Thursday, June 4, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‌ফুটবল বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ ১৬ স্টেডিয়ামে? আমেরিকার ১১টি কানাডার দু’টি এবং মেক্সিকোর তিনটি স্টেডিয়াম

RK NEWZ ৩৬টির পরিবর্তে ৪৮টি দলকে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ফিফা। বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যাও। ৩৯ দিনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব যৌথ ভাবে পেয়েছে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো। মোট ১৬টি স্টেডিয়ামে হবে ১০৪টি ম্যাচ। আমেরিকার ১১টি শহরের ১১টি স্টেডিয়ামে খেলা হবে। কানাডার দু’টি এবং মেক্সিকোর তিনটি স্টেডিয়াম রয়েছে তালিকায়। ডালাস স্টেডিয়াম: স্টেডিয়ামটি আমেরিকায় এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। দর্শকাসনের বিচারে আসন্ন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। একসঙ্গে ৯৪ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারেন। ডালাস কাউবয়েজের ঘরের মাঠ। আমেরিকার ন্যশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) বৃহত্তম স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ন’টি ম্যাচ। এই স্টেডিয়ামেই হয়েছিল কনকাকাফ গোল্ড কাপের ফাইনাল। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল হবে এখানে।

মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম: দর্শকাসনের নিরিখে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম। ৮৩ হাজার মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন। এস্তাদিয়ো আজ়তেকা নামেও পরিচিত এই স্টেডিয়ামটি। ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল এই স্টেডিয়ামে। পেলে এবং দিয়েগো মারাদোনা দু’জনেই এই মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামটি মেক্সিকোর জাতীয় দলের হোম গ্রাউন্ড হিসাবেও পরিচিত।

নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম: ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনাল হয়েছিল সাড়ে ৮২ হাজার দর্শকাসনের এই স্টেডিয়ামে। এনএফএলের দল নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস এবং নিউ ইয়র্ক জেটস দলের ঘরের মাঠ এই স্টেডিয়াম। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামেই হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। মেটলাইফ স্টেডিয়াম নামেও পরিচিতি রয়েছে।

আটলান্টা স্টেডিয়াম: ৭৫ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়ামটি এনএফএল দল আটলান্টা ফ্যালকনস এবং এমএলএস দল আটলান্টা ইউনাইটেড এফসি জর্জিয়ার ঘরের মাঠ। মার্সিডিস-বেনজ় স্টেডিয়াম নামে চেনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রয়োজনে স্টেডিয়ামটির ছাদ বন্ধ করা যায়। ২০১৬ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটি বিভিন্ন খেলার জন্য উপযোগী। বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল হবে এখানে।

কানসাস সিটি স্টেডিয়াম: এনএফএলের দল কানসাস সিটি চিফসের ঘরের মাঠে খেলা দেখতে পারেন ৭৩ হাজার মানুষ। কানসাস সিটি চিফসের সমর্থকদের চিৎকারের জন্য বিখ্যাত স্টেডিয়ামটি। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ স্টেডিয়াম। অ্যারোহেড স্টেডিয়াম নামেও যা পরিচিত। মিসৌরির এই স্টেডিয়াম তৈরি করা হয় ১৯৭২ সালে। ২০১০ সালে আধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে। বেসবলও হয় এই মাঠে।

হিউস্টন স্টেডিয়াম: ২০০২ সালে তৈরি এই স্টেডিয়ামের দর্শক আসন ৭২ হাজার। প্রয়োজন হলে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮২ হাজার পর্যন্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এনএফএলের দল হিউস্টন টেক্সানসের ঘরের মাঠ হিসাবে পরিচিত। আমেরিকার জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম প্রিয় এই স্টেডিয়াম।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম: ২০১৪ সালে উদ্বোধন হয় স্টেডিয়ামটির। তার পর থেকে এটি এনএফএলের দল সান ফ্রান্সিসকো ফোরটিনাইনার্সের ঘরের মাঠ। ৭১ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়ামে ২০১৬ সালে সুপার বোল ৫০ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রয়োজনে আসনের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো যায় বিভিন্ন খেলার জন্য উপযোগী এই স্টেডিয়ামে।

লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়াম: ২০২৬ বিশ্বকাপে জন্যই এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালে শেষ হয় ২০২০ সালে শেষ হয়েছিল। এনএফএলের দল লস অ্যাঞ্জেলস র‍্যামস এবং লস অ্যাঞ্জেলস চার্জার্সের ঘরের মাঠ এটি। ৭০,০০০ দর্শকাসনের এই স্টেডিয়ামে ২০২৮ অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী ও সমাপ্তি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলসের ইঙ্গলউড অঞ্চলে স্টেডিয়ামটি তৈরি করতে খরচ করা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামী স্টেডিয়াম। ইন্ডোর–আউটডোর হাইব্রিড এই স্টেডিয়ামে আছে প্রায় স্বচ্ছ ছাদ, তার পাশের দিক খোলা। ফলে মাঠে বৃষ্টি পড়ে না। তবে বাইরে থেকে হাওয়া ঢুকতে পারে। গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের নজর রয়েছে এই স্টেডিয়ামের দিকে। কাছেই বিমানবন্দর থাকায় মাটির ১০০ ফুট নীচ থেকে স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়েছে।

ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম: ৬৯ হাজার দর্শকাসনের এই স্টেডিয়ামটি লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ড নামেও পরিচিত। এনএফএলের দল ফিলাডেলফিয়া ঈগলসের ঘরের মাঠ উদ্বোধন হয়েছিল ২০০৩ সালে। প্রথম ম্যাচে হয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড এবং বার্সেলোনার মধ্যে। ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য গত বছর নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্টেডিয়ামটি।

সিয়াটল স্টেডিয়াম: ঘোড়ার নালের আকৃতির এই স্টেডিয়ামটিতে ৬৯ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারেন। স্টেডিয়ামের উপরের দিকের আসনগুলিতে বসলে শহরের স্কাই লাইন দেখতে পাওয়া যায়। এমএলএসের দল সিয়াটল সাউন্ডার্স এবং এনএফএলের দল সিয়াটল সিহকসের ঘরের মাঠে কনকাকাফ গোল্ড কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বোস্টন স্টেডিয়াম: ৬৫ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়ামটির আমূল সংস্কার হয়েছে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে। প্রয়োজনে ২০ হাজার আসন বৃদ্ধি করা যায় ২০০২ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটিতে। ২০০৩ সালে মহিলাদের বিশ্বকাপ ফুটবলের কয়েকটি ম্যাচ এখানে হয়েছিল। এনএফএলের দল নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস এবং এমএলএসের দল নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের ঘরের ম্যাচ হিসাবে পরিচিত।

মায়ামি স্টেডিয়াম: হার্ড রক স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। ৬৫ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারেন একসঙ্গে। এনএফএলেপ দল মিয়ামি ডলফিনসের ঘরের মাঠ। টেনিস, বেসবলে মতো খেলার জন্য ব্যবহার করা হয় ১৯৮৭ তৈরি এই স্টেডিয়ামে। এখানে হবে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ।

ভ্যাঙ্কুভার স্টেডিয়াম: ২০১০ সালের শীতকালীন অলিম্পিক্সের প্রধান স্টেডিয়ামেও হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ। দর্শকাসন ৫৪ হাজার। এমএলএসের দল ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস এফসি এবং কানাডিয়ান ফুটবল লিগের বিসি লায়ন্সের ঘরের মাঠ হিসাবেও পরিচিত।

মন্টেরে স্টেডিয়াম: ২০১৫ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটির পোশাকি নাম এস্তাদিও মন্টেরে। মেক্সিকোর নুয়েভো লিয়োনের গুয়াদালুপে অবস্থিত স্টেডিয়ামটির ডাকনাম ‘এল গিগান্তে দে আসেরো’। অর্থাৎ ইস্পাতের দৈত্য। লিগা এমএক্স দল মন্টেরের ঘরের মাঠের দর্শকাসন সাড়ে ৫৩ হাজার।

এস্তাদিও গুয়াদালাহারা: মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যের গুয়াদালাহারার কাছে জাপোপানে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দম ফুটবল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৪৮ হাজার। মেক্সিকোর ক্লাব সিডি গুয়াদালাহারার ঘরের মাঠ।

টরন্টো স্টেডিয়াম: কানাডার ওন্টারিয়োয় অবস্থিত স্টেডিয়ামে ৪৫ হাজার দর্শকাসন রয়েছে। এই মাঠেই কানাডার ফুটবল দল জামাইকাকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর ২০২২ সালের বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।টরন্টো এফসি এবং টরন্টো আর্গোনটসের ঘরের মাঠ। ২০০৭ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটির শেষ বার সংস্কার হয়েছে ২০১৬ সালে।

বিশ্বকাপে নামতে চলেছেন লিয়োনেল মেসি। তবে এটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। আরও এক বার আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্যে নামছেন লিয়ো। এ বারের বিশ্বকাপে পাঁচটি রেকর্ড ভেঙে সেখানে নিজের নাম খোদাই করতে পারেন তিনি।

সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইতিমধ্যেই নিজের দখলে নিয়েছেন মেসি। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সাল মিলিয়ে ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এ বার সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে পারেন তিনি।

পাশাপাশি এ বার নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন মেসি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও গুলেরমো ওচোয়াও এ বার নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নামবেন। এই তিন ফুটবলার ছাড়া আর কেউ ছ’টি বিশ্বকাপে খেলেননি।

সবচেয়ে বেশি গোল
বিশ্বকাপে ১৩টি গোল করেছেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড রয়েছে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের। ১৬টি গোল করেছেন তিনি। আর চারটি গোল করলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হবেন তিনি। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে আর্জেন্টিনার যা প্রতিপক্ষ তাতে গ্রুপ পর্বেই এই রেকর্ড গড়তে পারেন মেসি।

পাঁচ বিশ্বকাপে গোল
২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। একমাত্র ২০১০ সালে কোনও গোল করতে পারেননি তিনি। এ বার যদি মেসি গোল করেন তা হলে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের নজির গড়বেন তিনি। এই নজির খালি রয়েছে রোনাল্ডোর। পাঁচটি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করেছেন তিনি।

মারাদোনাকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট
বিশ্বকাপে আটটি গোল করিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট রয়েছে যুগ্ম ভাবে মেসি ও মারাদোনার দখলে। দু’জনেই আটটি করে গোল করিয়েছেন। এই বিশ্বকাপে আর একটি গোল করালেই মারাদোনাকে ছাপিয়ে যাবেন তিনি। আর দু’টি গোল করালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট তাঁর নামে লেখা থাকবে।

অধিনায়ক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জয়
এখনও পর্যন্ত অধিনায়ক হিসাবে জোড়া ফুটবল বিশ্বকাপ কেউ জিততে পারেননি। মেসি যদি এ বার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন, তা হলে অধিনায়ক হিসাবে একমাত্র তিনিই দু’টি বিশ্বকাপ তুলবেন। যদি এ বার আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠে তা হলে তিনিই হবেন প্রথম অধিনায়ক যিনি বিশ্বকাপে তিন বার দলকে ফাইনালে তুললেন। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। এক বার জিতেছে তারা। এক বার রানার্স হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles