RK NEWZ গরমের দিনে মাথায় ঘাম জমে গোছা গোছা চুল ওঠে। খুশকির সমস্যাও হয়। সে কারণেও চুল পড়ে। এমনিতেও যাঁদের টাক পড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে, গরমের সময়টাতে তাঁদের ভয় আরও বেশি। যদি টাকে নতুন চুল গজাতে হয়, তা হলে মাখতে হবে তিন বিশেষ রকম তেল যা বানাতে হবে বাড়িতেই। গরমের দিনে চুল পড়ে বেশি। মাথায় ঘাম জমে খুশকি হয়, তালুতে দুর্গন্ধও হয়। অতিরিক্ত ঘাম জমলে চুলের গোড়ায় ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে। ফলে মাথার তালুতে চুলকানি, র্যাশ হয় এবং চুল পড়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। মাথার চুল এমনিতেও পাতলা যাঁদের ও চুল উঠে টাক পড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে, তাঁদের গরমের সময়টাতে বেশি করে চুলের যত্ন নিতে হবে। এ জন্য বাজারচলতি রাসায়নিক মেশানো তেল নয়, ঘরেই তৈরি করে নিতে হবে ভেষজ তেল। তার সহজ পদ্ধতিও আছে। একটি চুলের জীবনচক্রের তিনটি দশা। প্রথম তিন বছর হল অ্যানাজেন দশা। নতুন চুল বেড়ে ওঠার সময়। এর পরে ২-৪ সপ্তাহ স্বল্পস্থায়ী একটি পর্ব চলে যার নাম ক্যাটাজেন। এর পরে ৩-৪ মাসের টেলোজেন দশা শেষ করে চুল পড়ে যায়। আবার নতুন চক্রের চুল এসে শূন্যস্থান পূরণ করে। কিন্তু এই চক্রটি যদি ওলটপালট হয়ে যায়, তখনই গোলমাল বাঁধে। নতুন চুল গজানোর বদলে চুল উঠতে থাকে বেশি। অস্বাভাবিক চুল পড়ার সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে অ্যালোপেসিয়া। অধিকাংশ সময়ে যে টাক পড়া নিয়ে আলোচনা শোনা যায় তা আসলে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া। এক বার টাক পড়া শুরু হলে তা থামানো মুশকিল। সে ক্ষেত্রে এমন উপায়ে পরিচর্যা করতে হবে, যাতে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান পৌঁছয়। সে জন্যই জরুরি ভেষজ কিছু উপকরণ। উপকরণ:
ভেষজ মিশ্র তেল — ২ চামচ নারকেল তেল ১ চামচ ক্যাস্টর অয়েল ১ চামচ কাঠবাদামের তেল ১ চামচ মেথির দানা ৮-১০টি কারি পাতা ১ চামচ কালোজিরে। প্রণালী: কম আঁচে নারকেল তেল ভাল করে ফোটাতে হবে। গরম হলে তাতে কারিপাতা, মেথির দানা ও কালোজিরে মিশিয়ে দিয়ে আরও মিনিট পাঁচেক ফোটান। তেলের রং বদলালে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এ বার তাতে ক্যাস্টর অয়েল ও কাঠবাদামের তেল মিশিয়ে শিশিতে ভরে রাখুন।
আমলকি ও জবার তেল — উপকরণ: ২ চামচ নারকেল তেল। ৪-৫টি শুকনো আমলকি। ৪টি জবা ফুলের পাপড়ি। একমুঠো কারিপাতা ১ চামচ মেথি দানা। প্রণালী: নারকেল তেলে আমলকি ও জবাফুলের পাপড়ি মিশিয়ে কম আঁচে ফোটাতে হবে। তেল গরম হলে তাতে মেথির দানা ও কারিপাতা মিশিয়ে দিয়ে ঢেকে রেখে আরও মিনিট দশেক ফোটান যত ক্ষণ না রং কালচে হচ্ছে। এই তেল চুলের গোড়া পুষ্টি পৌঁছে দেবে, দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হবে। নতুন চুলও গজাবে।
কারিপাতা-ব্রাহ্মীশাকের তেল — উপকরণ: আধ কাপ খাঁটি নারকেল তেল। ১০-১২টি জবা ফুল। ১ কাপ কারিপাতা। আধ কাপ মেহেন্দি পাতা। এককাপ ব্রাহ্মীশাক। ৩টি আমলকি। ২ চামচ মেথিদানা। প্রণালী: ব্রাহ্মীশাক ধুয়ে কুচিয়ে নিতে হবে। আমলকিও ধুয়ে শুকিয়ে কুচিয়ে নিতে হবে। লোহার কড়ায় তেল প্রস্তুত করা গেলে সবচেয়ে ভাল হয়। মাঝারি আঁচে তা তৈরি করতে হবে। নারকেল তেল গরম হলে তাতে দিতে হবে আমলকি কুচি। তার পর একে একে মেথিদানা, কালো তিল। আঁচ কমিয়ে মিনিট দশেক ফুটিয়ে দিতে হবে জবাফুল। ফুল দেওয়ার কিছু পরেই তেলের রং বদলে যাবে। আঁচ বন্ধ করে সেটি ঠান্ডা করে ছেঁকে কাচের শিশিতে ভরে রাখতে হবে।





