RK NEWZ এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভের নামে বিরোধীরা যে দেশজুড়ে তাঁদেরই নিশানা করতে চাইছে সেটা বিলক্ষণ বুঝে গিয়েছে বিজেপি। তাই আর কোনও রাখঢাক নয়। রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডি জোটের নিত্যদিনের বিক্ষোভ রুখতে এবার পুরোপুরি ফ্রন্টফুটে মাঠে নেমে পড়ল গেরুয়া শিবির। এসআইআরের স্বপক্ষে প্রচার শুরু করল বিজেপি। আর সেই কাজে তাঁদের হাতিয়ার পুরনো ডিটেক্ট-ডিলিট এবং ডিপোর্ট নীতি। বছর দুই আগে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন। তারপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ডিটেক্ট-ডিলিট এবং ডিপোর্ট অর্থাৎ, চিহ্নিত করণ, মুছে ফেলা এবং বিতাড়ন এই শব্দবন্ধ তৈরি করেন। বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যে ভোটপ্রচারে ওই নীতিকেই প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার করেছে বিজেপি। তাতে সাফল্যও এসেছে। এবার এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভেও সেই একই ছক। বিজেপির সাফ কথা, অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে কোনওরকম আপস নয়। বিরোধীদের এসআইআর বিক্ষোভকে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা হিসাবে দেখা আগেই শুরু করে দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। বিরোধীরা যেমন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন, তেমন শাসক শিবিরও রাস্তায় নামছে। দেশের সব রাজ্যে জেলায় জেলায় গণতন্ত্র বাঁচানোর নামে পদযাত্রা করা হচ্ছে। দিন দুই আগে কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানায় ওই গণতন্ত্র বাঁচাও-অরাজকতা হটাও মিছিল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে দিয়েছেন, ভোটচুরির নামে আন্দোলনের উদ্দেশ্য একটাই। নিজেদের অনুপ্রবেশকারী ভোটব্যাঙ্ককে রক্ষা করা। বিজেপি এখন জেভাবে ফ্রন্টফুটে এগিয়ে খেলছে, সেটা কীভাবে সামলাবেন রাহুল গান্ধীরা? সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ। একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছবির সঙ্গে লেখা তিনটি শব্দই, ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট।’ অর্থাৎ বিজেপির সাফ বার্তা, বিরোধীরা যতই এসআইআরে বৈধ ভোটার বাদ গিয়েছে বলে চেঁচামেচি করুক, বিজেপি ওই বাদ পড়া ভোটারদের অনুপ্রবেশকারী হিসাবেই দেখছে। আর অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে তাঁদের দেশ থেকে তাড়ানোর লক্ষ্যে যে তাঁরা অবিচল সেটাও মনে করিয়ে দিল গেরুয়া শিবির। সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দেওয়া হল, সমালোচনা হলেও নিজেদের ঘোষিত ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি থেকে সরবে না গেরুয়া শিবির।




