Tuesday, June 2, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তৃণমূলে ‘গৃহযুদ্ধ’। জ্বলেপুড়ে খাক মমতার সাধের দল!‌ ৫০ তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে স্পিকারের কাছে ঋতব্রত!

RK NEWZ তৃণমূলে ‘গৃহযুদ্ধ’। জ্বলেপুড়ে খাক সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের অন্দরমহল। গত রবিবারই যার ইঙ্গিত মিলেছিল। সাতদিন আগে ডাকা বিধায়কদের সভাতে হাজির হয়েছিলেন ৮০-র মধ্যে মাত্র ২০। এহেন অবস্থায় সভা বাতিল করতে বাধ্য হন মমতা। কিন্তু সোমবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসে দুই বহিষ্কৃত বিধায়কের ডাকা বৈঠকেই হাজির ৩০-এর বেশি বেসুরো তৃণমূল বিধায়ক। তাঁদের পক্ষে সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বলে ইতিমধ্যে দাবি করেছেন বহিস্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার। এই ঘটনায় জল্পনা ছড়িয়েছে, বাংলাতেও কি এবার মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে মডেল এসে পড়েছে! এরমধ্যেই বিস্ফোরক পোস্ট মন্ত্রী তাপস রায়ের। যা ঘিরে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। সমাজমাধ্যমে তাপস রায় লিখছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত।’ এহেন পোস্টের শেষে মন্ত্রীর টিপ্পনি, ‘খেলা হবে।’ যা গত কয়েকদফার নির্বাচনে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে শোনা গিয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর এহেন পোস্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ৫০ জন তৃণমূল বিধায়কের সই সম্মিলিত একটি চিঠি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা দিতে চলেছেন ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও আজ, মঙ্গলবার বিধানসভায় স্পিকার নেই। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আচমকা দিল্লি যেতে হয়েছে। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ঋতব্রত ওই চিঠি জমা দিতে পারেন বিধানসভার সচিবের কাছে। শোনা যাচ্ছে, ৫০ বিধায়কের সই সম্মিলিত চিঠিতে নতুন তৃণমূলের ভিত্তিপ্রস্তরের কথা বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের আসল মালিক তাঁরাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। অতীতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এহেন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ। শিবনাথ শিন্ডের বিদ্রোহে কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে যায় শিবসেনা। একের পর এক বিধায়ক উদ্ধব ঠাকরের হাত ছাড়েন। এমনকী শিবসেনার প্রতীকও চলে যায় তাঁর হাত থেকে। একই অবস্থা হয় এনসিপিরও। ক্ষমতা চলে যায় শরদ পাওয়ারের হাত থেকেও। সেই একই ঘটনা ঘটতে চলেছে এবার তৃণমূলে!

দল থেকে বহিষ্কারের পর ফের বিস্ফোরক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেককে নিশানা বহিষ্কৃত বিধায়কের। তাঁর তোপ, “আমাদের নিরাপত্তা চাইতে হয়নি। তাঁকে চাইতে হয়েছে, যাঁকে জনগণ রক্ষা করবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল আজ বিপদের মুখে। পিছনে দায়ী অভিষেক। নাম না করে এ কথাও বলেন তিনি। তাঁর আরও মন্তব্য, “আমি গদ্দার হতে পারি। চোর নয়। আমাকে কেউ চোর বলছে না।” সোনারপুরে জনরোষে আক্রান্ত হওয়ার পর সাংসদ হিসাবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাবেন কি না, ঠিক করবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই আবহে মঙ্গলবার সকালে বিধানসভা যাওয়ার আগে, অভিষেককে আক্রমণ করলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এত বড় জননেতা ২৬ দিন বাইরে বেরতে পারেননি। আমি গদ্দার হতে পারি। চোর নই। বিধানসভা এলাকায় যাচ্ছি অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেই। আমাকে কেউ চোর বলছে না।” দলবিরোধী কাজে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রতর আরও দাবি, কর্পোরেট ধাঁচে দলকে তৈরি করার চেষ্টাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি তৃণমূল স্তরের এই দলকে শেষ করে দিল। তৃণমূলের একাধিক দুর্নীতি তিনি অস্বতিবোধ করলেও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট বলে জানিয়েছেন তিনি। ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী খুব কম আছেন। উনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল, আছে থাকবে।” মঙ্গলবার বিধানসভায় যাবেন বলে জানিয়েছেন উলুবেড়িয়ার বিধায়ক। বিধানসভার সচিবের সঙ্গে দেখা করবেন কি না, তা তিনি বলেননি। অন্য তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত। অন্যদিকে প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জল্পনা, ঋতব্রত তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে বিধানসভায় দাবি করতে পারেন তাঁরা প্রকৃত তৃণমূল। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাঁর কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles