Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘নজিরবিহীন’ বৈঠক!‌ সর্বোচ্চ কর্তারা নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন

RK NEWZ আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। ঠিক তার মুখেই নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন সব কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তারা। ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতায় বৈঠকে বসলেন দেশের সকল আধাসেনা বাহিনীর প্রধান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র ডিরেক্টর জেনারেলেরা। রাজ্যে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সাম্প্রতিক অতীতে ‘নজিরবিহীন’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন অনেকে। শেষ কবে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে আধাসেনা বাহিনীর ডিজি স্তরে এমন বৈঠক হয়েছিল, তা মনে করতে পারছেন না কেউই। এই বৈঠকের পরেই সল্টলেকে সিআরপিএফ-এর দফতরে একটি যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলন (জয়েন্ট লিডারশিপ সামিট)-ও হয়। আধিকারিক সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি সেখানে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। এই দফায় রাজ্যে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের ঠিক মুখেই নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন সব কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তারা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সিনিয়র আধিকারিকও জানান পিটিআই-কে জানান, “ভোটমুখী কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রধানদের এমন বৈঠক নজিরবিহীন।” তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বিধানসভা ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ডিজিরা এমন যৌথ বৈঠকে বসেননি। গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলি পরিদর্শন করেছেন বাহিনীর কর্তারা। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও ভোট রয়েছে। সেখানে এক দফাতেও নির্বাচন হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীর ওই আধিকারিক জানান, সেখানে এখনও পর্যন্ত সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের এমন কোনও বৈঠক হয়নি।

সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের ওই বৈঠকের বিষয়ে রবিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সিআইএসএফ। তাতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকটির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর এবং পোক্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিশ্চিত করা। সেখানে আরও জানানো হয়, ওই বৈঠকের পর পরই আরও একটি বৈঠক হয়েছে। তাতে আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কমিশন থেকে দায়িত্ব দেওয়া সমন্বয়ক এবং পর্যবেক্ষকেরাও উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয় ওই বৈঠকে। ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন এবং নাশকতা রুখতে তল্লাশির ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সেখানে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রতিটি বাহিনীর লক্ষ্য। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জনের কথায়, ভোটের পবিত্রতা রক্ষা করাই বাহিনীর লক্ষ্য। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মোতায়েন থাকা জওয়ানদের উদ্দেশে আমার বার্তা খুবই স্পষ্ট। আপনারা হলেন গণতন্ত্রের প্রহরী। পৃথক পৃথক ইউনিট হিসাবে নয়, একক নির্বাচন-বাহিনী হিসেবে আপনাদের কাজ করতে হবে, যা হবে সুসংহত, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে পারদর্শী।”

প্রথম দফায় ২ হাজারের বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন! ঘুরবে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রেই। প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২,১৯৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। বিধানসভা নির্বাচনে কোনও অশান্তি বা অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। বার বার এমনই জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই অভিযোগ বা অশান্তি মোকাবিলায় কাজ করবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। প্রথম দফার নির্বাচনে এ ধরনের কত দল ঘুরবে, কোন জেলায় কত দল থাকবে— তার হিসাব দিল কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২,১৯৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। ভোটে কোথাও কোনও অশান্তি হলে তা মোকাবিলার জন্য প্রথমে কিউআরটি পাঠানো হয়। ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর নির্দিষ্ট গাড়ি থাকে। কমিশন জানিয়েছে, প্রতি দলে অন্তত এক জন করে রাজ্য পুলিশের এসআই বা এএসআই পদমর্যাদার পুলিশকর্মী থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন কমপক্ষে চার থেকে ছ’জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। কোনও কোনও ক্ষেত্রে জওয়ানের সংখ্যা বেশি থাকতে পারে।

‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর গাড়িতে অবশ্যই ক্যামেরা থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও, দলের নেতৃত্বের কাছে সংশ্লিষ্ট বুথের নকশা থাকবে। কোথাও বুথ দখল বা কোনও অশান্তির অভিযোগ পেলেই নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে যাবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। নিয়মিত সেক্টর অফিস এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে ।কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফায় সমগ্র উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির ভোটগ্রহণ হয়ে যাবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ। পাশাপাশি জঙ্গলমহলেও প্রথম দফায় নির্বাচন রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদে এই দফাতেই ভোট হবে। অন্য দিকে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানেও এই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। এই ১৬টি জেলায় ভোটের দিন কোথায় কতগুলি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে, তা জানাল কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ২৮৮টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে। তবে মুর্শিদাবাদকে দুই ভাগে ভাগ করে এই দল নিয়োগ করা হবে। প্রথমত, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা— সেখানে থাকবে ২১৯টি দল। আর জঙ্গিপুর পুলিশ জেলয় থাকবে ৬৯টি। তার পরেই রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। সেখানে ২৫৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে। আর পশ্চিম মেদিনীপুরে থাকবে ২৪৮টি। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ বাঁকুড়ায় থাকবে ১৮০টি, বীরভূমে ১৬১টি, মালদহে ১৫৭টি, পুরুলিয়ায় ১৩৯টি, কোচবিহারে ১৩৩টি, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে ১১৩টি। বাকি জেলাগুলিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সংখ্যা ১০০-র নীচে। জলপাইগুড়িতে ৮৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৫টি, আলিপুরদুয়ারে ৭০টি, ঝাড়গ্রামে ৬৬টি, দার্জিলিঙে ৫২টি, শিলিগুড়িতে ৩৯টি এবং কালিম্পঙে ১৭টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ দায়িত্বে থাকবে। উত্তর দিনাজপুর জেলাকেও মুর্শিদাবাদের মতো দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে কমিশন। এক, ইসলামপুর ও দুই, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলা। এই দুই জায়গায় যথাক্রমে ৫৪ এবং ৭৫টি করে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকছে ভোটের দিনে।

শুধু ‘কুইক রেসপন্স টিম’ নয়, ভোটের জন্য কোথায় কত সেক্টর অফিস তৈরি করছে কমিশন, তার হিসাবও দিয়েছে। সাধারণত ৮ থেকে ১০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে একটি সেক্টর অফিস তৈরি হয়। সেই হিসাবে দার্জিলিঙে অফিস হচ্ছে ১২৯টি, শিলিগুড়িতে ৯৫টি, কালিম্পঙে ৫৫টি, জলপাইগুড়িতে ১৮৯টি, আলিপুরদুয়ারে ১৩৫টি, কোচবিহারে ২৪৩টি, ইসলামপুর পুলিশ জেলায় ৯৪টি, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় ১১০টি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৪৬টি, মালদহে ২৬১টি, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ১৪৩টি, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ৩৯৩টি, পূর্ব মেদিনীপুরে ৪৩০টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩৮০টি, ঝাড়গ্রামে ১২৯টি, বাঁকুড়ায় ৩৮০টি, পুরুলিয়া ২৯৭টি, বীরভূমে ২৮৩টি এবং আসানসোল-দূর্গাপুর কমিশনারেটে ২১৫টি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles