মাধ্যমিকে ৬৯৬। প্রথমস্থানে অদৃত। পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশ করেন মাধ্যমিকের ফলাফল। এবছর পাশের হারে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর ৯৬.৪৬ শতাংশ। মাধ্যমিকে প্রথম রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের ছাত্র অদৃত সরকার। ২ মে, বৃহস্পতিতে প্রকাশিত ২০২৫-এর মাধ্যমিক ফলাফল। ৬৯ দিনের মাথায় ফলপ্রকাশ। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ ফেব্রুয়ারি, শেষ ২২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষার্থী ৯ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪২৫ জন। রেগুলার পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। পাশের হার ৮৬.৫৬ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় বেশি। প্রথম দশে ৬৬ জন পরীক্ষার্থী। মেধাতালিকায় মাধ্যমিকে প্রথম উত্তর দিনাজপুরের আদৃত সরকারের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬, ৯৯.৪৬ শতাংশ । যুগ্ম দ্বিতীয় অনুপম বিশ্বাস এবং সৌম্য পালদের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪। তৃতীয় এক জন। প্রথম দশে থাকা পড়ুয়াদের স্কুল, প্রাপ্ত নম্বরের তালিকা।
প্রথম রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের অদৃত সরকার। প্রাপ্ত নম্বর-৬৯৬।
দ্বিতীয় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের অনুভব বিশ্বাস, বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের সৌম্য পাল। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪।
তৃতীয় বাঁকুড়ার কোতুলপুর সরোজ বাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ের ঈশানী চক্রবর্তী। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩।
চতুর্থ বর্ধমানের নিরোল উচ্চ বিদ্যালয়ের মহম্মদ সেলিম, পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টাই মডেল ইনস্টিটিউটের সুপ্রতিক মান্না। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২।
পঞ্চম গৌরহাটি হরদাস ইনস্টিটিউশনের সিনচ্যান নন্দী, কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশনের চৌধুরী মহম্মদ আসিফ, ইটাচুনা শ্রী নারায়ণ ইনস্টিটিউশনের দীপ্তজিৎ ঘোষ, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সোমতীর্থ করণ। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।
ষষ্ঠ ফালাকাটা হাইস্কুলের অঞ্চ দে, বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন হাইস্কুলের জ্যোতি প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, গোরাসোলে মুরালিধর হাই স্কুলের রুদ্রনীল মান্না, টাকি রামকৃষ্ণ মিশন হাই স্কুলের অঙ্কন মণ্ডল, সারদা বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্রদীপ মণ্ডল। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০।
সপ্তম ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেবার্ঘ্য দাস, গঙ্গারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অঙ্কন বসাক, বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের আরিত্রা দে, বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুলের দেবাদ্রিতা চক্রবর্তী, অমরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সোরিন রায়। প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯।
সপ্তম ফালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেবার্ঘ্য দাস, গঙ্গারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অঙ্কন বসাক, বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের আরিত্রা দে, বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুলের দেবাদ্রিতা চক্রবর্তী, অমরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সোরিন রায়। প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯।
অষ্টম অনির্বাণ দেবনাথ তুফানগঞ্জ নৃপেন্দ্র নারায়ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল, সত্যম সাহা রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দির, আসিফ মেহবুব জয়েনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মোঃ ইনজামাম উল হক টার্গেট পয়েন্ট আর স্কুল উচ্চ বিদ্যালয়, সৃজন প্রামাণিক রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির, অরিত্র সাহা রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির, শুভ্রা সিংহ মহাপাত্র বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, অরিজিৎ মণ্ডল রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন, স্পন্দন মৌলিক রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন, শ্রীজয়ী ঘোষ নব নালন্দা শান্তিনিকেতন হাই স্কুল, পাপড়ি মণ্ডল বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাই স্কুল, সৌপ্তিক মুখোপাধ্যায় কংসাবতী শিশু বিদ্যালয়, উদিতা রায়। বেলদা প্রভাতী বালিকা বিদ্যাপীঠ, অরিত্র সাঁতরা মনসুকা লক্ষ্মীনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়, পুষ্পক রত্নম নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, অবন্তিকা রায়, রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুল। প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮।
নবম স্থানে দেবাঙ্কন দাস তুফানগঞ্জ নৃপেন্দ্র নারায়ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল, মৃন্ময় বসাক কালিয়াগঞ্জ সরলা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়, অনীক সরকার বালুরঘাট হাইস্কুল, অরিত্রী মণ্ডল বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুল, দিশা ঘোষ দুবরাজপুর শ্রীশ্রী সারদেশ্বরী বিদ্যামন্দির, ময়ূখ বসু কাঁকুরিয়া দেশবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়, পরমব্রত মণ্ডল বর্ধমান মিউনিসিপাল উচ্চ বিদ্যালয়, অয়ান নাগ কামারপুকুর আর.কে.মিশন মাল্টিপারপাস স্কুল, অঙ্কুশ জানা। বেলদা গঙ্গাধর একাডেমি, দ্যুতিময় মণ্ডল বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তন, ঐশিক জানা কন্টাই মডেল ইনস্টিটিউট, প্রোজ্জ্বল দাস শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল, অনীশ দাস প্রফুল্ল নগর বিদ্যামন্দির, তানাজ সুলতানা। জাঙ্গিপাড়া বালিকা বিদ্যালয়। প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৭।
দশম স্থানে কৌস্তভ সরকার রায়গঞ্জ করনেশন উচ্চ বিদ্যালয়, আমিনা বানু মোজামপুর গার্লস হাই স্কুল, উবে সাদাফ সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, প্রিয়ম পাল বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, তুহিন হালদা বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, দেবায়ন ঘোষ কোটাসুর উচ্চ বিদ্যালয়, এসকে আরিফ মণ্ডল। গিরিজোর সাঁওতাল উচ্চ বিদ্যালয়, সম্যক দাস নব নালন্দা শান্তিনিকেতন হাই স্কুল, স্বাগত সরকার কাসেমনগর বিএনটিপি গার্লস হাই স্কুল, অয়ন্তিকা সামন্ত চিলাডাঙ্গী রবীন্দ্র বিদ্যাবীথি, সমন্বয় দাস তমলুক হ্যামিলটন উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্রুত সামন্ত। ধন্যশ্রী কে.সি. উচ্চ বিদ্যালয়, সায়ন বেজ পরমানন্দপুর জগন্নাথ ইনস্টিটিউশন, সোহম সাঁতরা। মহিষাদল রাজ উচ্চ বিদ্যালয়, শৌভিক দিন্দা সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির, রাহুল রিক্টিয়াজ মজিলপুর জে.এম. ট্রেনিং স্কুল। প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৬।

প্রথম স্থানে রায়গঞ্জের করোনেশন হাই স্কুলের ছাত্র অদৃত সরকার বরাবরই মেধাবী। ১২ জন গৃহশিক্ষকের কাছে পড়া সেরে ছবি আঁকা নেশাকেও বজায় রাখত। প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই আনন্দে কেঁদে ফেলে অদৃত বলে, “প্রথম হব কোনওদিন ভাবিনি।” রায়গঞ্জ পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বীরনগরের বাসিন্দা অদৃত সরকারের বাবা অমিত সরকার পেশায় পিএফ কর্মী। মা গৃহবধূ। পড়াশোনা নিয়েই থাকতে পছন্দ অদৃতর। মাধ্যমিকের জন্য অংকের শিক্ষক ছিলেন দু’জন। শুক্রবার সকালে পর্ষদ সভাপতি প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে নাম ঘোষণা শুনেই ঘুম ভাঙে। বাবা-মা-দিদির কাছে খবর পেয়েই কেঁদে ফেলে। এদিকে বাড়ি জুড়ে উৎসবের আমেজ। সন্তানের সাফল্যে গর্বিত বাবা-মা। অন্যান্য বিষয়ের বই পড়তেও খুব ভালোবাসে। কুইজে খুব ভালো, সদ্য জেলার একটি প্রতিযোগিতায় জয়ী এরপর কী করবে অদৃত? ভবিষ্যতে নিট বা জয়েন্ট এন্ট্রান্স উত্তীর্ণ হওয়াই লক্ষ্য।

ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে ভালোবাসে মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী অনুভব মণ্ডল। ভবিষ্যতে লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া, মানুষের পাশে থাকা। যুগ্ম দ্বিতীয় সৌম্য পালের লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে গবেষনা করা। মালদহের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনুভব বিশ্বাস। মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের ছাত্রের বাবা অরূপ বিশ্বাস পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ বর্তমানে রয়েছেন দিল্লিতে। অনুভবও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সেখানেই। অনুভবের মা রিমা দেবী ছেলের সাফল্যে গর্বিত। পড়াশোনায় ভালো। ঘড়ি ধরে পড়াশোনা করতে পছন্দ করত না, অবসর সময়ে হয় ক্রিকেট দেখা নয়তো মেতে থাকত উপন্যাসে। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে অনুভব। যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর হাই স্কুলের ছাত্র সৌম্য পালের গানবাজনার শখ। সময় পেলেই রেওয়াজ চলে। স্বপ্ন গবেষনা করা। মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যা মন্দির স্কুলের তিন পরীক্ষার্থী মেধাতালিকায়। দ্বিতীয় অনুভব, যুগ্ম অষ্টম সৃজন প্রামাণিক এবং অরিত্র সাহা।

মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় তৃতীয় বাঁকুড়ার ঈশানী চক্রবর্তী। মা পেশায় শিক্ষিকা। মেধাতালিকায় তৃতীয় হলেও, রাজ্যে ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম। কোতুলপুর সরোজবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ঈশানীর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। ৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে চলতি বছর মাধ্যমিক পাশ ছাত্রী। ঈশানীর সাফল্যে অত্যন্ত খুশি গৃহশিক্ষক। পঞ্চম শ্রেণি থেকে ঈশানীকে পড়াচ্ছেন। গান ও আঁকায় ভালো ঈশানী। একান্নবর্তী পরিবারে বেড়ে ওঠা ঈশানীর। মা, বাবার সঙ্গে জেঠু, জেঠিমা, দাদার আদরে বেড়ে ওঠা ঈশানী গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। মা সোনালী চক্রবর্তী, পেশায় শিক্ষিকা।




