RK NEWZ তৃণমূলের বিরুদ্ধে আকণ্ঠ দুর্নীতির অভিযোগ তো ছিলই। ভরাডুবির পর বিরোধী দল হিসেবে নতুন করে সই বিতর্কে এবার নাকানিচোবানি খাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। “দুর্নীতির অভিযোগে মানুষ মুখ ফিরিয়েছেন, অপকর্মের জন্য পার্টিটাকেই ব্যান করা উচিত”। তৃণমূলকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তুলনা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের। বিরোধী দলনেতা রেজোলিউশনে সই জাল কাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে বলেন, “পুরো পার্টিটাই জালি। আর কী আশা করা যায়, মুষল পর্ব শুরু হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায় বাংলার পক্ষে ততই মঙ্গল”। দিলীপের দাবি, “অপকর্মের জন্য পার্টিটাকেই ব্যান করা উচিত। ওদের প্রতীক ব্যান করে দেওয়া উচিত। জঙ্গি সংগঠনের মতো কাজ করে তৃণমূল কংগ্রেস।” দিলীপ কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তিনি বলেন, “সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন। এখন তার ফল ভোগ করতে হবে। ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম। রাখাল স্কুলে সবার খাতা বই পেনসিল চুরি করত। যেদিন ধরা পড়ল সেদিন মাসির কানে কথা বলার বাহানায় মাসির কান কামড়ে ছিঁড়ে দিয়েছিল। বলল মাসি তুমিই আমাকে চুরি করতে শিখিয়েছ। কান কাটা এখনও বাকি আছে পিসির”। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়েও কার্যত ব্যঙ্গাত্মক সুর শোনা গেল মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলায়। সৌগত রায়ের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি ডিমের ক্রাইসিস আছে। এর-তার গায়ে ডিম ছুঁড়ে নষ্ট করবেন না। ডিম খান। শক্তি বাড়ান। ফালতু লোককে ডিম মেরে লাভ নেই।”
সরকারি ত্রাণের ত্রিপল নিজের বাড়িতে মজুত করে রাখার অভিযোগ। গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী। তিনি আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। ইতিমধ্যে ধৃত তৃণমূল নেতাকে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে পুলিশ। কীভাবে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল তাঁর বাড়িতে এল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ, মঙ্গলবার ধৃত তরুণ চক্রবর্তীকে আসানসোল আদালতে তুলবে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার গরিব মানুষদের জন্য সরকারের তরফে ত্রিপল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তা বিলি না করে বেশিরভাগটাই নিজের বাড়িতে রেখে দিয়েছিলেন ধৃত ওই তৃণমূল। এহেন অভিযোগ পাওয়ার পরেই মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে হানা দেন পুলিশ আধিকারিকরা। তল্লাশি চালিয়ে বিপুল ত্রিপল উদ্ধার হয়। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই তৃণমূল কাউন্সিলরকে। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু সরকারি ত্রিপল কেলেঙ্কারিই নয়, ধৃতের বিরুদ্ধে অবৈধ বালি কারবার, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী এক আধিকারিকের দাবি, প্রত্যেকটি ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুগলিতেও পুলিশের তরফে চলছে ধরপাকড়। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল উত্তরপাড়া শ্রীরামপুর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কৌশিক দাসকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকে। ধৃত দুজনের নাম অনিরুদ্ধ বাগ ও বলবির সিং। ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ছাড়াও বেআইনি আর্থিক লেনদেন,ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সমস্ত অভিযোগ পুলিশের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোটে ভরাডুবির পরও নিয়ম করেই তৃণমূল কার্যালয়ে আসতেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর ঘরবন্দি তিনি। বোলপুরের চণ্ডিদাস রোডের জেলার দলীয় কার্যালয় কার্যত ফাঁকা। এবার বীরভূমে বিধানসভা নির্বাচন অনুব্রত মণ্ডল ও জেলা কোর কমিটির রণকৌশল মেনেই পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু ফলাফল প্রত্যাশামাফিক হয়নি। জেলার ১১টি বিধানসভার মধ্যে ৬টিতেই জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পরও নিয়মিত যেতেন দলীয় কার্যালয়ে। বিকেল সাড়ে চারটের পর এসে ঘণ্টা দুয়েক থাকতেন। তারপর বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার পর আর পার্টি অফিসমুখো হননি তিনি। ফল ঘোষণার পর থেকে পার্টি অফিসে চৌকাঠ মাড়াননি কোর কমিটির কোনও সদস্য। দলীয় কর্মীদেরও দেখা নেই। ফলে নিচুপট্টি এলাকার জেলা তৃণমূল কার্যালয় এখন প্রায় কর্মী শূন্য। দলীয় কার্যালয়ের সামনে চায়ের দোকানে বসে থাকা কয়েকজন কর্মীর কথায়, “৪ মে গণনার দিন সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ে উপচে পড়া ভিড় ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় কমতে শুরু করে। তারপর থেকে আর সেভাবে কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা দেখা যায়নি। বিশেষ করে বোলপুর শহরে দল পিছিয়ে পড়ায় হতাশা আরও বেড়েছে।” অনুব্রত মণ্ডলের ওয়াই প্লাস নিরাপত্তায় ১০ জন দেহরক্ষী ছিলেন। সামনে পিছনে পাইলট গাড়ি। বাড়িতে চারজন পুলিশ কর্মী থাকতেন। কয়েক দিন আগে ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। ছিলেন শুধু দুজন দেহরক্ষী, বাড়িতে একজন পুলিশ কর্মী। সেই নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর অনুব্রত কার্যত গৃহবন্দি। যদিও এ নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
ত্রাণের সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতি! আটক কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। সোমবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় কাটোয়া থানার পুলিশ। অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে থাকলেও দীর্ঘক্ষণ বাড়ির দরজা খোলেননি প্রাক্তন বিধায়ক। এমনকী অন্য দরজা দিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও অভিযোগ। সেই সময় অভিযুক্ত দেবপ্রসাদ বাগকে নাদনঘাট পুলিশ আটক করে বলে খবর। এরপরেই তাঁকে তুলে দেওয়া হয় কাটোয়া থানার হাতে। সেই সময় প্রাক্তন বিধায়ককে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয় মানুষজন। যা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সংক্রান্ত একটি মামলায় গত কয়েকদিন আগেই কালনা ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রণব রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের নাম উঠে আসে। এরপর সোমবার গভীর রাতেই কালনা শহরে তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘিরে ফেলে কাটোয়া থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুরু হয় ডাকাডাকি। অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে দেবপ্রসাদ বাগ থাকলেও সাড়া দেননি। ফলে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে হয় পুলিশ আধিকারিকদের। এদিকে পুলিশের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কয়েকশো মানুষের জমায়েত হয়ে যায়। অভিযোগ, সেই সময় বাড়ির অন্য একটি দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন দেবপ্রসাদ বাগ। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পালানোর আগে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত প্রাক্তন ওই তৃণমূল বিধায়ক। আটক করে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় মানুষজন বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রাক্তন বিধায়ককে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগানও দেন। জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে ত্রাণ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। এমনকী ধৃত প্রণব রায়ের মুখোমুখি দেবপ্রসাদ বাগকে বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে খবর। বলে রাখা প্রয়োজন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকী সেই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন-বর্তমান বিধায়করাও।





