Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আর সহ্য হচ্ছে না!‌ গোটা বিজেপি সরকার ইস্তফা দিক, কেন্দ্রকে ‘ফাইনাল ওয়ার্নিং’

RK NEWZ মহামিছিল মণিপুরে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত হিংসা ও সংঘাত রুখতে এবার সরাসরি রাজপথে নামল মণিপুরের সাধারণ মানুষ। ইম্ফল-সহ রাজ্যের একাধিক স্থানে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘ফাইনাল ওয়ার্নিং’ বা শেষ বার্তা দিয়ে আয়োজিত হলো ঐতিহাসিক মহামিছিল। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের উপজাতি সম্প্রদায়ের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার—এই অভিযোগ তুলে গোটা রাজ্য সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জাতিগত সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করাই মিছলকারীদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি সংঘাতের জেরে গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হওয়া হাজার হাজার মানুষকে অবিলম্বে তাঁদের নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি তোলা হয়েছে। কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি (কোকোমি)-র প্রাক্তন আহ্বায়ক খুরাইজাম আথৌবা মূলত ৪টি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন:
১. নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তুচ্যুতদের স্বগৃহে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২. ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর বা কাট-অফ ইয়ার ধরে মণিপুরে অবিলম্বে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) চালু করতে হবে।
৩. রাজ্য থেকে অসম রাইফেলসকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
৪. ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান বিজেপি সরকারকে ইস্তফা দিতে হবে।

সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোকোমি-র বর্তমান আহ্বায়ক ওয়াই ধীরেন সাফ জানান, “আমরা বর্তমান সরকারের ইস্তফা চাইছি। কারণ তারা রাজ্যের মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ।” এই মিছিলকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সাধারণ মানুষ আজ জনস্বার্থবিরোধী ও ক্ষতিকর নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের কণ্ঠ সোচ্চার করছেন।

অন্যদিকে, প্রাক্তন আহ্বায়ক আথৌবা গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান যে, মণিপুরের উপজাতিদের বিরুদ্ধে গোপনে একপ্রকার ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালানো হচ্ছে। এর নেপথ্যে যারা সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানোর পাশাপাশি রাজ্য থেকে মাদক-জঙ্গিগোষ্ঠীকে সমূলে উচ্ছেদের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া জাতিগত হিংসার কারণে বিগত প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ তছনছ হয়ে গিয়েছে। ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই এবং পাহাড়ি এলাকার কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা এই রক্তাক্ত সংঘর্ষের ফলে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles