RK NEWZ লিওনেল মেসিকে ঘিরে প্রবল বিশৃঙ্খলায় মুখ পুড়েছিল কলকাতার। গোটা বিশ্বে হইচই পড়ে গিয়েছিল মেসিকাণ্ড ঘিরে। সেই অনুষ্ঠানটা যুবভারতীর বদলে ইডেন গার্ডেন্সে হলে এভাবে বিশৃঙ্খলা হত না, এমনটাই জানিয়েছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, গোটা অনুষ্ঠান তিনি ইডেনেই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিএবির অনুমতি মেলেনি। এহেন মন্তব্য-পালটা মন্তব্যের জেরে ফের বিতর্ক দানা বেঁধেছে মেসি বিশৃঙ্খলা নিয়ে। দিনকয়েক আগে একটি সাক্ষাৎকারে সৌরভ বলেন, ইডেনে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল, আইপিএল সেমিফাইনাল, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ হয়েছে। শতদ্রুকে তিনি অনুরোধ করেছিলেন মেসি ইভেন্ট ইডেনে করার জন্য, এমনটাও দাবি করেন সৌরভ। তিনি আরও বলেন, মেসি আসবে শুনে সিএবি কর্তারা সকলেই উৎফুল্ল ছিলেন। মেসি ইভেন্টের জন্য ইডেন খুলে দিতে সিএবির কোনও আপত্তি ছিল না বলে সাফ জানিয়ে সৌরভ জানান, শেষ পর্যন্ত শতদ্রুর ইচ্ছাতেই মেসি ইভেন্ট যুবভারতীতে আয়োজিত হয়েছিল। ইডেনে মেসিকে ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হত না বলেই নিশ্চিত সৌরভ। কিন্তু মেসি ইভেন্টের উদ্যোক্তা শতদ্রুর কন্ঠে একদম উলটো সুর। তিনি বলেন, মেসি ইভেন্টের জন্য ইডেনই তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল। কিন্তু ২৫ দিন অপেক্ষা করেও সিএবির তরফ থেকে অনুমতি পাননি। যেহেতু ইভেন্টের ভেন্যু চূড়ান্ত না হলে মেসির ভারত সফরটাই বাতিল হয়ে যেতে পারত, তাই আর বেশিদিন অপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান শতদ্রু। তাঁর কথায়, “দাদা মনে হয় ভুলে গিয়েছেন, কিন্তু আমরা ইডেনেই মেসির ইভেন্ট আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। সেই সময় নির্বাচন থাকায় আমাকে অনুমতি দিতে পারেনি সিএবি।” দু’রকম মন্তব্যে প্রশ্ন উঠছে, মেসির ইভেন্ট নিয়ে ঠিক কী হয়েছিল? গত বছর ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে প্রবল বিশৃঙ্খলা হয়। হাজারে হাজারে মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন, রীতিমতো তাণ্ডব চালান স্টেডিয়াম জুড়ে। মেসি, সুয়ারেসদের নিয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তিনি পরে জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর অনুষ্ঠান পণ্ড করা হয়েছিল। পুলিশে অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।

সিএবি-র বর্তমান সভাপতির নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কাটছাঁট করল রাজ্য সরকার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মমতার স্পেন সফরে সঙ্গী ছিলেন সৌরভ। মাদ্রিদের বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, শালবনিতে জিন্দলদের ছেড়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠবে। যা নিয়ে সম্প্রতি কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এই মুহর্তে সৌরভকে কী চোখে দেখছে, ওই কটাক্ষের পিছনে সেই বার্তাই প্রচ্ছন্ন ছিল। নিরাপত্তার বহরে কাটাছাঁট করে যা আরও এক বার পৌঁছে দিল বিজেপি সরকার। গত তিন বছর ধরে ‘জ়েড ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তা পাওয়া ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক তথা সিএবি সভাপতির নিরাপত্তা দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’ করে দেওয়া হল। নিরাপত্তা কমানোর বিষয়টি নিয়ে সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রথম সারির রাজনীতিক এবং শীর্ষ আমলারা বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন— ‘এক্স’, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’। ওয়াই’ এবং ‘জেড’-এর ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ বলে আলাদা একটি ক্যাটেগরি থাকে। সরকারি নির্দেশে শিল্পপতি, তারকা, খেলোয়াড়-সহ বিশিষ্ট নাগরিকেরাও নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। কার জীবনের ঝুঁকি কতটা তা খতিয়ে দেখে ঠিক করা হয় তিনি কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা পাবেন। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তাই পেতেন সৌরভ। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিন জন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেখভাল করতেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন সশস্ত্র। সৌরভের বাড়িতে মোতায়েন থাকতেন আরও বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী। এর পর সৌরভের নিরাপত্তা বাড়িয়ে জ়েড ক্যাটেগরি করে দেয় মমতার সরকার। তখন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বেড়ে হয় ৮ থেকে ১০ জন। বাড়ির নিরাপত্তায় মোতায়েন পুলিশকর্মীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, রাস্তায় বের হলে সৌরভের গাড়ির সামনে থাকত পুলিশের পাইলট কার। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন থাকতেন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন নেতানেত্রী থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেদের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন যে, কারও যদি সত্যি সত্যিই প্রয়োজন না-থাকে তা হলে তাঁকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। তৃণমূল জমানায় এ রাজ্যে সর্বোচ্চ, অর্থাৎ ‘জ়েড প্লাস ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তা পেতেন তিন জন। রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়া, প্রতীচীর জমি নিয়ে বিতর্কের পরে রাজ্যে থাকাকালীন সমান নিরাপত্তা দেওয়া হত অমর্ত্য সেনকে। সৌরভের মতোই ‘জ়েড ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তা পেতেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এত দিন মাছি গলতে না-পারা নিরাপত্তা পেয়ে আসা বিভিন্ন জনের নিরাপত্তার বহর কমতে শুরু করে। মমতার কালীঘাটের বাড়ি এবং অভিষেকের দু’টি বাড়ির সামনে পাহারায় থাকা পুলিশকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার যতটুকু নিরাপত্তা প্রাপ্য ততটুকুই তিনি পাবেন। অভিষেকের ‘জ়ে়ড প্লাস’ নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বলা হয় সাধারণ সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য নিরাপত্তাই দেওয়া হবে তাঁকে। তার পরে একে একে অনেক তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট করে শুভেন্দুর সরকার। সেই তালিকায় এ বার জুড়ল সৌরভের নাম। এই ঘটনার পিছনে সৌরভের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের পারদ ওঠানামার ভূমিকা রয়েছে। ২০২১ সালে সৌরভকে মুখ করেই বিধানসভা ভোটে ঝাঁপাতে চেয়েছিল বিজেপি। সেই অঙ্কেই ২০১৯ সালে তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি করা হয়। যার পিছনে মুখ্য ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। পরের বছর ইজ়েডসিসি-তে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপুজো ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন সৌরভপত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর গ্রুপ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌরভের বেহালার বাড়িতে নৈশভোজে এসেছিলেন শাহ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব অঙ্ক কাঁচিয়ে দিয়ে পিছু হটেন সৌরভ, বিজেপি যাকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলেই মনে করেছিল। তার পরেও সৌরভের জন্য বিজেপির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ২০২৩-এ ত্রিপুরার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করে ‘বার্তা’ দিয়েছিল বিজেপি। সেই বার্তা আরও স্পষ্ট হয়েছিল বিশ্বকাপে ইডেন সেমিফাইনাল-সহ পাঁচ পাঁচটি ম্যাচ পেয়ে যাওয়ায়। সৌরভ অবশ্য বরাবরই দু’কুল রক্ষা করে চলেছেন। বোধগম্য কারণেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন, আবার অমিত শাহের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও চাননি। কিন্তু এই ভারসাম্যের খেলা সহজ নয়।

এদিকে, মেসি কাণ্ডে আরও চাপ বাড়ল অরূপ বিশ্বাসের উপর। মেসি কাণ্ডে হাজিরা এড়াতে মরিয়া রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস! বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে তলব করা হতেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, হাজিরা দেওয়ার জন্য দু’সপ্তাহের সময় চেয়ে নিয়েছেন অরূপ। তাতে আবার ক্ষুব্ধ মেসির ইভেন্টের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপকে ৪ জুন অর্থাৎ আজ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। তবে তার আগে বুধবার রাতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। অরূপ জানান, তিনি অসুস্থ। তাই আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। তারপর সিদ্ধান্ত জানাবেন। বলে রাখা দরকার, এই মেসি বিভ্রাট কাণ্ডে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অরূপ। সেই আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর হাতে কোনও রক্ষাকবচ নেই। এই মামলায় তাঁকে যে কোনও সময় গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। অরূপের এই অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মামলাকারী তথা মেসির গোট ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। সোশাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, ‘সমন আসতেই হঠাৎ অসুস্থতা! কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন—মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা যায়, বিচার থেকে পালানো যায় না। এতদিন সব ঠিক ছিল, সমন আসতেই শরীর খারাপ! কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে, কিন্তু আইনের হাত থেকে পালানোর পথ নয়।”এবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তলব করা হল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে আগামী ৪ জুন তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। যদিও, সরকারিভাবে এই সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘গোট’ কনসার্টের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত।তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখানো, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো ধারা তাতে যুক্ত হয়েছে বলেও খবর। এই আবহে এ বার আগাম জামিন নিতে আদালতে অরূপ বিশ্বাস। আদালতে আগাম জামিনের আবেদন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। সোমবার তিনি বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। মেসি কাণ্ডে অরূপের নামে FIR হতেই আগাম জামিন নিতে মরিয়া অরূপ। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন তিনি? শতদ্রু বলেছিলেন, ‘প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস গা-জোয়ারি করে আমার থেকে কুড়ি-বাইশ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন। পরে আরও প্রায় পাঁচ হাজার জনের মাঠে অ্যাকসেস কার্ড দেওয়ার জন্য আমায় জোর করেন। ওঁর আত্মীয় জুঁই বিশ্বাসও আমাকে পরোক্ষ ভাবে হুমকি দেন তাঁকে মাঠে ঢোকার প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য। আমি তাতে রাজি হইনি। পরে উনি মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ছবি তোলেন মেসির সঙ্গে।’ শতদ্রু আরও জানান, এই ইভেন্টে অরূপের পরিবারের সদস্যদের মেসির সঙ্গে ছবি তোলার কথা ছিল না। মাঠে এত লোক ঢুকে পড়ায় টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মাঠে আসা দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। এ দিন ফেসবুক পোস্টে শতদ্রু লেখেন, ‘যে সকল ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থেকে অনুষ্ঠান, আয়োজক, অংশীদার এবং হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর ক্ষতির কারণ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই আইনি লড়াইয়ের উদ্দেশ্য।’





