RK NEWZ ২৫ দিন টানা অনশনে রয়েছেন সোনম। বর্তমানে তিনি ভর্তি গুরুগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ‘মেদান্তে’। তাঁকে অনশন ভাঙতে অনুরোধও করেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি অনড়। বুধবার হাসপাতাল থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। জানিয়ে দিলেন, সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তবেই তিনি অনশন ভাঙবেন। তবে কেন্দ্র এখনও এই আবেদনে সাড়া দেয়নি। অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বিরোধী সাংসদরা। কিন্তু হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। গোটা বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন সোনমপত্নী গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর কথায়, সোনমকে আটক করা হয়নি, তা সত্ত্বেও হাসপাতাল চত্বরে সবসময়ে পুলিশ মোতায়েন থাকছে। জানা গিয়েছে, সোনমকে অনশন ভাঙার আবেদন জানানোর জন্য দেখা করতে এসেছিলেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁরা এনেছিলেন একটি চিঠি। আপ, আরজেডি, সিপিআই, জেএমএমের সাংসদরা বুধবার দেখা করতে গিয়েছিলেন সোনমের সঙ্গে। বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদের প্রতি তাঁদের আর্জি, ‘দেশের যুবসমাজের প্রতি যেভাবে অবদান রেখেছেন আপনি, সেই অবদানকে শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আপনি লড়াই করছেন। এই আদর্শের উপর ভর করেই শক্তিশালী এবং উজ্জ্বল ভারত গড়ে উঠবে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার অনির্দিষ্টকালের অনশন প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। আপনার বলিদান নয়, দেশের দরকার আপনার জ্ঞান এবং পরিচালনা।’ এই চিঠি সোনমের হাতে তুলে দিতে পারেননি বিরোধী সাংসদরা। হাসপাতালে প্রবেশের আগেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। সেই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন গীতাঞ্জলি। তাঁর সাফ কথা, “হাই কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা ছিল, সোনমকে আটক করা হয়নি। চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে আনা হচ্ছে, সেখানে পুলিশ থাকবে না। এখন সাংসদরা অনশন বন্ধ করতে সোনমকে অনুরোধ করতে আসছেন তাঁদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে কি সরকার চাইছে না সোনম অনশন ভাঙুক?”
দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন ‘ককরোচে’র? রাজ্যগুলিকে বিশেষ নির্দেশের পথে কেন্দ্র। দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ। শুরু হয়েছিল দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে। তবে গোটা দেশের যুবসমাজের মধ্যে ককরোচ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছ। মুম্বইতেও ‘ককরোচ’দের জমায়েত হয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, প্রত্যেকটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। সমস্তরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য়গুলিকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ একগুচ্ছ দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লির যন্তর মন্তরে চলছিল প্রতিবাদ কর্মসূচি। সেখানে যোগ দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন। তারপর ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে সোমবার পথে নামেন লক্ষাধিক পড়ুয়া। সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেন। সেই প্রতিবাদ রুখতে নির্বিচারে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোড়া, মহিলাদের ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার মতো নানা অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবারের পর টানা দু’দিন পথে নেমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন প্রতিবাদীরা। এতো গেল দিল্লির ছবি। কিন্তু ককরোচ বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে গোটা দেশে। মুম্বইতেও নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে পথে নেমেছিলেন সিজেপি প্রতিনিধিরা। প্রায় দেড় হাজার প্রতিবাদী জমা হন শিবাজী পার্কে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই জমায়েত করেছিলেন তাঁরা। গোটা মহারাষ্ট্রজুড়ে শতাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বিশেষত মুম্বই, পুণে এবং নাগপুরে। কর্নাটকেও ছবিটা একইরকম। প্রতিবাদ শুরু হয়েছে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, হরিয়ানাতেও। এহেন পরিস্থিতিতে বুধবারই কেন্দ্র উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা করেছে সব রাজ্যের নিরাপত্ত পরিস্থিতি নিয়ে। দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়লে তা সামাল দেওয়ার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে কিনা, আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তা খতিয়ে দেখেছে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্তরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে। উল্লেখ্য, সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে মাথায় রেখে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে দেশের রাজধানী। দিল্লি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ানকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ারলিফট করে দিল্লি এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।




