রাজস্থান রয়্যালস: ১৫৫/৯ (বৈভব ৪৬, বরুণ ১৪/৩, কার্তিক ২২/৩)
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৬১/৬ (রিঙ্কু ৫৩*, অনুকূল ২৯*, জাদেজা ৮/২)
৪ উইকেটে জয়ী নাইট রাইডার্স
RK NEWZ দল জিতলেও রান পাননি অজিঙ্ক রাহানে। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। এই ইনিংসের পর লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন কেকেআর অধিনায়ক। অবশেষে সপ্তম ম্যাচে এসে জয়। তাও রীতিমতো ধুঁকতে ধুঁকতে। ঘরের মাঠ ইডেনে রাজস্থানকে হারানোর ম্যাচে সমর্থকদের রক্তচাপ তো বাড়লই। ম্যাচ শেষে নাইট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে স্বীকার করে নিলেন, কোনও মতে বাঁচলেন। লক্ষ্য মাত্র ১৫৬। জয় হতে পারত সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু না, নাইটরা তো সহজ ম্যাচ কঠিন করতে ভালোবাসে। জীবনদান পেয়ে ইডেনে ফিরলেন ‘ভিন্টেজ’ রিঙ্কু। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচকে নিজের প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন। ঠিক সময় কামব্যাক হল বরুণের। শুধু বৈভব নয়, ধ্রুব জুরেল ও রিয়ান পরাগকে ফিরিয়ে রাজস্থানের ব্যাটিংয়ের মাথা মুড়িয়ে দেন বরুণ। আর অনুকূল ১৬ বলে ২৯ রানে অপরাজিত ইনিংসটি না থাকলে হয়তো রিঙ্কুও নাইটদের উদ্ধার করতে পারতেন না। ম্যাচের পর তাঁদের প্রশংসার সঙ্গে রাহানে বলেন, “অবশেষে স্বস্তি পেলাম। আমি রিঙ্কু, অনুকূল ও বরুণের জন্য খুশি। ক্রিকেট খুবই সহজ খেলা। পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়। কার্তিক ত্যাগীও ভালো বল করেছে। এই উইকেটে জেতা কঠিন। আমার মনে হয় স্ট্রাইক রেট নিয়ে একটু বেশিই আলোচনা হয়। এই ধরনের উইকেটে স্ট্রাইক রোটেট করে রান নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের উইকেটে কোনও মতে বেঁচেছি।” সেই সঙ্গে দলের ভুলত্রুটি নিয়েও কথা বলেন নাইট অধিনায়ক। রাহানের বক্তব্য, “শেষ পাঁচটা ম্যাচ খুব খারাপ গিয়েছে। তার মধ্যে শেষ তিনটে ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে ব্যাটিং খুব খারাপ করেছি। ব্যাটিং ইউনিটে আমাদের উন্নতি করতে হবে। সেটা ঠিক করতে হবে। আজকের এই জয়ে ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে নামব।” ব্যাট হাতে ছন্দে নেই অজিঙ্ক রাহানে। রবিবার ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসকে কলকাতা নাইট রাইডার্স হারালেও রান পাননি রাহানে। শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। এই ইনিংসের পর লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন কেকেআর অধিনায়ক। তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন গৌতম গম্ভীরকে। আগের ম্যাচে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন রাহানে। কাগিসো রাবাডার বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছিলেন তিনি। রাজস্থানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বলে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। নান্দ্রে বার্গারের বলে খোঁচা মেরে ফিরেছেন কেকেআর অধিনায়ক।

গম্ভীরের পর রাহানে কেকেআরের দ্বিতীয় অধিনায়ক যিনি পর পর দু’ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। গম্ভীর অবশ্য পর পর তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির গড়েছিলেন। ২০১৪ সালে আইপিএলের প্রথম তিন ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। যদিও সে বার অধিনায়ক হিসাবে কেকেআরকে দ্বিতীয় বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন গম্ভীর। আইপিএলে ওপেনার হিসাবে সবচেয়ে বেশি শূ্ন্যের রেকর্ড গড়েছেন রাহানে। আইপিএলে এই নিয়ে ১২ বার শূন্য রানে আউট হলেন তিনি। ছাপিয়ে গেলেন পার্থিব পটেলকে। ১১ বার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। তিন নম্বরে রয়েছেন শিখর ধাওয়ান ও গম্ভীর। তাঁরা দু’জনেই ১০ বার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। ৯ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির রয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের। সব মিলিয়ে ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বার শূ্ন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড রয়েছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের দখলে। ১৯বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। ১৮ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির রয়েছে সুনীল নারাইন ও দীনেশ কার্তিকের দখলে।





