Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মমতার নামফলক সরল বিধানসভা থেকে!‌ মহাকরণে তিনতলার কক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর জন্য!

RK NEWZ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। এখন বিধানসভা থেকে মহাকরণ এবং ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড শুভেন্দুময়। এ বার আর বিরোধী দলনেতা নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ শুভেন্দুর। তাঁর বসার ব্যবস্থাও মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘরে। নতুন সরকারের শপথগ্রহণ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর নতুন করে সাজানো। প্রায় চার বছর পর খোলা হয় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। তালা খুলে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সরানো হয়েছে নামফলক। বিধানসভা সূত্রে খবর, ওই ঘরটিতে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সচিবালয়ের কর্মীরা। একে একে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামফলক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোলা হয়। বিধানসভা সূত্রে খবর, সোমবার থেকে বিধানসভায় নির্দিষ্ট ঘরে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর গঙ্গার ও পারে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, বছর দশেকের মধ্যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শেষ হলে আবার সচিবালয় ফিরবে সেখানে। কিন্তু কিছু দিন আগেও দেখা গিয়েছে, সংস্কারের কাজ ৫০ শতাংশও হয়নি। অন্য দিকে, বিজেপি আগেই জানিয়েছিল নবান্ন নয়, তাদের নতুন সরকার কাজ করবে মহাকরণ থেকেই। মহাকরণের তিন তলায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য একটি কক্ষ তৈরির কাজ চলছে। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রধান সচিবালয় নবান্নে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত রাইটার্সের দোতলার ঘরে বসতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। অতীতে ওই ঘরেই বসেছেন জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। জানা যাচ্ছে, মহাকরণের ভিভিআইপি ব্লকের তিন তলার একটি অংশের কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। দোতলার যে ঘরে আগের মুখ্যমন্ত্রীরা বসতেন, তিন তলায় ঠিক তার উপরের ঘরটি তৈরি করা হচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। পূর্ত দফতরের ঠিকাদার কর্মীরা এখন কাজ করে যাচ্ছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার শপথগ্রহণ শেষে মহাকরণে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিন তলার ঘরটিতে ‘প্রতীকী’ ভাবে বসবেন। বার্তা দেবেন, আগামী পাঁচ বছর সেখান থেকেই পরিচালিত হবে রাজ্যের সরকার। তবে সংস্কারের কাজ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর আপাতত বসার ব্যবস্থা হয়েছে বিধানসভায়। সচিবালয় আলাদা করে তৈরি হচ্ছে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য বেশ কিছু জিনিস মাথায় রেখে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ঘরটি রয়েছে, সেখানেই বসবেন শুভেন্দু।

আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে তিনি বরাবর সরব। বার বার আঙুল তুলেছেন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে। এ বার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষিত হতেই শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার জানিয়ে দিলেন, ওই ঘটনায় নতুন করে কমিশন বসানো হবে। শুধু আরজি কর-কাণ্ড নয়, সন্দেশখালি-সহ রাজ্যের যেখানে যেখানে মহিলা নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেমনটা ভোটের আগে এ রাজ্যে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বৈঠক করে শুভেন্দুকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রথম ভাষণে শুভেন্দু বলেন, ‘‘চার্জশিট প্রকাশের দিন শাহ দু’টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাংলার মানুষকে। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর হয়ে যত জায়গায় মা-বোন-কন্যাদের অত্যাচার করা হয়েছে, তা নিয়ে কমিশন বসবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।’’ মার্চে রাজ্যে এসে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছিলেন শাহ। তাকে বিজেপির তরফ থেকে ‘জনতার চার্জশিট’ নাম দেওয়া হয়েছিল। ১৫টি ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করে মমতার ১৫ বছরের রাজত্বকালকে আক্রমণ করা হয় তাতে। সেই ‘চার্জশিটে’ পশ্চিমবঙ্গে মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে আঙুল তোলা হয়েছিল। আরজি কর, সন্দেশখালি, কসবা ল কলেজের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই নিয়ে ব্যবস্থার কথাও বলেছিলেন শাহ। এ বার শাহের সেই প্রতিশ্রুতির কথাই মনে করালেন রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। আরজি কর-কাণ্ডের আবহে শুভেন্দু জাতীয় পতাকা হাতে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘নির্যাতিতার বাবাকে মিছিলে হাঁটতে হবে না। তিনি শুধু এক বার ডাক দিন, যে নবান্ন অভিযান হবে। তার পর বাকিটা আমরা করে নেব।’’ শুভেন্দুদের সেই নবান্ন অভিযান মাঝপথেই আটকে দিয়েছিল পুলিশ। নির্যাতিতার মা চোট পেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। আরজি করের ঘটনায় বিধানসভা চত্বরেও বিক্ষোভ দেখান শুভেন্দু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্যাতিতার মা বিজেপি-তে যোগ দেন। পানিহাটিতে তাঁকে প্রার্থীও করে বিজেপি। সে সময় তিনি বলেন, ‘‘আমি মেয়ের বিচার চাই, নারীদের সুরক্ষা চাই, কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের সুরক্ষা চাই। আমাদের মনে হয়েছে, এখন বিরোধী পক্ষ হিসাবে বিজেপি-ই ক্ষমতায় আসতে পারে। তাই আমরা বিজেপিতেই যোগ দিয়েছি। আমার মনে হয়েছে, আমার মেয়ের জন্য ন্যায় পেতে হলে বিজেপির সঙ্গেই থাকা দরকার।’’ বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শাহ, শুভেন্দু— সকলেই বার বার সেই আরজি করের ঘটনাকেই তুলে ধরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তোপ দাগেন। নির্বাচনে নির্যাতিতার মা জয়ী হন। এ বার শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন, ওই ঘটনা নিয়ে কমিশন বসবে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles