RK NEWZ কাকভোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি শালবনি থানার পুলিশ। তালা ভেঙে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে ঢোকেন পুলিশ আধিকারিকরা। সেই সময় বাইরে বাড়ি ঘিরে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। জানা গিয়েছে, অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শালবনির এক তৃণমূল নেতার অভিযোগ অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় টিকিট দেওয়ার বিনিময়ে টাকা তছরূপ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সুমিতের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে অভিষেকের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়ির ঠিকানার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তার ভিত্তিতে শালবনি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী রাত আড়াইটে নাগাদ ডিএসপির নেতৃত্বে কালীঘাট থানায় পৌঁছয়। সেখানে প্রথমে জিডি করা হয়। এরপর ভোর তিনটে নাগাদ অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশবাহিনী। ছিলেন মহিলা আধিকারিক। কেন্দ্রীয় বাহিনী অভিষেকের বাড়ি ঘিরে ফেলে। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুক্ষণ বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হয়। কারও সাড়াশব্দ না পেয়ে অবশেষে তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে ঢোকে পুলিশ। সকাল সাতটার কিছুটা পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যায় শালবনি থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, এখনও শহর ছাড়েনি শালবনি থানার পুলিশ। সুমিত রায়ের বাড়িতেও নাকি যেতে পারেন তদন্তকারীরা। অভিষেকের দাবি, “তালা ভেঙে ঢুকে গোটা বাড়ি ওরা তল্লাশি করেছে। সব রেকর্ড রয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করেছি।” এদিকে, তল্লাশি অভিযানের খবর পাওয়ামাত্রই গাড়ি চড়ে তড়িঘড়ি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোজা বাড়ির ভিতরে ঢুকে যান। সূত্রের খবর, অভিষেকের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয় তাঁর। কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। যদিও তল্লাশি প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে একটি কথাও বলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সই জাল এবং ডিজে মন্তব্য মামলায় আপাতত জেরবার অভিষেক। দু’টি ঘটনারই তদন্তভার সিআইডি’র কাঁধে। সই জাল মামলায় ভবানীভবনে গত বৃহস্পতিবার হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করা হয়। এই মামলায় আগামী রবিবার ফের হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। আবার শুক্রবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে ডিজে মন্তব্য মামলায় হাজিরার সমন পৌঁছে দেয় সিআইডি। এই মামলায় আগামী ১৬ জুন তলব করা হয়েছে তাঁকে। এর মাঝে ১৫ জুন ইডি দপ্তরে হাজিরার কথা রয়েছে অভিষেকের। তার মাঝে আবার আপ্ত সহায়কের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি শালবনি থানার পুলিশের।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতেই ভোর থেকে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে শালবনি থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, সুমিতের মোবাইলের শেষ ‘টাওয়ার লোকেশন’ ছিল অভিষেকের বাড়িতেই। সেই সূত্র ধরে রাত ৩টে নাগাদ পুলিশ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় পৌঁছে যায়। ডাকাডাকিতে কেউ সাড়া না দিলে ভাঙা হয় বাড়ির বাইরের দরজার তালা। তবে সুমিতের খোঁজ মেলেনি। সকাল ৮টার পর পুলিশ বেরিয়ে যায় অভিষেকের বাড়ি থেকে। জমি দুর্নীতির মামলায় কিছু দিন আগে মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে। অন্য দিকে, আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় সুমিতকে পুলিশ খুঁজছে। সুজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর নাম উঠে আসে বলে খবর। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সুমিতের মোবাইলের ‘টাওয়ার লোকেশন’ শেষ বার দেখা গিয়েছিল অভিষেকের বাড়িতে। তাই শালবনি থেকে রাতেই কালীঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশের একটি দল। পুলিশের অভিযানের কথা শুনে ভোরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিষেকের বাড়িতে। সকাল ৮টার পর তিনিও বেরিয়ে যান। সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেক বাড়ি থেকে বেরিয়ে জানান, তাঁর বাড়ির তালা ভেঙে পুলিশ ভিতরে ঢুকেছিল। গোটা বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি। পুলিশের কার্যকলাপ রেকর্ড করা হয়েছে বলেও অভিষেক দাবি করেন। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে গত বৃহস্পতিবার অভিষেককে ভবানী ভবনে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। রাত সাড়ে ১১টার পর ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে মমতার বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। পরে শুক্রবার ফের সিআইডি যায় তাঁর বাড়িতে। অভিষেকের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সল্টলেকে সাইবার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি নোটিস দিয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে। অভিষেক তখন বাড়িতে ছিলেন না। সিআইডি-কে অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁর জন্য। আগামী ১৬ জুন তাঁকে তলব করা হয়েছে। তার আগে সই-কাণ্ডে ফের অভিষেককে ভবানী ভবনে যেতে বলা হয়েছে ১৪ জুন। অভিষেক জানিয়েছেন, তিনি যাবেন। এ ছাড়া, ১৫ জুন প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অভিষেককে তলব করেছে ইডি। অন্য দিকে, শালবনির জমি দুর্নীতিতে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয়ের বিরুদ্ধে মোট ন’টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়। সাংসদের পাশাপাশি ঘাসফুল শিবিরের বহুদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে দলীয় পদে ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ডামাডোলের মাঝে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লেখাতেই সেই পদ খোয়ালেন তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নেত্রী মালা রায়। শুক্রবার মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে নতুন মুখ আনল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের তরফে রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য চিঠি পাঠিয়েছেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে। তাঁকেই মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্বভার তুলে দিল দল। আলিফার এই নতুন পদপ্রাপ্তির কথা সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন তাঁরই জেলার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নতুন দায়িত্ব পেয়ে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলিফা। ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল একেবারে চরমে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনে রদবদলের পথে হাঁটেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সমস্ত সাংগঠনিক শীর্ষপদেই বদল আনেন। মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ এতদিন সামলেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদে এনে মহিলা সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়কে। যিনি আবার কলকাতা পুরসভারও চেয়ারপার্সন। কিন্তু সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিল্লিতে এনডিএ-কে সমর্থন জানানো সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে দেখা যায় মালা রায়কেও। পদপ্রাপ্তির পরই হঠাৎ তিনি বিক্ষুব্ধদের শিবিরে যোগ দেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের প্রস্তাবপত্রে সই করেন। শুক্রবার তা প্রকাশ্য আসার পরই দলের পদ থেকে মালাকে সরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য তার আগে গত ৮ জুন মালা রায় নিজেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয় কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে। ২০২৪-এ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে আলিফার জয়ের পর ছাব্বিশের ভোটেও তাঁকে প্রার্থী করে ঘাসফুল শিবির। সেই ভরসা রেখে এবারও জিতেছেন আলিফা। তারই পুরস্কার স্বরূপ তাঁকে এবার বড় দায়িত্ব দেওয়া হল। শুক্রবার আলিফা আহমেদকে মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী পদে এনে চিঠি পাঠান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পরে তা সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। নতুন দায়িত্ব পেয়ে আলিফা আহমেদ একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তাতে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ শীর্ষ নেতাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বলেন, ”কালীগঞ্জবাসীকে স্মরণ করে বলতে চাই, এই সাফল্য আপনারা ছাড়া সম্ভব হতো না। এখন আমি কালীগঞ্জের পাশাপাশি গোটা রাজ্যে সমস্ত মা-বোনদের জন্য কাজ করতে পারব। আমাকে এই কাজের যোগ্য বলে মনে করেছে আমার দল, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দায়িত্ব সহকারে নতুন কাজ করব।” সেইসঙ্গে পরোক্ষে দলের ভাঙন নিয়েও আলিফা বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ”দলের এমন কঠিন সময় আসুন, আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি।”





