Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘সবটা উজাড় করে দিয়েও…’!‌ শামির অবসরের পর ‘বঞ্চনা’ নিয়ে বিস্ফোরক কোচ লক্ষ্মীরতন

RK NEWZ শামির অবসরে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারিও। শামির অবসরে ক্ষোভ গোপন করেননি লক্ষ্মীরতন। টেস্ট ক্রিকেট থেকে মহম্মদ শামির অবসরের সিদ্ধান্তে হতাশ ক্রিকেটমহল। শুক্রবার রাতে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। ৩৬ বছর বয়সি সামির এই সিদ্ধান্তে মন খারাপ অনেকেরই। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ মনে করেন, ধারাবাহিক পারফর্ম করার পরেও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ না পেয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। সেই আক্ষেপই ঝরে পড়ল বাংলা ক্রিকেট দলের কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার কথায়। শামির অবসর নিয়ে হতাশা গোপন করেননি তিনি। লক্ষ্মীর ইচ্ছা ছিল, ভারতীয় টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তনের পরেই লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান শামি। কিন্তু সেই আশা পূরণ হল না। ২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষবার দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছিলেন এই পেসার। তার পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। রনজি ট্রফি থেকে শুরু করে বিজয় হাজারে এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি– সমস্ত প্রতিযোগিতাতেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শামির এই লড়াইয়েই মুগ্ধ বাংলার কোচ। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওয় লক্ষ্মী বলেন, “এত কিছুর পরেও গত দু’বছর ধরে রনজি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে বাংলার হয়ে খেলেছ। নিয়মিত অনুশীলনও চালিয়ে গিয়েছ। তুমি সত্যিই সেরা, শামি। তোমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন। আমরাও চেয়েছিলাম, দেশের হয়ে ফেরার পরেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাও। হয়তো ঈশ্বরের পরিকল্পনা অন্য রকম ছিল।” শামির পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতার কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন লক্ষ্মী। “ও যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছে, তা অবিশ্বাস্য। ভারতের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলে অসংখ্য উইকেট নেওয়ার পরেও ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনও পেসারকে এভাবে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে খুব কমই দেখেছি।” মন্তব্য বঙ্গ কোচের। লাল বলের ক্রিকেটে বাংলার হয়েই শামির পথচলা শুরু। টেস্ট কেরিয়ারের শেষটুকুও সেই বাংলার সঙ্গেই জড়িয়ে রইল। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ দিন খেলার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার জার্সির প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন কোচ। লক্ষ্মীর কথায়, “লাল বলের ক্রিকেটে আমাদের সঙ্গেই তোমার পথচলা শুরু হয়েছিল। টেস্ট কেরিয়ারের শেষটাও হল এমন একটা সময়, যখন বাংলার হয়ে খেলছ। এই দলের জন্য তুমি যা করেছ, তা অসাধারণ। মহম্মদ শামি চিরকালই সকলের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
শামির অবসরে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারিও। নিজের এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “শামির হাতে হয়তো আর লাল বল দেখা যাবে না। কিন্তু ওর বিধ্বংসী বোলিংয়ের স্মৃতি চিরকাল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে অমলিন থাকবে। কিছু কিংবদন্তি কখনও বিদায় হয় না, ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেন। বাংলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক থাকার সময়ে বোলিং আক্রমণে শামিকে পাওয়া ছিল ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতা। ও চিরকাল একজন যোদ্ধা হিসাবেই পরিচিত থাকবে।” ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক হয় শামির। টুপি নম্বর ছিল ২৭৯। তারপর ২০২৩-র বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল পর্যন্ত ভারতের জার্সিতে টেস্ট খেলেছেন। ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেট আছে তাঁর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জায়গা হচ্ছিল না। ফিটনেসের যুক্তিতে বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন। অথচ রনজিতে নিয়মিত উইকেট তুলেছেন। তা সত্ত্বেও জায়গা হয়নি। ফলে অনুমান, ‘বঞ্চনা’ থেকেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles