RK NEWZ বিরল কর্মসূচি। সংসদ, তবে ঠিক ততটা সংসদ নয়। সরকার পক্ষ থাকল না, রইলেন স্পিকার আর বিরোধীরা। দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’রাখা হয়েছিল। যার জন্য প্রতীকী এই ‘মক পার্লামেন্ট’। যেখানে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার স্পিকারের ভূমিকায়। ‘স্পিকার’ মীরার পরিচালনায় দিল্লি দেখল ‘মক পার্লামেন্ট’, নেই সরকারপক্ষ! প্রতীকী সংসদে জ্ঞানেশকে তুলোধনা বিরোধীদের। ‘মক পার্লামেন্টে’ দাঁড়িয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছেন সিইসি। তিনি শুধু পদ থেকেই অপসারণের যোগ্য নন, তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চালিয়ে বিচার করা উচিত।
দিল্লির ১০ নম্বর রাজাজি মার্গে মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচির শুরুতে সিইসি-র বিরুদ্ধে ছয় দফা অভিযোগের সনদ পাঠ করেন খাড়্গে। যার মধ্যে অন্যতম—
চক্রান্ত করে ভোট চুরি
একলপ্তে ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া
সংসদকে না জানিয়ে ৬ নম্বর ফর্মে পরিবর্তন
‘ইসিআইনেট’ (ECINET) ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা নিজেদের কবজায় নেওয়া
অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে কমিশন চালানো।
খাড়্গে জানান, নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ব্যক্তিগত কোনও আক্রোশ নেই। তবে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা ও নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই এই অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২৩ সালে ১৪৫ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করে সরকার যে আইন পাস করেছিল, তাতেই নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতির সুরক্ষার চেয়েও বেশি। এর পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম ছেঁটে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন। কর্মসূচির মূল নেতৃত্বে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানান, এই প্রতীকী কর্মসূচির কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে একটি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এ শুধু একটা প্রতিবাদ নয়, এটা একটা সতর্কবার্তা (দিস ইজ আ ওয়ার্নিং)।” অনুষ্ঠানে সিইসি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অন্যান্য বিরোধী নেতারাও। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এসআইআর প্রক্রিয়াকে একটি “অপরাধমূলক অপারেশন” বলে কটাক্ষ করেন। অভিযোগ তোলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘নীরব এবং অদৃশ্য কারচুপি’র ছক কষা হয়েছে। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি সিইসি-কে ‘হুকুমের গোলাম’ আখ্যা দিয়ে আসল ষড়যন্ত্রকারীদের সরানোর দাবি জানান। অন্যদিকে, আইসার নেহা বোরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিইসি-কে শুধু অভিশংসন করাই যথেষ্ট নয়, তাঁকে গারদে পাঠানো উচিত। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে বিজেপি। দলের সাংসদ সম্বিত পাত্র কটাক্ষ করে বলেন, “কংগ্রেস সংসদীয় ব্যবস্থার তামাশা তৈরি করছে। প্রকৃতপক্ষে দেশে প্রথম ভোট চুরির সূচনা করেছিলেন জওহরলাল নেহরু।” কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করে সম্বিত জানান, নিখোঁজ ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নিয়ম মেনেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ হওয়া উচিত।





