RKNEWZ নিটে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপি-র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। মঙ্গলবারও যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন বহু সমর্থক। নতুন করে সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করে। রাজধানী দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে উত্তাল সারা দেশ। মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা ধর্না নিত্যনতুন মোড় নিচ্ছে। ২৫ দিন হল অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। যন্তর মন্তর ছাড়তে নারাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নিটে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার সিজেপি-র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। মঙ্গলবারও যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন অনেকে। এর পর বুধবার সকাল থেকেও নতুন করে সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি একটাই— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা! প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিযানের পর বিজেপি-বিরোধী জোট বুধবারেও বিক্ষোভে নামে। আগের চার দফা দাবির সঙ্গে এ বার জোড়া হয়েছে অমিত শাহের ইস্তফার দাবিও। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে ‘পুলিশি অত্যাচারের’ একাধিক ছবি এবং ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ছবি এবং ভিডিয়োগুলিতে দেখা গিয়েছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করছে। টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিবাদীদের। কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ছোড়া হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের দিকে। আবার বিক্ষোভকারীদের একাংশকে লাঠির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেও দেখা গিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে অনেককে। দেশের একাধিক বিরোধী দলও শামিল হয়েছে এই প্রতিবাদে। তালিকায় রয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি। এর মধ্যেই দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে ঘিরে বিজেপির উপর যে ‘চাপ’ তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগাতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানো তৃণমূলও। আন্দোলনের আঁচ গিয়ে পড়েছে নিউ ইয়র্ক, লন্ডনের মতো বিদেশের কিছু শহরে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, অনশনরত ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমেরিকার একটি ‘অ্যাডভোকেসি গ্রুপের’ সদস্যেরা নিউ ইয়র্ক এবং সান হোসে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামে ওই দল জমায়েত করে নিউ ইয়র্কের ইউনিয়ন স্কোয়্যার এবং সান হোসে শহরে মহাত্মা গাঁধীর মূর্তির সামনে। সেই জমায়েত থেকেও উঠে এসেছে ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবি। লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ওই গ্রুপেরই সদস্যেরা। নিটে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার সিজেপি-র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। সিজেপি এবং বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নামেন রাহুল গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরের মতো বিরোধী নেতা-নেত্রীরা। ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অদূরে ধর্নায় বসেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং প্রিয়ঙ্কা বঢরা গাঁধী-সহ কংগ্রেস সাংসদেরা। পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, শরদ পওয়ারপন্থী এনসিপির সুপ্রিয়া সুলেও সেখানে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার মোদীর বাসভবনের কাছে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোককল্যাণ মার্গের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ না করার জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ মারফত বার্তা দিয়েছিলেন। রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি শুরু করার সন্ধ্যায় রাহুলদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির মার্গ থানায়। এর পরে সেখানে হাজির হন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গাঁধী, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরেরা। শেষ পর্যন্ত রাতে রাহুলদের মুক্তি দেয় পুলিশ। রাতেই আবার পুলিশকে লক্ষ্য করে যন্তর মন্তরে ইট, পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে সরকারপক্ষের তরফে। সব মিলিয়ে সোমবারের মতো মঙ্গলবারও দিনভর উত্তপ্ত ছিল পরিবেশ। বুধবার সকালেও তার আঁচ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিযানের সময় চার দফা দাবি জানিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। সেগুলি হল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, সোমবারের সংসদ অভিযানের সময় পড়ুয়াদের উপর ‘হামলাকারী’ পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার, পুলিশি অত্যাচারের দায় স্বীকার করে মোদী সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে শাহের বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে আলোচনা। মঙ্গলবার থানায় আটক থাকাকালীন রাহুলের পোস্ট করা ভিডিয়োয় উঠে আসে নতুন দাবি— অমিত শাহের ইস্তফা। মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধর্না নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। রাহুল গাঁধী-সহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুললেন তিনি। ধর্মেন্দ্রের দাবি, কংগ্রেস নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের সমাধান করার চেষ্টা না করে, সংসদের বাদল অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই মর্মে তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন। শিক্ষায় দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম। সেখান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সফদরজঙ্গ হাসপাতাল থেকে অনশনে বসা সোনমকে গুরুগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সফদরজঙ্গ হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, ছুটির সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, সোনমের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে মঙ্গলবার রাতে গুরুগ্রামের ওই হাসপাতালে যান জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ। তবে তাঁরা ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেছেন কি না, তা জানা যায়নি। আবার নিট-কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবি করে সোমবার সিজেপি সংসদের পথে যে মিছিল করেছিল সিজেপি, সেখানে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে লাঠি চালায় পুলিশ। চলে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান। পুলিশ মিছিলকারীদের উপরে ‘অত্যাচার’ চালিয়েছে অভিযোগ করে শীর্ষ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন এক আইনজীবী। এ নিয়ে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ। দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে সমর্থন জুগিয়েছেন দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও। পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলিউডের একাংশও। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপও এঁটেছেন অনেকে। কোনও মন্তব্য করতে চাননি অনেকে। এখন দেখার দিল্লির এই বিক্ষোভ কোন পথে এগোয়। সরকারই বা পুরো বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ করে।




