RK NEWZ নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, দলের দুই রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রী। সরকারের বয়স ৩৫ দিন হলেও ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা জোরদার। শুধু রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরে নয়, রাজ্যের বাইরেও পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার তথা নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নানা পদক্ষেপ বা ঘোষণা নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নিজে কী ভাবছেন? এক মাসে সরকারের সেরা অর্জন কী? মুখ্যমন্ত্রী চিহ্নিত করলেন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। সরকারের কাজের মূল্যায়নের ভার জনতার উপরে ছেড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‘আগামী অর্থবর্ষে বুঝতে পারবেন যে, এই সরকার শুধুমাত্র দল, পতাকা, ব্যক্তি, মুখ, নামের পরিবর্তন ঘটাতে আসেনি, ব্যবস্থা এবং স্বাদেরও পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই মাপকাঠিগুলিতে আগামী অর্থবর্ষের পরে যদি মূল্যায়ন করেন, তা হলে আপনি বুঝতে পারবেন, এই সরকার শুধুমাত্র দল, পতাকা, ব্যক্তি, মুখ, নামের পরিবর্তন ঘটায়নি, ব্যবস্থা এবং স্বাদেরও পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষেই মূলত সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, দলের দুই রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং শশী অগ্নিহোত্রী, সহ-সভানেত্রী তনুজা চক্রবর্তী, মিডিয়া কনভেনর বিমলশঙ্কর নন্দেরা। গত ১২ বছরে মোদী সরকার কত রকমের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে, কোন কোন প্রকল্পে কত মানুষ উপকৃত হয়েছেন, সে সবের বিশদ খতিয়ান মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার না-থাকা সত্ত্বেও গত ১২ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে কত টাকা দিয়েছে এবং ইউপিএ জমানার চেয়ে তা কতটা বেশি, সে হিসাবও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল জমানায় একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে না-দেওয়া, একাধিক প্রকল্পের তহবিল লুট করে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করায় বিভিন্ন খাতে গত এক মাসে কেন্দ্র কত টাকা বরাদ্দ করে দিয়েছে, তা উল্লেখ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তোলেন ‘মনরেগা’ (১০০ দিনের কাজ) প্রকল্পের কথা। সে প্রকল্পের আয়ু আর মাত্র সপ্তাহ তিনেক। তার পরে বিকল্প হিসাবে ‘জিরামজি’ (১২৫ দিনের কাজ) প্রকল্প চালু হবে। কিন্তু এই অল্প সময়ের জন্যও ‘মনরেগা’ খাতে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৭০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। আর ‘জিরামজি’ প্রকল্পে অর্থবর্ষের বাকি সময়টুকুর জন্য ৫,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। গত এক মাসে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনটি বা কোনগুলি বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে মনে করেন? জবাবে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এক মাসে মূল্যায়ন করা খুব মুশকিল। তবে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা (সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য), অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া, জনগণনার কাজ চালু করা, এই ধরনের কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। জনকল্যাণের যে সুযোগ বিজেপি বা এনডিএ পরিচালিত ২১টা রাজ্য পাচ্ছে, আমাদের রাজ্যের মানুষ পাচ্ছেন না, সেই কাজগুলিকে বাস্তবে রূপায়ণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমার নেতৃত্বে পরিচালিত বিজেপি সরকারের মূল্যায়ন এই ৩২-৩৪ দিনে আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আমি এই মূল্যায়নের ভার জনগণের উপরে ছেড়ে দিতে চাই।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘জনগণকেও বলব যে, আমাদেরকে সময় দিতে হবে। যা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করা দরকার, আমরা করেছি। আরও যা যা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করতে হবে, তা-ও করব।’’ এই সরকারের কাজের মূল্যায়ন ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পরে করার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের কাছে এখন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলি কী কী, তা নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।




