Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জেলবন্দি সুজিত, হকির প্রেসিডেন্টও? যাঁকে সরিয়ে সুজিত প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন,সেই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় হতবাক!‌

RK NEWZ প্রাক্তন মন্ত্রী এখনও শ্রীঘরে, কিন্তু তিনি এখন হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্টও! সর্ষের মধ্যে ভূত— এ তো বহু চলতি প্রবাদ। কিন্তু এ কি হকি বেঙ্গলের বার্ষিক সাধারণ সভায় বা এজিএমে ভূত? এবং সেই ভূত থাকার অভিযোগ উঠেছে জেলবন্দি থাকা অবস্থায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ‘হকি বেঙ্গলে’র সভাপতি নির্বাচন ঘিরে। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন সুজিত। তারপর থেকে এখনও তিনি জেলবন্দি। দুর্গাপুজোর আগে সুজিতের জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সুজিত জেলে যাওয়ার পরে হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কাস্টমসের প্রাক্তন সুপারিনটেন্ডেন্ট নন্দকিশোর রাই। অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর আবার ‘বেআইনি ভাবে’ এজিএম ডেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুজিতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এবং এই এজিএম ডাকার ক্ষেত্রেও একগুচ্ছ নিয়ম ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি ‘রেজিস্ট্রার অফ ফার্মস, সোসাইটিজ় অ্যান্ড নন–ট্রেডিং কর্পোরেশন’–এর কাছে চিঠি দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী, মুখ্যসচিবের নজরেও বিষয়টি আনা হচ্ছে বলে দাবি অভিযোগকারীর। সূত্রের দাবি, ২০২৪–এ হকি বেঙ্গলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সুজিত। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নন্দকিশোরকে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবর একটি এজিএম ডাকা হয়। সেই বৈঠকের মিনিটস থেকে দেখা যাচ্ছে, ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্ন্যান্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ সর্বসম্মতিতে গ্রহণ করা–সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৫ জনের ‘রেগুলারাইজ়ড’ এগজ়িকিউটিভ কমিটির প্রথমেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিতের। অথচ সেই বৈঠকে ছিলেন না নন্দকিশোর, যুগ্ম সচিব সুরভি মিত্রের মতো অনেকেই। নন্দকিশোর বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমিও ওই এজিএমে যোগ দেওয়ার জন্য কোনও নোটিস পাইনি।’ ফলে বৈঠকের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী যে ফের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, সেটাও নাকি অনেকে জানেন না! এগজ়িকিউটিভ কমিটিতে দু’জন ‘অ্যাডাপ্টেড মেম্বার’ নিয়োগও স্পোর্টস কোড মেনে হয়নি বলেও দাবি নন্দকিশোরের। এমনকী, সুজিতের পরিবার বা ঘনিষ্ঠ মহলও এ নিয়ে অন্ধকারে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের দাবি, সুজিত বসু জেলে যাওয়ার পরেও যে তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। কিন্তু তাঁকে হঠাৎ প্রেসিডেন্টের পদে দায়িত্ব দেওয়ার পরে সরানো হলো কেন?

নন্দকিশোর শনিবার বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে জানতে পারি, ‘হকি ইন্ডিয়া’ বাংলায় এই খেলার প্রচার ও প্রসারে যে টাকা বরাদ্দ করেছিল, তা কী ভাবে ব্যবহার হয়েছে, সেটা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে ‘হকি বেঙ্গল’কে। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে একটি ডিজিটাল অডিট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় আমি সংশ্লিষ্ট সব জেলা এবং হকি বেঙ্গলের এগজ়িকিউটিভ কমিটির সদস্যদের কাছে তা জানতে চাই।’ তাঁর দাবি, অধিকাংশই এই বিষয়টি জানেন না। এমনকী দার্জিলিং থেকে শুরু করে কলকাতা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ২০১৮ থেকে হকির প্রচার ও প্রসারে কোথাও প্রায় ৯ লাখ, কোথাও ১০ লাখ টাকা খরচা দেখানো হলেও বাস্তবে সে সব কোনও কাজই হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। নন্দকিশোরের দাবি, বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, তাঁরাও ওই টাকা খরচের বিষয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে। ২০২১–২২য়ে প্রথম উইমেন্স ডিপার্টমেন্টাল ন্যাশনাল হকি টুর্নামেন্টের আয়োজনে তৎকালীন রাজ্য সরকার প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা দিলেও তার অধিকাংশটা নয়ছয় হয়েছে বলেও অভিযোগ নন্দকিশোরের। এমনকী, ‘হকি বেঙ্গলে’র বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল ইস্তিয়াক আলি রেলের আধিকারিক হয়েও নিয়ম ভেঙে এই পদে নির্দিষ্ট মেয়াদের বেশি রয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ‘রেজিস্ট্রার অফ সোসাইটিজ়ে’র কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগপত্রে তাঁর দাবি, মূলত ইস্তিয়াকের হস্তক্ষেপেই বেআইনি ভাবে এজিএম ডেকে সুজিতকে ফের প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হয়েছে। কারণ, নন্দকিশোর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরে বেশ কিছু অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইস্তিয়াক। এ দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ‘হকি বেঙ্গলে’র সেক্রেটারি জেনারেলের পাল্টা দাবি, ‘নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম হয়নি।’ তাঁর যুক্তি, ‘নতুন স্পোর্টস কোড অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮–এ ভোটের মাধ্যমে। তার আগে জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাতে গেলে হয় তাঁকে কোনও অপরাধে আইনি ভাবে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে অথবা তাঁকে আগে নোটিস পাঠাতে হবে। কিন্তু সুজিত বসু বর্তমানে জেলে আছেন বলে নোটিস পাঠানো যায়নি। তা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও প্রমাণিত নয়।’ তা হলে নন্দকিশোরকে কেন ও কী ভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হলো এবং সরানোও হলো? তার সরাসরি জবাব না–দিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন স্পোর্টস কোড অনুযায়ীও কাউকে ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট করতে হলে এজিএম করতে হবে। আবার এজিএম করে তাঁকে ফের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট করা যেতে পারে।’ ১৪ অক্টোবরের এজিএম বেআইনি ভাবে ডাকার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আর নিয়ম ভেঙে তাঁর নিজের এতদিন ধরে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে ইস্তিয়াকের ব্যাখ্যা, ‘স্পোর্টস কোড মেনে কোনও সরকারি কর্মী বা আধিকারিক তিনটি টার্মের জন্য প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি জেনারেলের মতো পদে থাকতে পারেন। তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের এনওসি নিতে হয়। সবটাই আইন মেনে হয়েছে।’

যাঁকে সরিয়ে সুজিত প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, সেই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার এমন অভিযোগ শুনেই আকাশ থেকে পড়েন। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি বিষয়টা জানিই না। তবে এটা যদি (জেলবন্দি বন্দি সুজিতের প্রেসিডেন্ট পদে থাকা) হয়, তা হলে তা নিয়মবহির্ভূত।’ ইস্তিয়াকের পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ‘হকি বেঙ্গলে’র যুগ্ম সচিব সুরভি মিত্রের বক্তব্য, ‘আমি যুগ্ম সচিব পদে থাকা সত্ত্বেও যে হেতু কোনও জেলার প্রতিনিধিত্ব করি না, তাই ওই এজিএমে আমাকে থাকতে দেওয়া হয়নি। গোটা বিষয়টাই বেআইনি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles