RK NEWZ শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। কিন্তু বেলা গড়াতেই অশান্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। ভোট চলাকালীন শুভেন্দুর পোলিং এজেন্ট এবং মণ্ডল প্রেসিডেন্ট বুদ্ধদেব মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওসির অপসারণের দাবি তুললেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী। ইতিমধ্যেই ফোনে ঘটনার কথা সিইও মনোজ আগরওয়ালকে জানিয়েছেন। এদিন সকালে টোটোয় চেপে নিজের কেন্দ্র ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। পরবর্তী জল গড়ায় পুলিশ পর্যন্ত। শুভেন্দুর পোলিং এজেন্ট এবং মণ্ডল সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা করছে। এই গ্রেপ্তারির পরিপ্রেক্ষিতে ওসির অপসারণের দাবি তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টা সিইওকে জানিয়েছি। পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিককে অবিলম্বে সরাতে হবে। আমি কোনও গুন্ডাকে রাস্তায় থাকতে দেব না।” এখানেই শেষ নয়, বিনপুর ও খড়গপুরেও বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে এদিন অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, একাধিক এলাকায় হিন্দু ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই অভিযোগ পাওয়ার পরই ভিডিও কলে ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর আতঙ্ক কাটিয়ে তাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন বলে খবর।
রাজ্যে প্রথম দফার ভোট চলছে। সকাল থেকেই বুথে বুথে ভোটারদের লাইন। নিজের কেন্দ্রেই ভোট দিলেন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। ভোট নিয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে দিলীপ বলেন, “খড়গপুরে মানুষ সকাল থেকেই ভোটের লাইনে। মানুষ ভোট দিচ্ছেন শান্তিপূর্ণভাবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রথম দফায় রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। কোথাও কোনও অশান্তির খবর নেই। নির্বাচন কমিশন ভালো কাজ করছে। কড়া নজরদারি চলছে। বাংলায় এবার পরিবর্তন হবেই।” গত লোকসভায় খড়গপুরে বিজেপি দিলীপ ঘোষকে প্রার্থী করেনি। এবার বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে খড়গপুরে প্রার্থী করে। প্রার্থী হওয়ার পরেই প্রচারে নেমে পড়েন দিলীপ ঘোষ। গোটা বিধানসভা এলাকা চষে প্রচার ও মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে ইডলি-বড়া সহযোগে প্রাতরাশ সারেন তিনি। এরপর সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরে বেরিয়ে পড়েন। এদিন খড়গপুরের সেরোসা স্টেডিয়ামের ২৬৩ নম্বর বুথে ভোট দেন দিলীপ। ভোট দেওয়ার পরে এক মুখ হাসি নিয়ে বাইরে বেরোন দিলীপ। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপাতত আমি বাড়িতেই থাকব। কোথাও সমস্যা হলে, তখন আমি যাব। মনে হয় না বেশি মুভমেন্ট করার দরকার আছে। মানুষ শান্তিতেই ভোট দিচ্ছেন। পরিবেশও ঠিক আছে।” সুষ্ঠুভাবে ভোট করানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি। এবারের ভোটে এসআইআর কতটা প্রভাব ফেলবে? সেই প্রশ্নে দিলীপ জানান, অন্য রাজ্যেও এসআইআর হয়েছে। সেসব জায়গায় কোনও কথা ওঠেনি। বাংলাতেই এসআইআর নিয়ে চর্চা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবার ভোটে হারছে। সেজন্যই এইসব বিষয়কে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছে। বাংলায় এবার পরিবর্তন হবেই। জোর গলায় এই কথা বলেছেন তিনি।

তৃণমূল প্রার্থীকে ‘চোর’ স্লোগান। তৃণমূল প্রার্থীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ। তাঁকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগান দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ। বিক্ষোভ দেখায় শাসক শিবির। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার বাকচা গ্রামপঞ্চায়েতের গোড়ামাহাল ২৩৪ নম্বর বুথে তুমুল উত্তেজনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করেন জওয়ানরা। বিজেপি কর্মীদের দাবি, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছে ময়নার বাকচায়। অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডল এলাকার মানুষদের প্রভাবিত করছে। তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার কথা বলছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। তৃণমূল প্রার্থী নিজেই জানান, সকাল থেকে বাকচা গ্রামপঞ্চায়েতের বিভিন্ন জায়গায় যান। অভিযোগ, “ভোটারদের প্রভাবিত করার কথা শুনি। তা শুনেই ২৩৪ নম্বর বুথে দৌড়ে যাই। যাওয়ামাত্রই লাঠিসোঁটা হাতে আমার কাছে দৌড়ে আসেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। আমাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। চোর, চোর স্লোগান দেয়।”
হুয়ামুনকে চোর স্লোগান। মুর্শিদাবাদের নওদায় হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিক্ষোভ। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকে ঘিরে ওঠে চোর চোর স্লোগান। ওঠে গোব্যাক স্লোগানও। তৃণমূল কর্মীদের দিকে তেড়ে যান হুমায়ুন। জানা গিয়েছে, নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে হুমায়ুনকে ঘিরে গোব্যাক স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। ওই এলাকায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হাবিব শেখের নেতৃত্বে চলছে বিক্ষোভ। হুমায়ুনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলেও স্লোগান তুলছেন অনেকে। হুমায়ুনের গাড়ি ঘিরে রেখে বিক্ষোভ চলছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগে সরব উদয়ন গুহ। দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থীর কথায়, “কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট দিচ্ছে। একজন ভদ্রলোক নাতিকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন। সেই নাতিকে সরিয়ে সেন্ট্রাল ফোর্স নিজে ভোট দিচ্ছে।”
শিলিগুড়িতে আসা এই প্রতিনিধি দলে নামিবিয়া, জর্জিয়া, নেপাল, ফিলিপিন্স, সুইজারল্যান্ড এবং কেনিয়া— এই ছয়টি দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া’ মিলিয়ে মোট ১৩ জন প্রতিনিধি এসেছেন। প্রথমেই শিলিগুড়ি কলেজের ডিসিআরসি সেন্টারে ঢুকে প্রশাসনিক কর্তা ও ভোটকর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনে নেন তাঁরা। জেলার নির্বাচনী আধিকারিকরা ভোট পরিচালনার পূঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেন। ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে এতো বিপুল পরিমাণ পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণ দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান তাঁরা। যদিও এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মুখ খুলতে চাননি বাংলার ভোট দেখতে আসা বিদেশিরা। নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর অপূর্ব কুমার সিং বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ তার গণতন্ত্রের উৎসবের জন্য বিশ্বখ্যাত। এই রাজ্যে নির্বাচনও অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে চলেছে। এই উৎসবের মেজাজ এবং ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করতেই বিদেশের প্রতিনিধিরা এখানে এসেছেন। বৃহস্পতিবারও তারা আসবেন ও সম্পূর্ণ ব্যবস্থা দেখবেন।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিনিধিরা মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার এবং ওয়েবকাস্টিং মনিটরিং সেন্টার পরিদর্শন করবেন। এবার নির্বাচনে (Bengal Election 2026) ১০০ শতাংশ বুথে কীভাবে ওয়েবকাস্টিং-এর মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে, তা হবে তাঁদের অন্যতম মূল আকর্ষণের জায়গা। বৃহস্পতিবার প্রতিনিধিরা সরাসরি বিভিন্ন পোলিং স্টেশনে গিয়ে ভোটদানের প্রক্রিয়াও প্রত্যক্ষ করবেন।” ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে বিদেশের প্রতিনিধিরা যথেষ্ট প্রভাবিত বলে কমিশন সূত্রে খবর। এই সফর বিশ্ব দরবারে ভারতীয় গণতন্ত্রের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





