দিলীপ বিজেপির রাজনৈতিক সৌজন্যের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি সেই পার্টি করি, যে পার্টির প্রধানমন্ত্রী (অটলবিহারী বাজপেয়ী) কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। মমতা তখন আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আজ শত্রু হয়েছেন বলে মানি না।’’ এর পরে নওয়াজ় শরিফের নাতনির বিয়েতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাকিস্তান যাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। দিলীপ এ-ও জানিয়েছেন, সে ক্ষেত্র প্রধানমন্ত্রী কোনও ‘প্রোটোকল’ না মেনেই নওয়াজ়ের নাতনিকে বিয়েতে আশীর্বাদ করে এসেছিলেন। কারণ, এটাই বিজেপি। এর পরেই কটাক্ষের ধার বৃদ্ধি করে দিলীপ বলেন, ‘‘যাঁরা ২০২১ সালে এসেছেন, তাঁরা বিজেপি নিতে পারবেন না।’’ দিলীপের এই মন্তব্যের লক্ষ্য যে শুভেন্দু, তা স্পষ্ট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আগে ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু।

রাজনৈতিক সৌজন্য দেখালেও প্রয়োজনে প্রত্যাঘাতে পিছপা হবেন না। বাজপেয়ী এবং মোদীর প্রসঙ্গই তুলে জানান, বাজপেয়ী বাসে চড়ে সৌজন্য সফরে শত্রু-দেশ পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পরে যুদ্ধে ভয় পাননি। সীমান্তে সেনা পাঠান। যুদ্ধে জয়লাভ করেন। মোদীও প্রত্যাঘাতে ভয় পাননি। দিলীপ বলেন ‘‘আমার প্রানমন্ত্রী মোদী শরিফের মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন। তার পরে পাঠানকোট, পুলওয়ামা হামলা হয়েছিল। মোদী কিন্তু সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে ভয় পাননি।’’ বিজেপি আসলে এ রকমই। নাম না করে শুভেন্দুকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা অপসংস্কৃতি আনতে চাইছেন, তাঁরা বিজেপি জানেন না। অপসংস্কৃতির জন্যই দল পিছিয়ে পড়ছে’’। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ নাম না করে কটাক্ষ করেন বিজেপির বর্তমান রাজ্যসভাপতি সুকান্তকেও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকার সময়ে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক আসন পেয়েছে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘‘২০২১ সালে বিজেপি তৈরি হয়নি। ২৫৭ জন শহিদ হয়েছেন। কারণ, আমার সময়ে তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। এর ফলে ৭৭ আসনে জিতেছি। আজ এক ডজন বিধায়ক চলে গিয়েছেন আমাদের ছেড়ে। সাংসদ চলে গিয়েছেন।’’ সুকান্ত স্পষ্ট বলেন, ‘‘দল মনে করে, যে ভাবে মুর্শিদাবাদে হিন্দুরা মার খেয়েছে, যে ভাবে মন্দির ভাঙা হয়েছে, বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার পরে দিঘা জগন্নাথধাম যাওয়া মানে সেগুলোকে অবজ্ঞা করা। তাই দল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আমরা কেউ ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাব না। উনি ব্যক্তিগত ভাবে গিয়েছেন।’’

দিলীপ স্পষ্ট করেন, ‘‘বিজেপি তিনি ছাড়ছেন না। কিছু লোক হয়তো চাইছেন, আমি পার্টি ছাড়লে জায়গা খালি হবে, সুবিধা হবে। সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য, পশ্চিমবঙ্গে যত দিন না রাজনৈতিক পরিবর্তন হচ্ছে, এই লড়াই চলবে। কারও সঙ্গে কথা বললে যদি দল ছাড়া হয়, তা হলে সেই রাজনীতিকে তিনি ঘেন্না করেন। যাঁরা চারটে বিয়ে করেন, ১৪টা গার্লফ্রেন্ড রাখেন, যাঁদের রাতের জীবন এক, দিনের জীবন এক, তাঁরা দিলীপ ঘোষকে ত্যাগী-ভোগী বলছেন! কিছু বলতে হলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলা হোক। তিনি আগেরও রাস্তায় ছিলেন। আগামী দিনেও থাকবেন।’’ দিলীপের দিঘা সফরের পরে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র বলেন, ‘‘একজন ত্যাগী থেকে কী ভাবে ভোগী হতে হয়, তার আদর্শ নিদর্শন আপনি দিলীপবাবু। বাবুল সুপ্রিয় থেকে মুকুল রায়, এঁদের তাড়িয়ে আজ তাঁদের পথ অনুসরণ করছেন।’’ দিলীপ ঘোষ দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে বিজেপির অন্দরে বিতর্ক। দিলীপ ঘোষের এই কাজকে মোটেও সমর্থন করতে পারেননি শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদাররা। দিঘায় সমুদ্রের গর্জনকে ছাপিয়ে গেল দিলীপ ঘোষের গর্জন। বিজেপির একাংশকে ধুয়ে দিয়ে দিলীপ বলেন, আমার এত বছরের সাধনার জীবন, যারা নিজেদের ধান্দায় অন্য দল থেকে এসেছে, তাদের কাছে বিজেপি শিখব না। যারা মমতা ব্যানার্জির আঁচলে বড় হয়েছে, নিজেদের ধান্দায় বিজেপিতে এসেছে। বিজেপিকে যে সাফল্য এনে দিয়েছিলাম, এখন সেসব নেই কেন? জনপ্রতিনিধি কমছে। বিজেপির স্বাদ চলে গেছে। ২০২১ থেকে জেতার অভ্যেস চলে গেছে দলের। মানুষ ভরসা রাখতে পারছেন না। অন্য দল থেকে অনেকে কামাতে এসেছেন। করে খাচ্ছেন। সৌজন্য আর লড়াই আলাদা। প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীজি যে মমতা ব্যানার্জির মায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে এসেছিলেন, আমি সেই সংস্কৃতির লোক। অপসংস্কৃতি ঢুকে দলটার ক্ষতি করছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দিলীপ দিঘার মন্দির নিয়ে বলেন, এই দর্শন রাজনীতির ঊর্ধ্বে। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে নিজের বন্ধু বলেও সম্বোধন করেন। বলেন, ‘গতকাল দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হয়েছে। আমরাও সেখানে ছিলাম। ভগবানকে তর্কের ওপরেই রাখা উচিত। কিন্তু অভ্যাসবশত অনেকেই বিতর্ক শুরু করেছেন। মজার ব্যাপার, আমি কেন ভগবানের কাছে এসেছি, তাতে অন্য কেউ প্রশ্ন তুলছেন। আমি ছোটবেলা থেকেই মন্দিরে যাই। আমি দেখি না কে মন্দির তৈরি করছে, আমি ভগবানকেই দেখি। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ার বিষয়ে কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল। দল থেকে অফিশিয়ালি কেউ আমাকে মানাও করেনি, স্বাগতও জানায়নি।’ নিজের অবস্থানকে বাম জমানার প্রতাপশালী মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে তুলনা করেন দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যারা স্বতন্ত্র, স্বাভিমানী রাজনীতি করে, পার্টি তাদের দেখেই চলে। সুভাষ চক্রবর্তী বামফ্রন্টকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তিনি লক্ষ লক্ষ লোক নিয়ে আসতেন, নেতারা ব্রিগেডে ভাষণ দিতেন। কারও লোক আনার ক্ষমতা ছিল না। পার্টিতে ঈর্ষা থাকবেই। পার্টির কর্মীরা কার উপরে ভরসা করেন, কে লড়তে শিখিয়েছে, কে জিততে শিখিয়েছে, এটা দেখতে হবে। কারও সঙ্গে কথা বললেই যদি পার্টি থেকে চলে যাওয়া হয়, ওই নীতিকে রাজনীতিকভাবে ঘৃণা করি।’

দিলীপের দিঘায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দিঘায় যাওয়ার পথ কাঁথি শুভেন্দুর বাসস্থান। একই দিনে শুভেন্দুর উদ্যোগে সনাতনী সম্মেলনে শুভেন্দু আমন্ত্রণ জানাননি দিলীপকে। দিলীপও আশপাশ না গিয়ে দিঘায় পৌঁছে রাজকীয় অভ্যর্থনা পান। নিজে এমনকি স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার গলায় ফুলের মালা পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে কুশলাদি বিনিময়। মমতাকে বলেছেন, ‘‘ভগবান আপনাকে দিয়ে একটা বড় কাজ করিয়ে নিলেন।’’ মমতার আয়োজনে দিঘার অনুষ্ঠানকে সাধুবাদ জানান। দিলীপ যা করেছেন, ভেবেচিন্তেই করেছেন। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায় বলেন, ‘‘এর মধ্যে রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নেই!’’ তথাগতর বক্তব্য শুনে দিলীপের নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ। ‘‘উনি বিজেপি সভাপতি হয়ে কী করেছেন? ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন! আর সন্ধ্যায় বন্ধুবান্ধব ডেকে মাল খেয়ে ফুর্তি করেছেন। উনি যদি বিজেপিকে ৪০ শতাংশ ভোট এনে দিতে পারতেন, ওঁকে প্রমাণ করতাম।’’ দিলীপের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে শুভেন্দুর ক্লান্ত স্বর, ‘‘মন্তব্য করব না। আমাদের সেনা কবে পাকিস্তানকে জবাব দেবে, তা নিয়ে ভাবছি। বাংলার সব বিজেপি কর্মী মমতাকে উপড়ে ফেলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। আমরা সে সব নিয়ে ভাবছি। অন্য কিছু নিয়ে আমরা ভাবছি না।’’ রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সাবধানি, ‘‘দিলীপ ঘোষ বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বিধায়ক ছিলেন, সাংসদ ছিলেন, দলের রাজ্য সভাপতি ছিলেন। তিনি যা বলেছেন, জনসমক্ষেই বলছেন। দলের অবস্থান কী, তা রাজ্য সভাপতি জানিয়ে দিয়েছেন। আমি আর কোনও মন্তব্য করব না।’’ দিলীপ বহিরাগত ও তৃণমূল থেকে আগত বিজেপি নেতাদের, কার্বলিক অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছেন বলে আলোচনা রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলে। ফলে সাপখোপ বেরিয়ে আসছে অজান্তেই? শুভেন্দুকে জব্দ করতেই জগন্নাথ ধাম দর্শনে গিয়েছিলেন দিলীপ, একথা স্পষ্ট! দিঘা বিতর্কের মধ্যেই মমতা ও অভিষেককে আমন্ত্রণ দিলীপের, বিবাহোত্তর সংবর্ধনায়। এমতাবস্থায় রাজ্য বিজেপির অন্দরে আলোড়নের মাত্রা তরতর করে বাড়তে চলেছে বলাই বাহুল্য?




