ভারতের নতুন স্পিন বোলিং কোচ হচ্ছেন সাইরাজ বাহুতুলে। তিনি এই মুহূর্তে আইপিএলে পঞ্জাব কিংস দলের সঙ্গে যুক্ত। আইপিএল মিটলেই বর্তমান পদ ছেড়ে ভারতীয় দলে যোগ দেবেন। ভারতীয় দলের এক সূত্র ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’কে বলেছেন, “বাহুতুলে দু’বছরের চুক্তিতে ভারতের স্পিন বোলিং কোচ হিসাবে যোগ দিচ্ছেন। ভারতের স্পিনারদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য অভিজ্ঞ স্পিন বোলিং কোচ দরকার ছিল। তাই গৌতম গম্ভীর নিজে এবং বোর্ডের শীর্ষকর্তারা বাহুতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উনি রাজি হয়েছেন।” জুনে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ় দিয়ে কাজ শুরু করতে চলেছেন বাহুতুলে। ২০১৫-য় সিএবি সভাপতি হওয়ার পরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলার কোচ হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন বাহুতুলেকে। এক বার বাংলাকে রঞ্জির সেমিফাইনালে তুলেছিলেন বাহুতুলে। তবে ধারাবাহিক খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে ২০১৯-এ বাংলার কোচ হিসাবে ছাঁটাই হন তিনি। এর পর আইপিএলে রাজস্থান-সহ একাধিক দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। ভারতের হয়ে ১৯৯৭ থেকে ২০০৩-এর মধ্যে দু’টি টেস্ট এবং আটটি এক দিনের ম্যাচ খেলেছেন বাহুতুলে। পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন। ১৮৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ২৬ গড়ে ৬৩০টি উইকেট রয়েছে তাঁর। করেছেন ৬১৭৬ রান। গত কয়েক বছর ধরেই ভারতের বোলিং কোচ এবং স্পিন বোলিং পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন বাহুতুলে। রাহুল দ্রাবিড় এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে অন্তত ১০টি সফরে গিয়েছেন। ২০২৪-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় সাদা বলের সফরে ভারতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচও ছিলেন বাহুতুলে।
আইপিএলের মাঝে ভারতীয় দলের সাজঘরের পরিবেশ নিয়ে হঠাৎ সরব প্রাক্তন ক্রিকেটার অতুল ওয়াসন। তাঁর দাবি, কোচ গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে দলের কয়েক জন ক্রিকেটার অসন্তুষ্ট। ওয়াসনের অভিযোগ, গম্ভীর কাউকে স্বস্তিতে থাকতে দেওয়ার মানুষ নন। গম্ভীরের মতো ওয়াসনও দিল্লির ক্রিকেটার। দেশের হয়ে ৪টি টেস্ট এবং ৯টি এক দিনের ম্যাচ খেলেছিলেন ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯১ সালের জানুয়ারির মধ্যে। গম্ভীর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময় ওয়াসন ছিলেন দিল্লির রঞ্জি দলের অন্যতম নির্বাচক। গম্ভীরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই মুখ খুলেছেন প্রাক্তন জোরে বোলার। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ভারতীয় দলের কোচ গম্ভীর। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর দল প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও সাদা বলের ক্রিকেটে সফল। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। ২০২৬ সালে জিতেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গম্ভীরের সময়ই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। এক দিনের দলের নেতৃত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিতকে। টেস্টে ভারতীয় দলের ব্যাটিং লাইনআপ সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়েছে। ওয়াসন বলেছেন, ‘‘আমি নিশ্চিত দলের সব ক্রিকেটার আনন্দে নেই। অনেককেই দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুমোতে হয়। পছন্দ-অপছন্দের সমস্যা সব ক্ষেত্রেই থাকে। গম্ভীরের মতো কঠিন ব্যক্তিত্বের মানুষের ক্ষেত্রে আরও বেশি থাকে। এই বিষয়টা দলের মধ্যে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে। যতক্ষণ সাফল্য আসে, ততক্ষণ এ সব নিয়ে কথা হয় না। দল ব্যর্থ হলেই নানা রকম সমালোচনা শুরু হয়ে যায়।’’ গম্ভীরের দলে কি এ রকম সমস্যা রয়েছে? ওয়াসন বলেছেন, ‘‘আছে। দু’এক জনের কথা আমি জানি। ওরা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে পারবে না। আমিও নাম বলে ওদের সমস্যায় ফেলতে চাই না। তবে সকলেই জানে, দলে কী চলছে।’’ ওয়াসন আরও বলেছেন, ‘‘দু’চার জনকে সরিয়ে দেওয়ার পরও যদি সাফল্য আসে, তা হলে সকলে সঙ্গে থাকে। এটা দলগত খেলা। কোনও ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত বক্তব্য গুরুত্ব পায় না। সব কিছু করেও কোচ সাফল্য পেলে, তাঁকে ঠিক বলতেই হয়। কোনও ক্রিকেটারের বক্তব্যকে তখন পাত্তা দেওয়া হয় না।’’





