RK NEWZ অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংবাদপত্র হিসাবে সিপিএমের দলীয় মুখপত্রকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। এমনকি, এ বিষয়ে সিপিএম আদালতে মামলাও করেছিল। লাভ হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সিপিএমের প্রভাতী মুখপত্র রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন পেল। নরেন্দ্র মোদী, শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সংবলিত বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে ওই সংবাদপত্রের প্রথম পাতাতেই। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ রয়েছে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। তার বিজ্ঞাপন সকালে বিভিন্ন সংবাদপত্রে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। সিপিএমের মুখপত্র দীর্ঘ দিন রাজ্য সরকারের কোনও বিজ্ঞাপন পায়নি। রাজ্যে সরকার বদলের পর আবার সরকারি বিজ্ঞাপন ছাপা হল সেখানে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন পাওয়াকে প্রাথমিক ভাবে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। দলের অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংবাদপত্র হিসাবে সিপিএমের দলীয় মুখপত্রকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। এমনকি, এ বিষয়ে সিপিএম আদালতে মামলাও করেছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ বিজ্ঞাপনের হাত ধরে দলীয় মুখপত্রে রাজ্য সরকারি বিজ্ঞাপন ছাপার ধারা যদি আবার শুরু হয়, তবে তা আর্থিক দিক থেকে কিছুটা লাভজনক হবে বলে আশাবাদী আলিমুদ্দিন। ২০১৪ সালে দলীয় মুখপত্রে রাজ্য সরকারি বিজ্ঞাপন না-পাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে সিপিএম কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রত্যেক সংবাদপত্রের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সমান হওয়া উচিত। কোনও রাজনৈতিক দলের মুখপত্র যদি সংবাদপত্রের আইন মেনে কাজ করে, তবে তাকে সংবাদপত্র হিসাবেই দেখা উচিত। আদালত সেই সময় এই মামলায় নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ দেয়নি। কিন্তু সিপিএমের অভিযোগ, তার পরেও তাদের মুখপত্র রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন পায়নি। তৃণমূল সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম তারা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন পেল। ২০১১ সালে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে সিপিএম ক্রমশ আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়েছে। গত কয়েক বছরে প্রভাতী মুখপত্র-সহ দলের আরও কিছু তাত্ত্বিক মুখপত্র আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই রাজ্য সরকারি বিজ্ঞাপনের ধারাকে আর্থিক ভাবে ইতিবাচক বলে মনে করছেন সিপিএম নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, মতাদর্শগত বা রাজনৈতিক লড়াইয়ে এই ধরনের সরকারি বিজ্ঞাপন কোনও ছেদ ফেলবে না।
এ প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘মমতা সরকারে এসেই স্বৈরাচার দেখানো শুরু করেছিলেন বিজ্ঞাপন বন্ধ করে। লাইব্রেরিতে কোন সংবাদপত্র রাখা হবে, তা নিয়েও নিদান দিয়েছিলেন। সেটাকে গত ১৫ বছরে নিয়মে পরিণত করেছিলেন। আজকের বিজ্ঞাপন কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। এটাই হওয়া উচিত। দেখতে হবে ভবিষ্যতে কী হয়৷’’ তবে বিজেপি সরকারের প্রবণতা এবং বাছবিচার নিয়ে সাবধানি সিপিএম নেতৃত্ব। সেলিম বলেন, ‘‘রেল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারি বিভিন্নসংস্থার বিজ্ঞাপনে বিজেপির বাছবিছার রয়েছে। সেটা যাতে না হয়, দেখতে হবে।’’ সেলিমরা বিজ্ঞাপনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও প্রভাতী মুখপত্রে বিজেপি সরকারের বিজ্ঞাপন ছাপা নিয়ে সিপিএমের একাংশ সমালোচনায় নেমে পড়েছে। অতীতেও এই সংবাদপত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছিল। তাতে মোদী, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণদের ছবি থাকত। তাতেও বিতর্ক হয়েছিল বিস্তর। তবে দলের প্রবীণ নেতাদের বক্তব্য, যাঁরা এই ধরনের মন্তব্য এবং সমালোচনা করছেন, তাঁরা দল আর সরকারের পার্থক্য বোঝেন না।




